ভোলায় জেলে বেশি দেখিয়ে ৫ গুণ চাল বরাদ্দ
jugantor
ভোলায় জেলে বেশি দেখিয়ে ৫ গুণ চাল বরাদ্দ

  অমিতাভ অপু, ভোলা  

২৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলায় সরকারি প্রণোদনার চাল বরাদ্দের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলার ও জেলের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে ২০ হাজার জেলের স্থানে বরাদ্দ এসেছে এক লাখ ৭ হাজার ৭৭ জনের।

৫৬ কেজি হারে ৫ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণের জন্য চলতি মাসে প্রথম কিস্তি উত্তোলন করেন ৬ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা। ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় প্রণোদনা হিসেবে জেলেপ্রতি ৫৬ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। হিসাব অনুয়ায়ী জেলায় ১২ কোটি টাকার চাল অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণও দেখানো হয়। বুধবার সমুদ্রগামী জেলেদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

জেলেদের অভিযাগ, বেশিরভাগ প্রকৃত জেলে বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে এমন অতিরিক্ত বরাদ্দ ছিল অপ্রত্যাশিত। সব ধরনের জেলের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দেখিয়ে বেশিরভাগই বরাদ্দ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ এ নিয়ে রিপোর্ট না করার অনুরোধও জানান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বিষয়টি সত্য উল্লেখ করে জানান, তড়িঘড়ি করে সমুদ্রে মাছ ধরে এমন জেলেদের তালিকা প্রাথমিকভাবে করা যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যানরা নদীসহ সব স্থানে মাছ ধরে এমন সব জেলের তালিকা পাঠিয়ে দেয়ায় বরাদ্দও আসে ওই ভাবে। তবে এখন প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজাহারুল হকও জানান একই কথা।

দৌলতখান উপজেলায় সাগরে মাছ ধরতে যায় এমন ট্রলারের সংখ্যা ৬৩টি। জেলে ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে চাল পেয়েছেন মাত্র ৩০০ জন। এমনটা জানান সাগরগামী ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. ফয়সাল ও আবদুল মান্নান। ওই উপজেলার ভবানীপুর, সৈয়দপুর, চরখলিফা ইউনিয়নে সাগরগামী জেলে রয়েছেন ৩০০ জন করে। অথচ ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ জন হারে। একই চিত্র মনপুরা উপজেলায়। ট্রলার ৭০টি, জেলে ১ হাজার ৫৪০ জন। ৪টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ১০ হাজার ৮১৫ জনের। উত্তর সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জনের।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানদের তালিকায় ভুল থাকায় সব জেলেকেই সাগরগামী ধরা হয়েছে। লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদিপ্ত মিশ্র জানান, নতুন তালিকায় সমুদ্রগামী ওই এলাকায় ট্রলার ১৫০টি। প্রতিটিতে ২০ জন হারে জেলে ৩ হাজার। বরাদ্দ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩২৮ জনের। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাফুজুর রহমান জানান, ট্রলার আনুমানিক ১০০টি। জেলে ২ হাজার।

বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৩ জনের। চরফ্যাশন উপজেলায় ট্রলার ৪০০টি। জেলে ৮ থেকে ১০ হাজার। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭৪ জনের জন্য। দৌলতখানের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম নবী নবু, ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ মুকু খান, ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন লিটন, লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, তারা যা বরাদ্দ পেয়েছেন সবটাই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। চরফ্যাশন ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ১ হাজার ৫০ জনের। অথচ তার এলাকায় জেলে রয়েছে ৩ হাজার।

ভোলায় জেলে বেশি দেখিয়ে ৫ গুণ চাল বরাদ্দ

 অমিতাভ অপু, ভোলা 
২৩ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জেলায় সরকারি প্রণোদনার চাল বরাদ্দের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলার ও জেলের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে ২০ হাজার জেলের স্থানে বরাদ্দ এসেছে এক লাখ ৭ হাজার ৭৭ জনের।

৫৬ কেজি হারে ৫ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণের জন্য চলতি মাসে প্রথম কিস্তি উত্তোলন করেন ৬ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা। ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় প্রণোদনা হিসেবে জেলেপ্রতি ৫৬ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। হিসাব অনুয়ায়ী জেলায় ১২ কোটি টাকার চাল অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণও দেখানো হয়। বুধবার সমুদ্রগামী জেলেদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

জেলেদের অভিযাগ, বেশিরভাগ প্রকৃত জেলে বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে এমন অতিরিক্ত বরাদ্দ ছিল অপ্রত্যাশিত। সব ধরনের জেলের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দেখিয়ে বেশিরভাগই বরাদ্দ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ এ নিয়ে রিপোর্ট না করার অনুরোধও জানান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বিষয়টি সত্য উল্লেখ করে জানান, তড়িঘড়ি করে সমুদ্রে মাছ ধরে এমন জেলেদের তালিকা প্রাথমিকভাবে করা যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যানরা নদীসহ সব স্থানে মাছ ধরে এমন সব জেলের তালিকা পাঠিয়ে দেয়ায় বরাদ্দও আসে ওই ভাবে। তবে এখন প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজাহারুল হকও জানান একই কথা।

দৌলতখান উপজেলায় সাগরে মাছ ধরতে যায় এমন ট্রলারের সংখ্যা ৬৩টি। জেলে ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে চাল পেয়েছেন মাত্র ৩০০ জন। এমনটা জানান সাগরগামী ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. ফয়সাল ও আবদুল মান্নান। ওই উপজেলার ভবানীপুর, সৈয়দপুর, চরখলিফা ইউনিয়নে সাগরগামী জেলে রয়েছেন ৩০০ জন করে। অথচ ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ জন হারে। একই চিত্র মনপুরা উপজেলায়। ট্রলার ৭০টি, জেলে ১ হাজার ৫৪০ জন। ৪টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ১০ হাজার ৮১৫ জনের। উত্তর সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জনের।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানদের তালিকায় ভুল থাকায় সব জেলেকেই সাগরগামী ধরা হয়েছে। লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদিপ্ত মিশ্র জানান, নতুন তালিকায় সমুদ্রগামী ওই এলাকায় ট্রলার ১৫০টি। প্রতিটিতে ২০ জন হারে জেলে ৩ হাজার। বরাদ্দ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩২৮ জনের। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাফুজুর রহমান জানান, ট্রলার আনুমানিক ১০০টি। জেলে ২ হাজার।

বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৩ জনের। চরফ্যাশন উপজেলায় ট্রলার ৪০০টি। জেলে ৮ থেকে ১০ হাজার। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭৪ জনের জন্য। দৌলতখানের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম নবী নবু, ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ মুকু খান, ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন লিটন, লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, তারা যা বরাদ্দ পেয়েছেন সবটাই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। চরফ্যাশন ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ১ হাজার ৫০ জনের। অথচ তার এলাকায় জেলে রয়েছে ৩ হাজার।