কক্সবাজার শহরে এক সপ্তাহে ডজন ছিনতাই
jugantor
কক্সবাজার শহরে এক সপ্তাহে ডজন ছিনতাই

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর কক্সবাজার জেলাজুড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন পুলিশ সদস্যরা। যে কারণে প্রতিনিয়িত ঘটছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। এককথায়- জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এক সপ্তাহে ডজনের অধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটন এলাকার প্রতিটি পয়েন্টে ছিনতাই হচ্ছে। এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে অনেকেই লড়ছেন।

জানা যায়, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আটক হন। এরপর অভিযান স্থবির হয়ে পড়ে। জেলার অন্য থানার মতো কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের কার্যক্রমও রয়েছে অনেকটা স্থবির।

ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন সময় টেলিভিশনের কক্সবাজারে স্টাফ রিপোর্টার সুজাউদ্দিন রুবেল। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায়। নিয়ে যায় মোবাইল ফোনসহ টাকা। এ ঘটনায় সাংবাদিক রুবেল বাদী হয়ে মামলা করলেও আটক হয়নি কোনো অপরাধী।

একইভাবে ৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে মাছ ব্যবসায়ী আবদুস ছালামকে পেছন থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে তার কাছে থাকা মাছ বিক্রির প্রায় ৩৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের এন্ডারশন রোড এলাকার অ্যাডভোকেট তমালের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল বাড়ির আলমারি ভেঙে টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিকস পয়েন্টে ছিনতাইয়ের শিকার হন রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন চৌধুরী এবং কক্সবাজারের শেভরন ক্লিনিকের ডা. শুভাশীষ বড়ুয়া শুভ। ছিনতাইকারীরা দুই ডাক্তারকে গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে চারটি মোবাইল ফোন এবং ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। একইভাবে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন বেলাল উদ্দিন নামে এক পর্যটক। ওইসময় ছিনতাইকারীরা নগদ টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। তিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাকে এ পর্যন্ত তিন ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকিম খান বলেন, এক মাস ধরে পর্যটন এলাকায় যে হারে চুরি, ছিনতাই বেড়েছে, তা বর্ণনার ভাষা নেই। শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জাকির বলেন, পুলিশের টহল আগের মতো জোরদার না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে এ এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুম খান বলেন, সম্প্রতি তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে। হয়তো তারা এ ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কক্সবাজার শহরে এক সপ্তাহে ডজন ছিনতাই

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর কক্সবাজার জেলাজুড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন পুলিশ সদস্যরা। যে কারণে প্রতিনিয়িত ঘটছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। এককথায়- জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এক সপ্তাহে ডজনের অধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটন এলাকার প্রতিটি পয়েন্টে ছিনতাই হচ্ছে। এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে অনেকেই লড়ছেন।

জানা যায়, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আটক হন। এরপর অভিযান স্থবির হয়ে পড়ে। জেলার অন্য থানার মতো কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের কার্যক্রমও রয়েছে অনেকটা স্থবির।

ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন সময় টেলিভিশনের কক্সবাজারে স্টাফ রিপোর্টার সুজাউদ্দিন রুবেল। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায়। নিয়ে যায় মোবাইল ফোনসহ টাকা। এ ঘটনায় সাংবাদিক রুবেল বাদী হয়ে মামলা করলেও আটক হয়নি কোনো অপরাধী।

একইভাবে ৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে মাছ ব্যবসায়ী আবদুস ছালামকে পেছন থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে তার কাছে থাকা মাছ বিক্রির প্রায় ৩৩ হাজার টাকা নিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের এন্ডারশন রোড এলাকার অ্যাডভোকেট তমালের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল বাড়ির আলমারি ভেঙে টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ডায়াবেটিকস পয়েন্টে ছিনতাইয়ের শিকার হন রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন চৌধুরী এবং কক্সবাজারের শেভরন ক্লিনিকের ডা. শুভাশীষ বড়ুয়া শুভ। ছিনতাইকারীরা দুই ডাক্তারকে গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে চারটি মোবাইল ফোন এবং ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। একইভাবে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন বেলাল উদ্দিন নামে এক পর্যটক। ওইসময় ছিনতাইকারীরা নগদ টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। তিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাকে এ পর্যন্ত তিন ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকিম খান বলেন, এক মাস ধরে পর্যটন এলাকায় যে হারে চুরি, ছিনতাই বেড়েছে, তা বর্ণনার ভাষা নেই। শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জাকির বলেন, পুলিশের টহল আগের মতো জোরদার না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে এ এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুম খান বলেন, সম্প্রতি তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে। হয়তো তারা এ ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।