চট্টগ্রামে বিএনপির নতুন দুই কমিটি চলতি সপ্তাহে
jugantor
চট্টগ্রামে বিএনপির নতুন দুই কমিটি চলতি সপ্তাহে
ছয় বছর পর ফের আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে উত্তর জেলায় * নগরেও আসছে আহ্বায়ক কমিটি

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে বিএনপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকার আহ্বায়ক কমিটি চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি। অপরদিকে ছয় বছর পর আবারও আহ্বায়ক কমিটি পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। ফলে এ সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সাধ অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করার ঘোষণা গত মাসেই দিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নতুন কমিটি এরইমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে কোনোদিন আসতে পারে ঘোষণা। অন্যদিকে উত্তর জেলার নিষ্ক্রিয় আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে আবারও আহ্বায়ক কমিটির খবরে উত্তরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার আলোর পাশাপাশি হতাশাও দেখা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, ‘মহানগর এবং উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি একইদিন ঘোষণা করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহে নতুন কমিটির ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে উত্তর জেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলছেন, সবার প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূলে হতাশার অন্ত নেই। নতুন করে আবার আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হলে তা হবে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতোই। নতুন আহ্বায়ক কমিটি আগের মতোই পার করে দিতে পারে বছরের পর বছর। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দিতে পারলে ভালো হতো বলে মত তাদের।

তবে ভিন্নমত পোষণ করে কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান উত্তরের কমিটিতে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে তা কাটাতে আপাতত আহ্বায়ক কমিটির বিকল্প নেই। কেননা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হলে সম্মেলন করতে হবে। তা এ মুহূর্তে সময়সাপেক্ষ। নতুন কমিটি যে ফরম্যাটেই হোক না কেন, তাতে জোরদার হবে সংগঠনের কর্মকাণ্ড।

চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা প্রধান তিনটি এলাকায় বিভক্ত। এগুলো হল : মহানগর, দক্ষিণ জেলা ও উত্তর জেলা। এর মধ্যে উত্তরে রয়েছে সাতটি উপজেলা।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল আসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে সদস্যসচিব করে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে জেলার প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে বলা হয়। আর এ কমিটি করতে গিয়েই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব। সেই দ্বন্দ্বের কারণে থানা পর্যায়ে একক কোনো কমিটি গঠন করা যায়নি। প্রতিটি থানাতেই দুটি করে কমিটি গঠিত হয়। একটি আহ্বায়ক ও অন্যটি সদস্যসচিবের অনুগত।

রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা থেকে গ্রেফতার হন আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন। গ্রেফতারের পর থেকে এখনও তিনি কারাগারে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মারা যান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল হাসান। তার মৃত্যুর পর নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে ঝিমিয়ে পড়ে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা।

উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমএ হালিম যুগান্তরকে বলেন, ‘নানা কারণে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। নতুন আহ্বায়ক কমিটি হলে তাতে দলীয় কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে তারা একটি নতুন কমিটি উপহার দিতে পারবে।’

চট্টগ্রামে বিএনপির নতুন দুই কমিটি চলতি সপ্তাহে

ছয় বছর পর ফের আহ্বায়ক কমিটি হচ্ছে উত্তর জেলায় * নগরেও আসছে আহ্বায়ক কমিটি
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে বিএনপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকার আহ্বায়ক কমিটি চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি। অপরদিকে ছয় বছর পর আবারও আহ্বায়ক কমিটি পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। ফলে এ সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সাধ অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করার ঘোষণা গত মাসেই দিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নতুন কমিটি এরইমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে কোনোদিন আসতে পারে ঘোষণা। অন্যদিকে উত্তর জেলার নিষ্ক্রিয় আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে আবারও আহ্বায়ক কমিটির খবরে উত্তরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার আলোর পাশাপাশি হতাশাও দেখা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, ‘মহানগর এবং উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি একইদিন ঘোষণা করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহে নতুন কমিটির ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে উত্তর জেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলছেন, সবার প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূলে হতাশার অন্ত নেই। নতুন করে আবার আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হলে তা হবে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতোই। নতুন আহ্বায়ক কমিটি আগের মতোই পার করে দিতে পারে বছরের পর বছর। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দিতে পারলে ভালো হতো বলে মত তাদের।

তবে ভিন্নমত পোষণ করে কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান উত্তরের কমিটিতে যে স্থবিরতা বিরাজ করছে তা কাটাতে আপাতত আহ্বায়ক কমিটির বিকল্প নেই। কেননা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হলে সম্মেলন করতে হবে। তা এ মুহূর্তে সময়সাপেক্ষ। নতুন কমিটি যে ফরম্যাটেই হোক না কেন, তাতে জোরদার হবে সংগঠনের কর্মকাণ্ড।

চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা প্রধান তিনটি এলাকায় বিভক্ত। এগুলো হল : মহানগর, দক্ষিণ জেলা ও উত্তর জেলা। এর মধ্যে উত্তরে রয়েছে সাতটি উপজেলা।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল আসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে সদস্যসচিব করে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে জেলার প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে বলা হয়। আর এ কমিটি করতে গিয়েই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব। সেই দ্বন্দ্বের কারণে থানা পর্যায়ে একক কোনো কমিটি গঠন করা যায়নি। প্রতিটি থানাতেই দুটি করে কমিটি গঠিত হয়। একটি আহ্বায়ক ও অন্যটি সদস্যসচিবের অনুগত।

রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা থেকে গ্রেফতার হন আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন। গ্রেফতারের পর থেকে এখনও তিনি কারাগারে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মারা যান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল হাসান। তার মৃত্যুর পর নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে ঝিমিয়ে পড়ে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা।

উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমএ হালিম যুগান্তরকে বলেন, ‘নানা কারণে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। নতুন আহ্বায়ক কমিটি হলে তাতে দলীয় কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে তারা একটি নতুন কমিটি উপহার দিতে পারবে।’