অভাব দূর করতে প্রবাসে গিয়ে লাশ হল কিশোরী
jugantor
অভাব দূর করতে প্রবাসে গিয়ে লাশ হল কিশোরী

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভালো বেতনের লোভে সংসারের অভাব দূর করতে কিশোরী উম্মে কুলসুমকে (১৪) সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। বেতনের পরিবর্তে কপালে জোটে মালিকের যৌন নির্যাতন ও মারধর। অবশেষে সেদেশের হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে কুলসুম। অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরল এ কিশোরী। এ ঘটনায় উম্মে কুলসুমের পরিবারে চলছে শোকের আহাজারি।

কুলসুম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। শনিবার দুপুরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে তা স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সরেজমিন জানা যায়, বিদেশ যাওয়ার জন্য গোকর্ণ ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত হাসান খান ও ইউপি সচিব আবেদুর রহমানের সহযোগিতায় ১৯৯৩ সালে ১৩ মার্চ জন্ম তারিখ দেখানো হয়। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী সনদ অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ১৪ বছর।

১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে কিশোরীর বাবা মেয়ের লাশ ও আট মাসের বকেয়া বেতন ফেরত পেতে একটি লিখিত দেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১৭ মাস আগে এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল নং-১১৬৬) মাধ্যমে কুলসুমকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব পাঠানো হয়। সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদানের পর কুলসুমের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে মালিকপক্ষ। নির্যাতনের কারণে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চার মাস আগে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙে দেয়। এর কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৯ আগস্ট কুলসুম মারা যায়।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ওসি আরিচুল হক সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের বিষয় হওয়ায় নাসিরনগর থানা পুলিশের পক্ষে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশনা পাইনি। তাই আপাতত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অভাব দূর করতে প্রবাসে গিয়ে লাশ হল কিশোরী

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভালো বেতনের লোভে সংসারের অভাব দূর করতে কিশোরী উম্মে কুলসুমকে (১৪) সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। বেতনের পরিবর্তে কপালে জোটে মালিকের যৌন নির্যাতন ও মারধর। অবশেষে সেদেশের হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে কুলসুম। অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরল এ কিশোরী। এ ঘটনায় উম্মে কুলসুমের পরিবারে চলছে শোকের আহাজারি।

কুলসুম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। শনিবার দুপুরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে তা স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সরেজমিন জানা যায়, বিদেশ যাওয়ার জন্য গোকর্ণ ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত হাসান খান ও ইউপি সচিব আবেদুর রহমানের সহযোগিতায় ১৯৯৩ সালে ১৩ মার্চ জন্ম তারিখ দেখানো হয়। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী সনদ অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ১৪ বছর।

১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে কিশোরীর বাবা মেয়ের লাশ ও আট মাসের বকেয়া বেতন ফেরত পেতে একটি লিখিত দেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১৭ মাস আগে এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল নং-১১৬৬) মাধ্যমে কুলসুমকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব পাঠানো হয়। সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে যোগদানের পর কুলসুমের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে মালিকপক্ষ। নির্যাতনের কারণে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চার মাস আগে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙে দেয়। এর কিছুদিন পর একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৯ আগস্ট কুলসুম মারা যায়।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ওসি আরিচুল হক সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের বিষয় হওয়ায় নাসিরনগর থানা পুলিশের পক্ষে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশনা পাইনি। তাই আপাতত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।