তিন মামলা, গ্রেফতার ৬ তদন্ত কমিটি
jugantor
লালমনিরহাটে গুজব ছড়িয়ে হত্যা
তিন মামলা, গ্রেফতার ৬ তদন্ত কমিটি

  যুগান্তর রিপোর্ট, রংপুর ব্যুরো ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি  

০১ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে ‘কোরআন অবমাননা’র গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে।

নিহতের পরিবার, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে এ মামলা ৩টি করে। গুজবের শিকার জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আবু ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবারের নৃশংস ও বর্বরোচিত এ ঘটনায় শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হুসেন আলী, আশরাফ আলী, আরিফ হোসেন, বায়েজিদ হোসেন ও শরিফ হোসেন। একজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওহাব ভূঁইয়া ও রংপুর পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

পাটগ্রামের শহীদ আফজাল হোসেন মিলনায়তনে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। ঘটনায় জড়িতরা ছাড় পাবে না বলেও জানিয়েছেন এ দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় আহত সুলতান জুবায়েত আব্বাসকে পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন সংস্থাও মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করেছে।

গুজব ছড়িয়ে হত্যার নিন্দা : জুয়েল হত্যার ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সিপিবির (এম) সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ সামাদ।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিপিবির (এম) উদ্যোগে গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডা. সামাদ বলেন, ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গণপিটুনিতে দেশে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

যেগুলোর কোনোটায় ছেলেধরা বা ডাকাত সন্দেহে, আবার কোনোটায় সামান্য চোর সন্দেহেও পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এখনই এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

লালমনিরহাটে গুজব ছড়িয়ে হত্যা

তিন মামলা, গ্রেফতার ৬ তদন্ত কমিটি

 যুগান্তর রিপোর্ট, রংপুর ব্যুরো ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
০১ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে ‘কোরআন অবমাননা’র গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে।

নিহতের পরিবার, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে এ মামলা ৩টি করে। গুজবের শিকার জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আবু ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবারের নৃশংস ও বর্বরোচিত এ ঘটনায় শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হুসেন আলী, আশরাফ আলী, আরিফ হোসেন, বায়েজিদ হোসেন ও শরিফ হোসেন। একজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওহাব ভূঁইয়া ও রংপুর পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

পাটগ্রামের শহীদ আফজাল হোসেন মিলনায়তনে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। ঘটনায় জড়িতরা ছাড় পাবে না বলেও জানিয়েছেন এ দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় আহত সুলতান জুবায়েত আব্বাসকে পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন সংস্থাও মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করেছে। 

গুজব ছড়িয়ে হত্যার নিন্দা : জুয়েল হত্যার ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সিপিবির (এম) সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ সামাদ।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিপিবির (এম) উদ্যোগে গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ডা. সামাদ বলেন, ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গণপিটুনিতে দেশে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

যেগুলোর কোনোটায় ছেলেধরা বা ডাকাত সন্দেহে, আবার কোনোটায় সামান্য চোর সন্দেহেও পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এখনই এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।