শীতে রোগী ভর্তি বেড়েছে চমেক হাসপাতালে

শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের প্রকোপে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগী ভর্তি বেড়েছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে এসব রোগী। এদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। চিকিৎসাধীন শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া চলাচলে সুবিধা হওয়ায় শিশুরা দ্রুত ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

এদিকে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে আসনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে দুই শিশু ওয়ার্ডে এক বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত রোগীর চাপও সামাল দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন। শনিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের শেখ ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা উষ্ণ থাকে। কিন্তু সারা দেশে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহে চট্টগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শনিবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চমেক হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগে রোগী ভর্তি বেড়ে গেছে। এর মধ্যে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের দুই ওয়ার্ডে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। শীতের শুরু থেকে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ৪৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া শনিবার সকাল ৮ থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আরও ২৮০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

অন্যদিকে হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩০ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪০ শিশু চিকিৎসাধীন। এসব শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ছাড়াও নিউমোনিয়া, জ্বর, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ শীতকালীন ডায়রিয়া ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত।

দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা নগরীর পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শাওন ইসলাম জানান, ঠাণ্ডার কারণে প্রথমে কয়েকদিন কাশি ছিল তার সন্তানের। পরে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। হাসপাতালে আনার পর তার সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর প্রণব কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, অভিভাবকদের অসচেতনতার ফলে ঠাণ্ডায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। শীতে প্রি-মেসিউর (অকালে জন্ম নেয়া) বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্র রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এজন্য শিশুদের বাড়তি যতœ নিতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×