নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রতারণা অবশেষে গ্রেফতার জেমি
jugantor
নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রতারণা অবশেষে গ্রেফতার জেমি

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কখনও প্রধানমন্ত্রীর কথিত মেয়ে, কখনও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু, কখনও বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয়ে মানুষকে প্রতারিত করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মেয়ে জেমি পারভিন। আর দেশের স্বনামধন্য মানুষদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে তাদের কাছের মানুষ বলে জিম্মি করতেন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও। ফেসবুকে তার নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে কটূক্তিসহ নানা হুমকি দিতেন। তবে, রাজধানীর তেজগাঁও থানার একটি মামলায় ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ তাকে গ্রেফতার করে। এরপরই ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করে।

শাহজাদপুরের তালগাছি এলাকায় এখনও জেমি পারভিন সন্দেশ ওয়ালার মেয়ে নবিয়া নামেই পরিচিত। ছোটবেলায় তালগাছি স্কুলে বাবার সঙ্গে সন্দেশ বিক্রি করতেন নবিয়া। কখনও সখনও গানও করতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নবিয়া হয়ে যান জেমি পারভিন। এর মাঝে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন চারবার। সবশেষ জেমি আস্তানা গাড়েন ঢাকায়। গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। নিজের চাতুরতায় সখ্যতা বাড়ান আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে নিজেই নিজেকে প্রচার করেন আওয়ামী লীগের নারী নেত্রী হিসেবে। নিজেকে অনেক শক্তিশালী ভেবে ফেসবুক ওয়ালে প্রচার করেন স্থানীয় নেতাদের নামে কটূক্তি। কখনও কখনও মেরে ফেলার হুমকিও দিতেন।

জেমির কথামতো না চললে এলাকার সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা মামলায়। মিথ্যা ধর্ষণ মামলাসহ হত্যা চেষ্টা ও অপহরণের মামলা হতো তাদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে মামলা নিষ্পত্তির নামে অভিযুক্তদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন বিপুল পরিমাণ টাকা। সেই টাকায় ঢাকাসহ উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরে গড়ে তুলেছেন অন্তত ৪টি বাড়ি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে থানার কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় গাড়দহ ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বিগত সময়ে স্থানীয়ভাবে জেমিকে নিয়ে বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে, জেমির অধিকাংশ অভিযোগই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। থানায় দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা মামলা বলেও জানান তিনি। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলম জানান, জেমি পারভিনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই চলছে। তবে তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে, জেমির আটকের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার ভুক্তভোগীরা। দ্রুত তার অপকর্মের বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চান ভুক্তভোগীরা।

নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রতারণা অবশেষে গ্রেফতার জেমি

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কখনও প্রধানমন্ত্রীর কথিত মেয়ে, কখনও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু, কখনও বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয়ে মানুষকে প্রতারিত করে আসছিলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মেয়ে জেমি পারভিন। আর দেশের স্বনামধন্য মানুষদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে তাদের কাছের মানুষ বলে জিম্মি করতেন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও। ফেসবুকে তার নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে কটূক্তিসহ নানা হুমকি দিতেন। তবে, রাজধানীর তেজগাঁও থানার একটি মামলায় ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল বিভাগ তাকে গ্রেফতার করে। এরপরই ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করে।

শাহজাদপুরের তালগাছি এলাকায় এখনও জেমি পারভিন সন্দেশ ওয়ালার মেয়ে নবিয়া নামেই পরিচিত। ছোটবেলায় তালগাছি স্কুলে বাবার সঙ্গে সন্দেশ বিক্রি করতেন নবিয়া। কখনও সখনও গানও করতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নবিয়া হয়ে যান জেমি পারভিন। এর মাঝে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন চারবার। সবশেষ জেমি আস্তানা গাড়েন ঢাকায়। গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। নিজের চাতুরতায় সখ্যতা বাড়ান আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে নিজেই নিজেকে প্রচার করেন আওয়ামী লীগের নারী নেত্রী হিসেবে। নিজেকে অনেক শক্তিশালী ভেবে ফেসবুক ওয়ালে প্রচার করেন স্থানীয় নেতাদের নামে কটূক্তি। কখনও কখনও মেরে ফেলার হুমকিও দিতেন।

জেমির কথামতো না চললে এলাকার সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা মামলায়। মিথ্যা ধর্ষণ মামলাসহ হত্যা চেষ্টা ও অপহরণের মামলা হতো তাদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে মামলা নিষ্পত্তির নামে অভিযুক্তদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন বিপুল পরিমাণ টাকা। সেই টাকায় ঢাকাসহ উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরে গড়ে তুলেছেন অন্তত ৪টি বাড়ি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে থানার কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় গাড়দহ ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বিগত সময়ে স্থানীয়ভাবে জেমিকে নিয়ে বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে, জেমির অধিকাংশ অভিযোগই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। থানায় দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা মামলা বলেও জানান তিনি। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলম জানান, জেমি পারভিনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই চলছে। তবে তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে, জেমির আটকের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার ভুক্তভোগীরা। দ্রুত তার অপকর্মের বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চান ভুক্তভোগীরা।