মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণ
jugantor
মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণ
মিরকাদিমের এ ঘটনা গ্যাস লিকেজ থেকে : পুলিশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন, মুন্সীগঞ্জ  

০৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরমেয়র আব্দুস সালামের বাসভবনে মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত বিস্ফোরণটি গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। বুধবার পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন। তবে এ ঘটনাকে নাশকতা বলে দাবি করেছেন মেয়র সালাম। পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় মেয়র সালামের বাসভবনের তিনতলায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মেয়রের স্ত্রী ও চার কাউন্সিলরসহ ১৩ জন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন-মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, দুই প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা ও দ্বীন ইসলাম, দুই কাউন্সিলর সোহেল ও আওলাদ হোসেন এবং তাইজুল, মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, মহিউদ্দিন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, বিস্ফোরণে দুজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। ১২ জনের শরীরের ৩০-৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রহিম বাদশা ছাড়া বাকি ১২ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিআইডি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানকার আলামত পর্যবেক্ষণ করে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মেয়র আবদুস সালাম জানান, যারা আমাকে মেয়র হিসাবে মানতে পারেননি তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমার বাসায় চারজন কাউন্সিলরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আছেন জানতে পেরেই তারা এ সুযোগ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অফিস থেকে একটি ফাইল সাবেক মেয়রের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু সেটি কাউন্সিলর দ্বীন ইসলাম আটক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। ফাইলটি আমার বাসার আসার পরপরই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, আমার ঘরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। লাইন আছে তবে সব চুলা বন্ধ ছিল। বাসার সিসি ক্যামেরায় একটি ব্যাগ দেখতে পাওয়া গেছে। মনে হয় সেটির ভেতর বোমা ছিল। পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, মেয়রের বাসায় কোনো কারণে গ্যাস লিকেজ থাকায় পুরো বাসায় গ্যাস চেম্বার বা গ্যাস বাফারের সৃষ্টি হয়। চুলায় আগুন ধরাতে গেলে স্পার্কের মাধ্যমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, সিআইডি, পিবিআই ও জেলা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতেই ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে। তবে কোনো এজেন্সিই নাশকতার আলামত পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে মেয়রের বাসার তৃতীয়তলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। কক্ষে আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যায়। মেয়রের স্ত্রী ও দুই প্যানেল মেয়রসহ ১৩ জনকে তারা উদ্ধার করে। রান্নার জন্য মেয়রের স্ত্রী গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণ

মিরকাদিমের এ ঘটনা গ্যাস লিকেজ থেকে : পুলিশ
 যুগান্তর প্রতিবেদন, মুন্সীগঞ্জ 
০৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরমেয়র আব্দুস সালামের বাসভবনে মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত বিস্ফোরণটি গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। বুধবার পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন। তবে এ ঘটনাকে নাশকতা বলে দাবি করেছেন মেয়র সালাম। পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় মেয়র সালামের বাসভবনের তিনতলায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মেয়রের স্ত্রী ও চার কাউন্সিলরসহ ১৩ জন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন-মেয়রের স্ত্রী কানন বেগম, দুই প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা ও দ্বীন ইসলাম, দুই কাউন্সিলর সোহেল ও আওলাদ হোসেন এবং তাইজুল, মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, মহিউদ্দিন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, বিস্ফোরণে দুজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রীর অবস্থা গুরুতর। ১২ জনের শরীরের ৩০-৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রহিম বাদশা ছাড়া বাকি ১২ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিআইডি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানকার আলামত পর্যবেক্ষণ করে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মেয়র আবদুস সালাম জানান, যারা আমাকে মেয়র হিসাবে মানতে পারেননি তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমার বাসায় চারজন কাউন্সিলরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আছেন জানতে পেরেই তারা এ সুযোগ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অফিস থেকে একটি ফাইল সাবেক মেয়রের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু সেটি কাউন্সিলর দ্বীন ইসলাম আটক করে আমার কাছে নিয়ে আসে। ফাইলটি আমার বাসার আসার পরপরই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, আমার ঘরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। লাইন আছে তবে সব চুলা বন্ধ ছিল। বাসার সিসি ক্যামেরায় একটি ব্যাগ দেখতে পাওয়া গেছে। মনে হয় সেটির ভেতর বোমা ছিল। পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, মেয়রের বাসায় কোনো কারণে গ্যাস লিকেজ থাকায় পুরো বাসায় গ্যাস চেম্বার বা গ্যাস বাফারের সৃষ্টি হয়। চুলায় আগুন ধরাতে গেলে স্পার্কের মাধ্যমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, সিআইডি, পিবিআই ও জেলা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতেই ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে। তবে কোনো এজেন্সিই নাশকতার আলামত পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে মেয়রের বাসার তৃতীয়তলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। কক্ষে আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যায়। মেয়রের স্ত্রী ও দুই প্যানেল মেয়রসহ ১৩ জনকে তারা উদ্ধার করে। রান্নার জন্য মেয়রের স্ত্রী গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন