থাপ্পড়ের বদলা নিতে ভাগনে ও ভাগনিকে হত্যা
jugantor
আদালতে যুবকের জবানবন্দি
থাপ্পড়ের বদলা নিতে ভাগনে ও ভাগনিকে হত্যা

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  

২৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

থাপ্পড়ের বদলা নিতে বাঞ্ছারামপুরে নিজের ভাগনে ও ভাগনিকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছে মামা বাদল মিয়া (৩৬)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেনের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে বুধবার ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। ওইদিনই বাঞ্ছারামপুর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।

বাঞ্ছারামপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের দালানের দুটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে ২৪ আগস্ট রাতে তার দুই সন্তান শিপা আক্তার (১৪) ও মেহেদী হাসান কামরুলের (১০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিপা বাঞ্ছারামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে এবং কামরুল সলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল মামা বাদল মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার খোদে দাউদপুর গ্রামের মৃত আবদুর রবের ছেলে বাদল বাঞ্ছারামপুরের সাহেবনগরে বোনের বাড়িতে ছিল কিছুদিন।

মার্চে বাহরাইন থেকে দেশে আসে সে। করোনা মহামারীর কারণে আর বিদেশ যেতে পারেনি। এর মধ্যে নিজের এলাকায় গোষ্ঠীগত দাঙ্গায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে সে বাঞ্ছারামপুর বোনের বাড়িতে চলে আসে। বাহরাইন থাকাকালে ৩ বছর আগে দোকান করার জন্য বাদল বোনের স্বামী কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয়। এ থেকে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ায় কামালের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল তার। সপ্তাহ খানেক আগে বাদলকে এজন্য খাপ্পড়ও মারেন কামাল। এই ক্ষোভে ভাগনেকে হত্যা করে সে। ভাগনের লাশ দেখে ফেলায় ভাগনিকেও সে খুন করে। তাদের দু’জনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়।

বাদল পুলিশকে জানায়, ২৪ আগস্ট দুপুরে ভগ্নিপতির বাড়িতে তার থাকার কক্ষে উচ্চৈঃস্বরে গান শুনছিল সে। ওই সময় ভাগনে মেহেদী হাসান কামরুল (১০) তার মায়ের কাছ থেকে মজা খাওয়ার কথা বলে ৫০ টাকা নিয়ে তার রুমে আসে। এরপরই সে তার হাত-পা বেঁধে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। ভাগনি শিফা ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে তা দেখে ফেললে তাকেও মারতে উদ্যত হয় সে। একপর্যায়ে শিফাকে ধাক্কা মেরে বাথরুমে ফেলে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। তার লাশও খাটের নিচে রেখে দেয়। বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদ চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত করছেন।

আদালতে যুবকের জবানবন্দি

থাপ্পড়ের বদলা নিতে ভাগনে ও ভাগনিকে হত্যা

 বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
২৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

থাপ্পড়ের বদলা নিতে বাঞ্ছারামপুরে নিজের ভাগনে ও ভাগনিকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছে মামা বাদল মিয়া (৩৬)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেনের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে বুধবার ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। ওইদিনই বাঞ্ছারামপুর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।

বাঞ্ছারামপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের দালানের দুটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে ২৪ আগস্ট রাতে তার দুই সন্তান শিপা আক্তার (১৪) ও মেহেদী হাসান কামরুলের (১০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিপা বাঞ্ছারামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে এবং কামরুল সলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল মামা বাদল মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার খোদে দাউদপুর গ্রামের মৃত আবদুর রবের ছেলে বাদল বাঞ্ছারামপুরের সাহেবনগরে বোনের বাড়িতে ছিল কিছুদিন।

মার্চে বাহরাইন থেকে দেশে আসে সে। করোনা মহামারীর কারণে আর বিদেশ যেতে পারেনি। এর মধ্যে নিজের এলাকায় গোষ্ঠীগত দাঙ্গায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে সে বাঞ্ছারামপুর বোনের বাড়িতে চলে আসে। বাহরাইন থাকাকালে ৩ বছর আগে দোকান করার জন্য বাদল বোনের স্বামী কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয়। এ থেকে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ায় কামালের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল তার। সপ্তাহ খানেক আগে বাদলকে এজন্য খাপ্পড়ও মারেন কামাল। এই ক্ষোভে ভাগনেকে হত্যা করে সে। ভাগনের লাশ দেখে ফেলায় ভাগনিকেও সে খুন করে। তাদের দু’জনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়।

বাদল পুলিশকে জানায়, ২৪ আগস্ট দুপুরে ভগ্নিপতির বাড়িতে তার থাকার কক্ষে উচ্চৈঃস্বরে গান শুনছিল সে। ওই সময় ভাগনে মেহেদী হাসান কামরুল (১০) তার মায়ের কাছ থেকে মজা খাওয়ার কথা বলে ৫০ টাকা নিয়ে তার রুমে আসে। এরপরই সে তার হাত-পা বেঁধে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। ভাগনি শিফা ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে তা দেখে ফেললে তাকেও মারতে উদ্যত হয় সে। একপর্যায়ে শিফাকে ধাক্কা মেরে বাথরুমে ফেলে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। তার লাশও খাটের নিচে রেখে দেয়। বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদ চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত করছেন।