১৯ বছর বিকল এক্স-রে মেশিন, ৭ বছর বন্ধ ইসিজি
jugantor
১৯ বছর বিকল এক্স-রে মেশিন, ৭ বছর বন্ধ ইসিজি

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য সেবা।

এ উপজেলার ৫ লাখেরও বেশি জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল সংকটের অভাবে একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর সঠিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। অনেক বছর ধরে এ হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য পড়ে আছে। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহালের সুযোগে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৯ বছর ধরে এ হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া একই সমস্যার কারণে নতুন ইসিজি মেশিনও চলছে না সাত বছর ধরে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, লোকবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অসংখ্যবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়া বেশ কয়েক বছর আগে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন স্থাপন করা হলেও লোকবলের অভাবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ করা হয়। ওই সময় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে একটি হাসপাতাল ভবন ও কয়েকটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই সময়েও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি চালু করা যায়নি লোকবলসহ নানান সমস্যার কারণে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সংকট হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের। তাই রোগীদের সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।

এখানে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুল ইসলাম, আয়েশা আক্তার, কাদির মিয়াসহ অন্তত ১০ জন রোগী জানান, রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে পাশেই বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে গিয়ে এসব পরীক্ষা করাতে হয়। আর এ সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ওই ক্লিনিক ব্যবসায়ীসহ ও দালালরা। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলেন, আমাদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মতো সব যন্ত্রাংশই আছে কিন্তু এগুলো অপারেট করার মতো টেকনিশিয়ান নেই। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জনবল সংকট।

বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেশির ভাগ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য হয়ে পড়ে আছে। তবে এত সংকটের পরও আমরা কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবেই লোকবল নিয়োগ বন্ধ। যার কারণে এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আমরা কিছুদিন আগেও কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে লোকবল নিয়োগের জন্য বলেছি। কেন্দ্রীয়ভাবে লোকবল নিয়োগ হয়ে গেলে সারা দেশের সঙ্গে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও জনবল সংকটের সমস্যা সমাধান হবে বলে জানান তিনি।

১৯ বছর বিকল এক্স-রে মেশিন, ৭ বছর বন্ধ ইসিজি

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য সেবা।

এ উপজেলার ৫ লাখেরও বেশি জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল সংকটের অভাবে একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠীর সঠিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। অনেক বছর ধরে এ হাসপাতালে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য পড়ে আছে। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহালের সুযোগে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৯ বছর ধরে এ হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া একই সমস্যার কারণে নতুন ইসিজি মেশিনও চলছে না সাত বছর ধরে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, লোকবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অসংখ্যবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়া বেশ কয়েক বছর আগে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন স্থাপন করা হলেও লোকবলের অভাবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ করা হয়। ওই সময় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে একটি হাসপাতাল ভবন ও কয়েকটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই সময়েও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি চালু করা যায়নি লোকবলসহ নানান সমস্যার কারণে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ বছরের পর বছর ধরে শূন্য রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সংকট হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের। তাই রোগীদের সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।

এখানে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুল ইসলাম, আয়েশা আক্তার, কাদির মিয়াসহ অন্তত ১০ জন রোগী জানান, রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে পাশেই বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে গিয়ে এসব পরীক্ষা করাতে হয়। আর এ সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় ওই ক্লিনিক ব্যবসায়ীসহ ও দালালরা। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলেন, আমাদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মতো সব যন্ত্রাংশই আছে কিন্তু এগুলো অপারেট করার মতো টেকনিশিয়ান নেই। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জনবল সংকট।

বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেশির ভাগ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য হয়ে পড়ে আছে। তবে এত সংকটের পরও আমরা কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবেই লোকবল নিয়োগ বন্ধ। যার কারণে এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আমরা কিছুদিন আগেও কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে লোকবল নিয়োগের জন্য বলেছি। কেন্দ্রীয়ভাবে লোকবল নিয়োগ হয়ে গেলে সারা দেশের সঙ্গে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও জনবল সংকটের সমস্যা সমাধান হবে বলে জানান তিনি।