ঢাকার চারপাশে এখনও বানের পানি
jugantor
তিন নদীর পানি বইছে বিপদসীমার ওপরে
ঢাকার চারপাশে এখনও বানের পানি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে ঢাকার নিম্নাঞ্চল ও নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বানের পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে ক্ষত। কুড়িগ্রামে নতুন করে বন্যা শুরু হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ অবস্থা হয়েছে।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলেছে, এ মুহূর্তে তিনটি নদী প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপরে। এগুলো হচ্ছে, গুড়, ধলেশ্বরী ও টঙ্গী খাল। গুড় নদী সবচেয়ে বেশি ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের এলাসিন পয়েন্টে ধলেশ্বরী ২ সেন্টিমিটার এবং ঢাকায় টঙ্গী খাল ৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

উজানে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। তবে এই পানি নতুন করে বন্যা সৃষ্টি করবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা ও আপার মেঘনা অববাহিকার পানি হ্রাস পাচ্ছে। আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এই দুই নদীতে পানি হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুড়িগ্রাম : ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ১০ ও ব্রহ্মপুত্রে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ধরলার পানি বিপদসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অর্ধশত চরের নিচু এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে রোপা আমনসহ কিছু বাড়িঘর। ধরলার ভাঙনে সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় বিকল্প বাঁধের ৪ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে। প্রবল ভাঙন ও পানির তোড়ে টিকতে না পেরে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা। গৃহহীন মানুষ চলে যাচ্ছেন বাঁধ ও উঁচু রাস্তায়। ৪ দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে আরও শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সারডোবের ভাঙন প্রতিরোধে আপাতত বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ৮০০ মিটার অংশ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হবে।

বেনাপোল (যশোর) : যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ত্রুটিপূর্ণ স্লুইসগেটের কারণে ইছামতি নদীর পানিতে প্লাবিত হচ্ছে যশোরের শার্শা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন। দক্ষিণাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। উত্তর শার্শায়ও ঢুকে পড়েছে উজানের পানি। শার্শা উপজেলার পুটখালী, গোগা, উলাশী, বাগআঁচড়া ও কায়বাসহ ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়েছে অনেক পরিবার। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় বন্যায় ৩টি বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গেছে বেকড়া ও সলিমাবাদ পাকা রাস্তার ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ঠাণ্ডু মিয়া, বদরুজ্জামান ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামাল মিয়ার বসতবাড়ি। নোয়াই নদীর শাখা (খাল) গয়হাটা শান্তিনগর হয়ে বেকড়া উল্লিখিত ব্রিজের নিচ দিয়ে মুশুরিয়ার দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

তিন নদীর পানি বইছে বিপদসীমার ওপরে

ঢাকার চারপাশে এখনও বানের পানি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে ঢাকার নিম্নাঞ্চল ও নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বানের পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে ক্ষত। কুড়িগ্রামে নতুন করে বন্যা শুরু হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ অবস্থা হয়েছে।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলেছে, এ মুহূর্তে তিনটি নদী প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপরে। এগুলো হচ্ছে, গুড়, ধলেশ্বরী ও টঙ্গী খাল। গুড় নদী সবচেয়ে বেশি ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের এলাসিন পয়েন্টে ধলেশ্বরী ২ সেন্টিমিটার এবং ঢাকায় টঙ্গী খাল ৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

উজানে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। তবে এই পানি নতুন করে বন্যা সৃষ্টি করবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা ও আপার মেঘনা অববাহিকার পানি হ্রাস পাচ্ছে। আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এই দুই নদীতে পানি হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুড়িগ্রাম : ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ১০ ও ব্রহ্মপুত্রে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ধরলার পানি বিপদসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অর্ধশত চরের নিচু এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে রোপা আমনসহ কিছু বাড়িঘর। ধরলার ভাঙনে সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় বিকল্প বাঁধের ৪ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে। প্রবল ভাঙন ও পানির তোড়ে টিকতে না পেরে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে স্থানীয়রা। গৃহহীন মানুষ চলে যাচ্ছেন বাঁধ ও উঁচু রাস্তায়। ৪ দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে আরও শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সারডোবের ভাঙন প্রতিরোধে আপাতত বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ৮০০ মিটার অংশ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হবে।

বেনাপোল (যশোর) : যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ত্রুটিপূর্ণ স্লুইসগেটের কারণে ইছামতি নদীর পানিতে প্লাবিত হচ্ছে যশোরের শার্শা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন। দক্ষিণাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। উত্তর শার্শায়ও ঢুকে পড়েছে উজানের পানি। শার্শা উপজেলার পুটখালী, গোগা, উলাশী, বাগআঁচড়া ও কায়বাসহ ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়েছে অনেক পরিবার। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় বন্যায় ৩টি বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গেছে বেকড়া ও সলিমাবাদ পাকা রাস্তার ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের ঠাণ্ডু মিয়া, বদরুজ্জামান ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামাল মিয়ার বসতবাড়ি। নোয়াই নদীর শাখা (খাল) গয়হাটা শান্তিনগর হয়ে বেকড়া উল্লিখিত ব্রিজের নিচ দিয়ে মুশুরিয়ার দিকে প্রবাহিত হয়েছে।