দুইদিন জলমগ্ন রংপুর বাড়ছে দুর্ভোগ ক্ষোভ
jugantor
দুইদিন জলমগ্ন রংপুর বাড়ছে দুর্ভোগ ক্ষোভ

  রংপুর ব্যুরো  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইতিহাসে শতাব্দীর সর্বোচ্চ বৃষ্টির পানিতে দুই দিন ধরে ডুবে আছে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লাসহ জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল। সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় কমেনি পানিবন্দি হাজারও মানুষের দুর্ভোগ।

বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। নগরীর পাণ্ডারদিঘি এলাকায় রংপুর-গঙ্গাচড়া সড়কে পানির তীব্র স্রোতে সড়ক ভেঙে গেছে। এতে নগরীর সঙ্গে গঙ্গচাড়া ও পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুর নগরীর তামপাট এলাকার হোসেন নগর, মেকুড়া, তালুক রঘু, মোগলেরবাগ, দমদমা লক্ষণপাড়া, পানবাড়ি, বনগ্রাম, আশরপুর, ঈদগাহপাড়া, খোর্দ্দ তামপাটসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, দ্বিতীয় দিনেও নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খাবার বিতরণ করেছে। এখনও নগরীর প্রায় ৭০ ভাগ পাড়া-মহল্লার মানুষের জীবনযাত্রা বৃষ্টির পানির কারণে আটকে আছে। চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম জানান, তার বাড়িতেও পানি ঢুকেছে। তারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এলাকার গৃহবধূ শাহনাজ বেগম ও নার্গিস সুলতানা জানান, দুইদিন ধরে বাড়িতে রান্না হচ্ছে না। ৩২নং ওয়ার্ডের মোগলেরবাগ ও লক্ষণপাড়া গ্রামের সাজু আহমেদ, আলামিনসহ বেশ কয়েকজন জানান, এমন বৃষ্টি জীবনেও দেখেননি তারা। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নারী কাউন্সিলর নাজমুন নাহার নাজমা জানান, সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নেয়া অব্যাহত রয়েছে। নগরীর বেশকিছু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষ। বাড়ি ফিরে নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি শুকিয়ে নিচ্ছেন তারা। কেউ কেউ ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পেরে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। তবে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের বেশির ভাগ পুকুর ও খালবিল উপচে পড়েছে। এতে মৎস্যচাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও পানিতে তলিয়ে আছে বিভিন্ন এলাকার শাকসবজির ক্ষেতসহ ফসলি জমি। কোথাও কোথাও পানির তোড়ে ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট। রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতাসহ যে কোনো পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম শ্যামাসুন্দরী ক্যানেলে এখনও পানিতে টইটম্বুর। নিচু এলাকাগুলোয় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক দুর্ভোগ। বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের ক্ষোভ।

শ্যামাসুন্দরী ক্যানেলের সঙ্গে সংযোগ ঘাঘট নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নগরীতে পানি জমে আছে। তাদের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন যদি নগরীর নির্মাণাধীন ড্রেনগুলো ঠিকভাবে পরিকল্পনা মতো নির্মাণ করা হলে ভারি বর্ষণে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। এমন জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে নগরীর শ্যামাসুন্দরী ক্যানেল নির্বিচারে ভরাট হয়ে যাওয়ায় খননের নামে দুর্নীতি, দূষণ ও দখল হওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবর্জনায় ভরে গেছে এসব ড্রেনেজ। ফলে পানি নেমে যেতে পারছে না।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নগরবাসীকে দোষারোপ করে সাংবাদিকদের বলেন, মানুষজন অসচেতন হয়ে ড্রেনে, খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানি যেতে পারছে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছি। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রংপুর নগরীসহ আশপাশের এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টায় ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা রংপুরের ইতিহাসে শতাব্দীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

দুইদিন জলমগ্ন রংপুর বাড়ছে দুর্ভোগ ক্ষোভ

 রংপুর ব্যুরো 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইতিহাসে শতাব্দীর সর্বোচ্চ বৃষ্টির পানিতে দুই দিন ধরে ডুবে আছে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লাসহ জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল। সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় কমেনি পানিবন্দি হাজারও মানুষের দুর্ভোগ।

বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। নগরীর পাণ্ডারদিঘি এলাকায় রংপুর-গঙ্গাচড়া সড়কে পানির তীব্র স্রোতে সড়ক ভেঙে গেছে। এতে নগরীর সঙ্গে গঙ্গচাড়া ও পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুর নগরীর তামপাট এলাকার হোসেন নগর, মেকুড়া, তালুক রঘু, মোগলেরবাগ, দমদমা লক্ষণপাড়া, পানবাড়ি, বনগ্রাম, আশরপুর, ঈদগাহপাড়া, খোর্দ্দ তামপাটসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, দ্বিতীয় দিনেও নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খাবার বিতরণ করেছে। এখনও নগরীর প্রায় ৭০ ভাগ পাড়া-মহল্লার মানুষের জীবনযাত্রা বৃষ্টির পানির কারণে আটকে আছে। চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম জানান, তার বাড়িতেও পানি ঢুকেছে। তারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এলাকার গৃহবধূ শাহনাজ বেগম ও নার্গিস সুলতানা জানান, দুইদিন ধরে বাড়িতে রান্না হচ্ছে না। ৩২নং ওয়ার্ডের মোগলেরবাগ ও লক্ষণপাড়া গ্রামের সাজু আহমেদ, আলামিনসহ বেশ কয়েকজন জানান, এমন বৃষ্টি জীবনেও দেখেননি তারা। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নারী কাউন্সিলর নাজমুন নাহার নাজমা জানান, সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নেয়া অব্যাহত রয়েছে। নগরীর বেশকিছু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষ। বাড়ি ফিরে নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি শুকিয়ে নিচ্ছেন তারা। কেউ কেউ ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পেরে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। তবে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের বেশির ভাগ পুকুর ও খালবিল উপচে পড়েছে। এতে মৎস্যচাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও পানিতে তলিয়ে আছে বিভিন্ন এলাকার শাকসবজির ক্ষেতসহ ফসলি জমি। কোথাও কোথাও পানির তোড়ে ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট। রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতাসহ যে কোনো পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম শ্যামাসুন্দরী ক্যানেলে এখনও পানিতে টইটম্বুর। নিচু এলাকাগুলোয় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক দুর্ভোগ। বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের ক্ষোভ।

শ্যামাসুন্দরী ক্যানেলের সঙ্গে সংযোগ ঘাঘট নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নগরীতে পানি জমে আছে। তাদের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন যদি নগরীর নির্মাণাধীন ড্রেনগুলো ঠিকভাবে পরিকল্পনা মতো নির্মাণ করা হলে ভারি বর্ষণে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। এমন জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে নগরীর শ্যামাসুন্দরী ক্যানেল নির্বিচারে ভরাট হয়ে যাওয়ায় খননের নামে দুর্নীতি, দূষণ ও দখল হওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবর্জনায় ভরে গেছে এসব ড্রেনেজ। ফলে পানি নেমে যেতে পারছে না।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নগরবাসীকে দোষারোপ করে সাংবাদিকদের বলেন, মানুষজন অসচেতন হয়ে ড্রেনে, খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানি যেতে পারছে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছি। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রংপুর নগরীসহ আশপাশের এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টায় ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা রংপুরের ইতিহাসে শতাব্দীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।