হাফেজ তৌহিদ হত্যার আশঙ্কা আগেই করেন
jugantor
ভিডিও ভাইরাল
হাফেজ তৌহিদ হত্যার আশঙ্কা আগেই করেন

  লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোহাগাড়ার হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম আত্মহত্যা করেননি। তাকে রুমে বেঁধে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক শিশু বলাৎকারের অভিযোগে রুমের মধ্যে বেঁধে তাকে মারধর করে। এলোপাতাড়ি মারধরে তৌহিদ মারা যায়। পরে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

মৃত্যুর আগে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম রাতে ঘুমানোর মধ্যে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন। এতে স্বজনদের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আল-কোরআনুল হাকীম আদর্শ হেফজখানার শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলামের (২২) ঝুলন্ত লাশ ২১ অক্টোবর সকালে বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে ইলিয়াস বিল্ডিং থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও বার্তায় হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম ঘুমের মধ্যে তাকে মেরেও ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করেন। তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। শেষ বিদায়। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার আব্বা আম্মার জন্য দোয়া করবেন। আহারে! ছাত্রলীগ। এদেরকে আপনারা দেখবেন। এ নাস্তিকগুলো হুজুরদের টুপিকে দেখতে পারে না। এরা এখানে আসছিল জুতা নিয়ে। কতক্ষণ ধরে আমাদের দু’জনকে বন্দি করে রেখেছে। হুজুর ওখানে ঘুমাচ্ছে, আমি এখানে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। শেষ বিদায়। ওরা কিছুক্ষণ পরপর দরজায় বারি (ধাক্কা) দেয় আমাদের পেটানোর জন্য। আমরা দু’জন এখানে আটকে আছি। আমাদের বেঁধে রাখছে। আপনারা একটু দেখবেন। হয়তো রাতে ঘুমানোর মধ্যে মেরেও ফেলতে পারে।’

ওই হেফজখানার শিক্ষক মো. ইসমাঈল বলেন, ঘটনার দিন রাত ১০টায় বলাৎকারের অভিযোগ এনে তৌহিদকে স্থানীয় ১০-১২ জন যুবক অপমান ও মারধর করে।

তৌহিদের বাবা শামসুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে তৌহিদ আত্মহত্যা করেনি। তাকে আরিফের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি হইচই শুনে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু বলাৎকার সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় তৎক্ষণাৎ চলে আসি। তৌহিদকে মারধরের ব্যাপারে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর হত্যা না আত্মহত্যা জানা যাবে। এ ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা রুজু করা হয়েছে।

ভিডিও ভাইরাল

হাফেজ তৌহিদ হত্যার আশঙ্কা আগেই করেন

 লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোহাগাড়ার হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম আত্মহত্যা করেননি। তাকে রুমে বেঁধে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক শিশু বলাৎকারের অভিযোগে রুমের মধ্যে বেঁধে তাকে মারধর করে। এলোপাতাড়ি মারধরে তৌহিদ মারা যায়। পরে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

মৃত্যুর আগে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম রাতে ঘুমানোর মধ্যে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন। এতে স্বজনদের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আল-কোরআনুল হাকীম আদর্শ হেফজখানার শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলামের (২২) ঝুলন্ত লাশ ২১ অক্টোবর সকালে বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে ইলিয়াস বিল্ডিং থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও বার্তায় হাফেজ তৌহিদুল ইসলাম ঘুমের মধ্যে তাকে মেরেও ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করেন। তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। শেষ বিদায়। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার আব্বা আম্মার জন্য দোয়া করবেন। আহারে! ছাত্রলীগ। এদেরকে আপনারা দেখবেন। এ নাস্তিকগুলো হুজুরদের টুপিকে দেখতে পারে না। এরা এখানে আসছিল জুতা নিয়ে। কতক্ষণ ধরে আমাদের দু’জনকে বন্দি করে রেখেছে। হুজুর ওখানে ঘুমাচ্ছে, আমি এখানে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। শেষ বিদায়। ওরা কিছুক্ষণ পরপর দরজায় বারি (ধাক্কা) দেয় আমাদের পেটানোর জন্য। আমরা দু’জন এখানে আটকে আছি। আমাদের বেঁধে রাখছে। আপনারা একটু দেখবেন। হয়তো রাতে ঘুমানোর মধ্যে মেরেও ফেলতে পারে।’

ওই হেফজখানার শিক্ষক মো. ইসমাঈল বলেন, ঘটনার দিন রাত ১০টায় বলাৎকারের অভিযোগ এনে তৌহিদকে স্থানীয় ১০-১২ জন যুবক অপমান ও মারধর করে।

তৌহিদের বাবা শামসুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে তৌহিদ আত্মহত্যা করেনি। তাকে আরিফের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি হইচই শুনে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু বলাৎকার সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় তৎক্ষণাৎ চলে আসি। তৌহিদকে মারধরের ব্যাপারে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর হত্যা না আত্মহত্যা জানা যাবে। এ ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা রুজু করা হয়েছে।