কোনোভাবেই এরশাদকে স্বৈরাচার বলা যাবে না
jugantor
কোনোভাবেই এরশাদকে স্বৈরাচার বলা যাবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে গায়ের জোরে স্বৈরাচার বলা হয় মন্তব্য করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, এরশাদ ছিলেন প্রকৃত গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক। আদালত তাকে বৈধ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। কোনোভাবেই তাকে স্বৈরাচার বলা যাবে না। জিএম কাদের বলেন, এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশ উল্টো পথে হেঁটেছে। ’৯৬ সালের পর থেকে পরপর চারবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঘুষ, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা বেড়েছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে হত্যার রাজনীতি ছিল না।

রাজধানীর বনানীতে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। সংবিধানে ৭০ ধারা সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল স্বাদ ধ্বংস করেছে। ৭০ ধারার কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারে না। তাতে সরকারপ্রধান যা করতে চায় তার বাইরে কিছুই করা সম্ভব হয় না। তাই ৭০ ধারার কারণে সরকারে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়, যা স্বৈরতন্ত্রের পর্যায়ে। ৭০ ধারা বিদ্যমান থাকায় নির্যাতন ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। জিএম কাদের বলেন, ’৯১ সালে জাতীয় পার্টির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। এরশাদসহ জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। প্রচার চালাতে দেয়া হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় জাতীয় পার্টি প্রতিকূল পরিবেশেও ৩৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। জেলে থেকেই পল্লীবন্ধু পাঁচটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছেন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই ডা. মিলন ও নূর হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০ বছরেও ডা. মিলন ও নূর হোসেনের হত্যার বিচার হয়নি। জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই নিজামী ও মুজাহিদকে এমপি বানানো হয়েছিল। আমরা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাই। সরকার খুন, গুম, হত্যা ও ধর্ষণ বন্ধ করতে পারছে না। কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ দিয়েছিলেন এরশাদ। প্রতিহিংসার বশে পল্লীবন্ধুকে আর স্বৈরাচার বলা চলবে না। কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, সোহরাওয়ার্দীর পরেই গণতন্ত্রের মানসপুত্র হচ্ছেন এরশাদ।

বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, আবদুস সাত্তার মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, জহিরুল ইসলাম রুবেল, মেহেরুন্নেসা খান হেনা, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফুজ্জামান খান।

উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান, সৈয়দ দিদার বখত্, মেজর (অব.) রানা মো. সোহেল এমপি, মনিরুল ইসলাম মিলন, ড. নুরুল আজহার, হারুন রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুস সালাম, নিগার সুলতানা রানী, সুলতান আহমেদ সেলিম, কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, মো. লুৎফুর রেজা খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, আমির হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।

কোনোভাবেই এরশাদকে স্বৈরাচার বলা যাবে না

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে গায়ের জোরে স্বৈরাচার বলা হয় মন্তব্য করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, এরশাদ ছিলেন প্রকৃত গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক। আদালত তাকে বৈধ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। কোনোভাবেই তাকে স্বৈরাচার বলা যাবে না। জিএম কাদের বলেন, এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশ উল্টো পথে হেঁটেছে। ’৯৬ সালের পর থেকে পরপর চারবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঘুষ, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা বেড়েছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে হত্যার রাজনীতি ছিল না।

রাজধানীর বনানীতে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। সংবিধানে ৭০ ধারা সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল স্বাদ ধ্বংস করেছে। ৭০ ধারার কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারে না। তাতে সরকারপ্রধান যা করতে চায় তার বাইরে কিছুই করা সম্ভব হয় না। তাই ৭০ ধারার কারণে সরকারে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়, যা স্বৈরতন্ত্রের পর্যায়ে। ৭০ ধারা বিদ্যমান থাকায় নির্যাতন ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। জিএম কাদের বলেন, ’৯১ সালে জাতীয় পার্টির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। এরশাদসহ জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। প্রচার চালাতে দেয়া হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসায় জাতীয় পার্টি প্রতিকূল পরিবেশেও ৩৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। জেলে থেকেই পল্লীবন্ধু পাঁচটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছেন ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই ডা. মিলন ও নূর হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০ বছরেও ডা. মিলন ও নূর হোসেনের হত্যার বিচার হয়নি। জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই নিজামী ও মুজাহিদকে এমপি বানানো হয়েছিল। আমরা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাই। সরকার খুন, গুম, হত্যা ও ধর্ষণ বন্ধ করতে পারছে না। কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের মানুষকে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ দিয়েছিলেন এরশাদ। প্রতিহিংসার বশে পল্লীবন্ধুকে আর স্বৈরাচার বলা চলবে না। কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, সোহরাওয়ার্দীর পরেই গণতন্ত্রের মানসপুত্র হচ্ছেন এরশাদ।

বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, আবদুস সাত্তার মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, জহিরুল ইসলাম রুবেল, মেহেরুন্নেসা খান হেনা, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, কৃষক পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফুজ্জামান খান।

উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান, সৈয়দ দিদার বখত্, মেজর (অব.) রানা মো. সোহেল এমপি, মনিরুল ইসলাম মিলন, ড. নুরুল আজহার, হারুন রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুস সালাম, নিগার সুলতানা রানী, সুলতান আহমেদ সেলিম, কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, মো. লুৎফুর রেজা খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, আমির হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন