করোনায় হোটেলে না থেকেও ডাক্তারদের বিল ৫৭৬০০ টাকা
jugantor
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
করোনায় হোটেলে না থেকেও ডাক্তারদের বিল ৫৭৬০০ টাকা

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি  

২৭ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হোটেলে না থেকেও ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা এবং খাওয়া বাবদ ৯৬ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে করোনা প্রণোদনার ৩ লাখ টাকা হরিলুট হয়েছে হাসপাতালটিতে। এ নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে হইচই পড়ে গেছে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন এ টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে এ তথ্য অস্বীকার করে তিনি বলেন, সঠিক ভাবেই প্রণোদনার অর্থ ব্যয় করেছেন।

জানা গেছে, ৫ জুলাই ডা. শামীমা শিরিন স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জুনের ৬ তারিখ থেকে ৬ চিকিৎসক, ৬ নার্স ও অন্যান্য ১২ স্টাফকে কালীগঞ্জের রহমানিয়া আবাসিক হোটেলে থাকা বাবদ ৫৭ হাজার ৬০০ এবং খাওয়া বাবদ ৯৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ৬৬ হাজার টাকা খরচের কথা বলা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালীগঞ্জ রহমানিয়া হোটেলের বোর্ডার রেজিস্ট্রার খাতায় ২০২০ সালের এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৫ জন, জুলাইয়ে ১৪ জন, আগস্টে ২৯ জন অবস্থান করেছেন। কিন্তু উক্ত মাসগুলোতে থাকা বোর্ডার রেজিস্ট্রারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এছাড়াও রহমানিয়া হোটেলে রান্না বা খাবার বিক্রি করা হয় না।

রহমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো ডাক্তার, নার্স থাকেননি। রেজিস্টারে যাদের নাম আছে তারাই ছিলেন। এর বাইরে কেউ ছিলেন না। রহমানিয়া হোটেলে খাবার বিক্রি করা হয় না বলে তিনি জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাঝহারুল ইসলাম জানান, শুরু থেকেই তিনি কোভিড-১৯ এ দায়িত্ব পালন করেছেন। কখনও হোটেলে থাকেননি। এ পর্যন্ত সরকারের কোনো প্রণোদনার টাকা পাননি। কোভিড-১৯ এ দায়িত্ব পালনের সময় তিনি হাসপাতালের ডরমেটরিতে ছিলেন।

আরেক চিকিৎসক আর্জুবান নেছা বলেন, তিনিও কোভিড-১৯ এ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। বিভিন্ন সময়ে তিনি হোটেলে থেকেছেন। কিন্তু তারিখ বা কোন মাসে থেকেছেন সেটা তিনি জানাতে পারেননি। এখনও কোনো প্রণোদনার টাকা পাননি বলে তিনি জানান।

কোভিড-১৯ এ নিয়োজিত হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে সব কাজ তাদের সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার প্রদত্ত কোনো প্রণোদনার টাকা তারা পাননি।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন বলেন, হোটেলে থাকা নিয়ে রহমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার কেন এমন বলেছেন আমি জানি না। তিনি দাবি করেন, ডাক্তাররা রোস্টার ডিউটি করেছেন। ওই সময় তারা হোটেলটিতে ছিলেন।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, এমন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

করোনায় হোটেলে না থেকেও ডাক্তারদের বিল ৫৭৬০০ টাকা

 কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি 
২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হোটেলে না থেকেও ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা এবং খাওয়া বাবদ ৯৬ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে করোনা প্রণোদনার ৩ লাখ টাকা হরিলুট হয়েছে হাসপাতালটিতে। এ নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে হইচই পড়ে গেছে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন এ টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে এ তথ্য অস্বীকার করে তিনি বলেন, সঠিক ভাবেই প্রণোদনার অর্থ ব্যয় করেছেন।

জানা গেছে, ৫ জুলাই ডা. শামীমা শিরিন স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জুনের ৬ তারিখ থেকে ৬ চিকিৎসক, ৬ নার্স ও অন্যান্য ১২ স্টাফকে কালীগঞ্জের রহমানিয়া আবাসিক হোটেলে থাকা বাবদ ৫৭ হাজার ৬০০ এবং খাওয়া বাবদ ৯৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ৬৬ হাজার টাকা খরচের কথা বলা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালীগঞ্জ রহমানিয়া হোটেলের বোর্ডার রেজিস্ট্রার খাতায় ২০২০ সালের এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৫ জন, জুলাইয়ে ১৪ জন, আগস্টে ২৯ জন অবস্থান করেছেন। কিন্তু উক্ত মাসগুলোতে থাকা বোর্ডার রেজিস্ট্রারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এছাড়াও রহমানিয়া হোটেলে রান্না বা খাবার বিক্রি করা হয় না।

রহমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো ডাক্তার, নার্স থাকেননি। রেজিস্টারে যাদের নাম আছে তারাই ছিলেন। এর বাইরে কেউ ছিলেন না। রহমানিয়া হোটেলে খাবার বিক্রি করা হয় না বলে তিনি জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাঝহারুল ইসলাম জানান, শুরু থেকেই তিনি কোভিড-১৯ এ দায়িত্ব পালন করেছেন। কখনও হোটেলে থাকেননি। এ পর্যন্ত সরকারের কোনো প্রণোদনার টাকা পাননি। কোভিড-১৯ এ দায়িত্ব পালনের সময় তিনি হাসপাতালের ডরমেটরিতে ছিলেন।

আরেক চিকিৎসক আর্জুবান নেছা বলেন, তিনিও কোভিড-১৯ এ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। বিভিন্ন সময়ে তিনি হোটেলে থেকেছেন। কিন্তু তারিখ বা কোন মাসে থেকেছেন সেটা তিনি জানাতে পারেননি। এখনও কোনো প্রণোদনার টাকা পাননি বলে তিনি জানান।

কোভিড-১৯ এ নিয়োজিত হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে সব কাজ তাদের সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার প্রদত্ত কোনো প্রণোদনার টাকা তারা পাননি।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন বলেন, হোটেলে থাকা নিয়ে রহমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার কেন এমন বলেছেন আমি জানি না। তিনি দাবি করেন, ডাক্তাররা রোস্টার ডিউটি করেছেন। ওই সময় তারা হোটেলটিতে ছিলেন।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, এমন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন