কিশোরকে যুবক দেখিয়ে জেলে পাঠাল পুলিশ
jugantor
এসপির কাছে পরিবারের নালিশ
কিশোরকে যুবক দেখিয়ে জেলে পাঠাল পুলিশ

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৬ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাগমারায় ১৬ বছরের এক কিশোরকে যুবক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহারে তার বয়স দেখানো হয়েছে ১৯। বিষয়টি নিয়ে বুধবার দুপুরে ওই কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ওই কিশোরের জন্মনিবন্ধন সনদ সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরের বাড়ি বাগমারা উপজেলার মাঝিগ্রামে। ২০ অক্টোবর থেকে ওই কিশোর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। পরিবার বলছে, কিশোর বলে ছেলেটিকে সংশোধনাগারে রাখা যেত। কিন্তু এজাহারে বয়স বাড়ানো হয়েছে বলে তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

পরিবারের দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পাশের একডালা গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে ওই কিশোরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পরে তাদের বাল্যপ্রেমে গড়ায়। ১৯ অক্টোবর মেয়েটি ওই কিশোরকে এসএমএস পাঠিয়ে বাড়ির সামনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে। সে অনুযায়ী ছেলেটি গেলে মেয়ের পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণি বাদীপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কিশোরের বয়স বাড়িয়ে ১৯ করেছেন। তিনি মামলার ভালো রিপোর্ট দেবেন বলে কিশোরের পরিবারের কাছে পাঁচ হাজার টাকাও চান। তাকে তিন হাজার টাকা দেয়া হয়। এসআই গণি ওই কিশোরের মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও মেয়েটির পাঠানো এসএমএস ডিলিট করে দেয়া হয়েছে। এসবের তদন্ত দাবি করেছে কিশোরের পরিবার।

এ বিষয়ে কথা বলতে এসআই ওসমান গণির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমি এই থানায় দু’দিন আগে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জানা নেই। তিনি বলেন, আসামির বয়স কম হলে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে রাখতে পারেন।

এছাড়া রাজশাহী কারাগারেও কিশোর ওয়ার্ডে রাখা হয়। এজাহারে ওই কিশোরের বয়স বাড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, এজাহারে হয়তো বাদী এভাবেই লিখেছিলেন। তবে এটি কোনো সমস্যা নয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এটা ঠিক করে নেবেন। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে শিশু আদালতে ‘দোষীপত্র’ দাখিল করা হবে। আর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া না গেলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

এসপির কাছে পরিবারের নালিশ

কিশোরকে যুবক দেখিয়ে জেলে পাঠাল পুলিশ

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাগমারায় ১৬ বছরের এক কিশোরকে যুবক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহারে তার বয়স দেখানো হয়েছে ১৯। বিষয়টি নিয়ে বুধবার দুপুরে ওই কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ওই কিশোরের জন্মনিবন্ধন সনদ সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরের বাড়ি বাগমারা উপজেলার মাঝিগ্রামে। ২০ অক্টোবর থেকে ওই কিশোর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। পরিবার বলছে, কিশোর বলে ছেলেটিকে সংশোধনাগারে রাখা যেত। কিন্তু এজাহারে বয়স বাড়ানো হয়েছে বলে তাকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

পরিবারের দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পাশের একডালা গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে ওই কিশোরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পরে তাদের বাল্যপ্রেমে গড়ায়। ১৯ অক্টোবর মেয়েটি ওই কিশোরকে এসএমএস পাঠিয়ে বাড়ির সামনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে। সে অনুযায়ী ছেলেটি গেলে মেয়ের পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণি বাদীপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ওই কিশোরের বয়স বাড়িয়ে ১৯ করেছেন। তিনি মামলার ভালো রিপোর্ট দেবেন বলে কিশোরের পরিবারের কাছে পাঁচ হাজার টাকাও চান। তাকে তিন হাজার টাকা দেয়া হয়। এসআই গণি ওই কিশোরের মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও মেয়েটির পাঠানো এসএমএস ডিলিট করে দেয়া হয়েছে। এসবের তদন্ত দাবি করেছে কিশোরের পরিবার।

এ বিষয়ে কথা বলতে এসআই ওসমান গণির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমি এই থানায় দু’দিন আগে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জানা নেই। তিনি বলেন, আসামির বয়স কম হলে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে রাখতে পারেন।

এছাড়া রাজশাহী কারাগারেও কিশোর ওয়ার্ডে রাখা হয়। এজাহারে ওই কিশোরের বয়স বাড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, এজাহারে হয়তো বাদী এভাবেই লিখেছিলেন। তবে এটি কোনো সমস্যা নয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এটা ঠিক করে নেবেন। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে শিশু আদালতে ‘দোষীপত্র’ দাখিল করা হবে। আর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া না গেলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।