সাহেদ গ্রেফতার হওয়ায় সাতক্ষীরায় স্বস্তি

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাহেদ করিমের ভয়াবহ প্রতারণার খবরে বিব্রত ছিলেন তার জেলা সাতক্ষীরার মানুষ। সাহেদের কথা শুনলেই ঘৃণা প্রকাশ করতেন তারা। প্রতিটি মুহূর্ত তারা সাহেদের গ্রেফতার কামনা করছিলেন। বুধবার ভোরে সাহেদ গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এখন তারা সাহেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছেন।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত কুমড়োখালী খাল। এই খালের ওপারে সীমান্ত নদী ইছামতি। ইছামতি পার হলেই ভারতীয় এলাকা। বুধবার ভোর সোয়া পাঁচটায় র‌্যাব সদস্যরা সেখানে পৌঁছে সাহেদকে খালের একটি নৌকায় বসে থাকতে দেখেন। র‌্যাব দেখেই নৌকার মাঝি ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গেলেও প্যান্ট-শার্ট-বোরকা পরা মোটা সাহেদ পানি ও কাদামাটিতে জড়িয়ে যান। পালাতে ব্যর্থ হন। এ সময় তার সঙ্গে র‌্যাব সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয়।

বোরকা পরা সাহেদ, নৌকাটি কার : নিজেকে লোকচক্ষুর আড়াল করার জন্য সাহেদ করিম বোরকা পরে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় এসেছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার সময় তিনি বোরকা আবৃত ছিলেন। আর যে নৌকায় তিনি পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন সেটির মালিক জনৈক বাচ্চুখোঁড়া। ’৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তার একটি পা উড়ে যায়। বাচ্চুখোঁড়া সীমান্তপথে মানুষ পারাপার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুই বছর আগে বাচ্চু মারা গেলে তার ছেলেরা নৌকার মালিক হন।

জোট আমলে হাওয়া ভবনে : চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সাহেদ করিম নিজেকে বিএনপির একনিষ্ঠ নেতা বলে দাবি করতেন। নিয়মিত তার হাওয়া ভবনে যোগাযোগ ছিল। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বিএনপি সরকার বিদায় নিলে ভোল পাল্টে তিনি হয়ে যান আওয়ামী লীগ। বহুরূপী সাহেদ করিম মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে গিয়ে নিজেকে কখনও সেনা কর্মকর্তা, কখনও প্রধানমন্ত্রীর অতি পরিচিতজন এবং কখনও পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিতেন।

সাহেদ করিমের ক’টি বিয়ে : সাহেদ করিম সাতক্ষীরা শহরের আমতলায় একজন ব্যবসায়ীর মেয়েকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পরই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তার আগে তিনি একটি সন্তানসহ অপর এক নারীকে বিয়ে করেন। সে স্ত্রী পরে পরিত্যক্ত হন। বর্তমানে তার এক স্ত্রী রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত