সিলেটে গলিতে জনসমাগম রাজশাহীতে কঠোর পুলিশ
jugantor
সিলেটে গলিতে জনসমাগম রাজশাহীতে কঠোর পুলিশ
বরিশালে ঢিলেঢালা লকডাউন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে কয়েকদিনের চেয়ে মোড়গুলো ফাঁকা রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। সড়কগুলোতে সীমিত পরিসরে চলাচলকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনই জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। লকডাউনের সপ্তম দিনে সিলেট নগরীর অলিগলিতে জনসমাগম অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বাঁশ টানিয়ে চলছে পুলিশের অভিযান। বরিশালে ঢিলেঢালা লকডাউন চলছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে রিকশাসহ ছোট যানগুলো। ব্যুরোর পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহীতে শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখার অনুমতি থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও ফার্মেসিগুলোতে উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লকডাউনের নির্দেশনা মানতে অনেকের মাঝে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। মহানগরীর মোড়গুলো অনেকটায় ফাঁকা থাকলেও অলিগলিতে মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে। এছাড়া হাফ শাটার টেনে ক্রেতার অপেক্ষায় উঁকি মারছেন অনেক দোকানি। মহানগরীতে অন্য দিনের চেয়ে পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি ছিল। সক্রিয় ছিল পুলিশের টহল দল। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী গাড়িগুলোকেও জেরার মুখে পড়তে দেখা যায়। মহানগরীর প্রবেশপথগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা রয়েছে। তবে বৈশাখের তাপদাহে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা শিথিলতা নেমে আসে। মহানগরীর আরডিএ মার্কেট ও নিউমার্কেট বন্ধ থাকলেও বাইরের দোকানগুলোতে অনেককেই শার্টার টেনে বাইরে কাস্টমার জোগাড় করতে দেখা গেছে। দু-একজন ফুটপাতের দোকানিও পসরা সাজিয়ে বসছেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে রাজশাহীতে কড়াকড়ি করা হয়েছে। মহানগরীতে স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

সিলেট : সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে যাতে যানবাহন চলাচল না করতে পারে সেজন্য বাঁশ টানানো হয়েছে। বাঁশ অতিক্রম না করতে পেরে অনেককেই ফিরে যেতে দেখা যায়। তবে জরুরি কাজের জন্য যারা বের হচ্ছেন তাদের সার্বিক বিষয় তথ্য নিয়ে পুলিশ ছেড়ে দিতে দেখা গেছে। এদিকে, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে করোনায় কোনো মৃত্যু নেই। এ সময়ে বিভাগের আরও ১৩৬ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ১০৫ জন রোগী। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১০২ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার ১১ জন, হবিগঞ্জ জেলার ১৭ জন এবং মৌলভীবাজার জেলার ৬ জন রয়েছেন। সিলেট নগরীর রাস্তায় মঙ্গলবার সকাল থেকে অন্যদিনের তুলনায় সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট গাড়ি ও রিকশা বেশি দেখা গেছে। সেই সঙ্গে লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশও কঠোর অবস্থান নেয়। জরিমানাও করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে। যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন, মুভমেন্ট পাস না নিয়ে বাইরে বের হবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানবেন না তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে।

বরিশাল : বরিশালে রাস্তাঘাটে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক রিকশা, মোটরসাইকেল এবং থ্রি-হুইলার চলাচল করতে দেখা গেছে। বাজারঘাটগুলোতেও আগের চেয়ে বেশি ভিড় ছিল। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক দোকানপাট খুলেছে। এসব জায়গায় করোনা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। যদিও লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে নগরীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অলিগলিতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের দোকান খুলেছেন। নগরীর প্রধান প্রধান বাজারে ছিল উপচেপড়া ভিড়। এসব বাজারে উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। যদিও লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নগরীতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিলেটে গলিতে জনসমাগম রাজশাহীতে কঠোর পুলিশ

বরিশালে ঢিলেঢালা লকডাউন
 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে কয়েকদিনের চেয়ে মোড়গুলো ফাঁকা রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। সড়কগুলোতে সীমিত পরিসরে চলাচলকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনই জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। লকডাউনের সপ্তম দিনে সিলেট নগরীর অলিগলিতে জনসমাগম অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বাঁশ টানিয়ে চলছে পুলিশের অভিযান। বরিশালে ঢিলেঢালা লকডাউন চলছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে রিকশাসহ ছোট যানগুলো। ব্যুরোর পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহীতে শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখার অনুমতি থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও ফার্মেসিগুলোতে উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লকডাউনের নির্দেশনা মানতে অনেকের মাঝে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। মহানগরীর মোড়গুলো অনেকটায় ফাঁকা থাকলেও অলিগলিতে মানুষের সমাগম দেখা যাচ্ছে। এছাড়া হাফ শাটার টেনে ক্রেতার অপেক্ষায় উঁকি মারছেন অনেক দোকানি। মহানগরীতে অন্য দিনের চেয়ে পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি ছিল। সক্রিয় ছিল পুলিশের টহল দল। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী গাড়িগুলোকেও জেরার মুখে পড়তে দেখা যায়। মহানগরীর প্রবেশপথগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা রয়েছে। তবে বৈশাখের তাপদাহে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা শিথিলতা নেমে আসে। মহানগরীর আরডিএ মার্কেট ও নিউমার্কেট বন্ধ থাকলেও বাইরের দোকানগুলোতে অনেককেই শার্টার টেনে বাইরে কাস্টমার জোগাড় করতে দেখা গেছে। দু-একজন ফুটপাতের দোকানিও পসরা সাজিয়ে বসছেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে রাজশাহীতে কড়াকড়ি করা হয়েছে। মহানগরীতে স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

সিলেট : সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে যাতে যানবাহন চলাচল না করতে পারে সেজন্য বাঁশ টানানো হয়েছে। বাঁশ অতিক্রম না করতে পেরে অনেককেই ফিরে যেতে দেখা যায়। তবে জরুরি কাজের জন্য যারা বের হচ্ছেন তাদের সার্বিক বিষয় তথ্য নিয়ে পুলিশ ছেড়ে দিতে দেখা গেছে। এদিকে, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে করোনায় কোনো মৃত্যু নেই। এ সময়ে বিভাগের আরও ১৩৬ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ১০৫ জন রোগী। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১০২ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার ১১ জন, হবিগঞ্জ জেলার ১৭ জন এবং মৌলভীবাজার জেলার ৬ জন রয়েছেন। সিলেট নগরীর রাস্তায় মঙ্গলবার সকাল থেকে অন্যদিনের তুলনায় সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট গাড়ি ও রিকশা বেশি দেখা গেছে। সেই সঙ্গে লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশও কঠোর অবস্থান নেয়। জরিমানাও করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে। যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন, মুভমেন্ট পাস না নিয়ে বাইরে বের হবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানবেন না তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে।

বরিশাল : বরিশালে রাস্তাঘাটে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক রিকশা, মোটরসাইকেল এবং থ্রি-হুইলার চলাচল করতে দেখা গেছে। বাজারঘাটগুলোতেও আগের চেয়ে বেশি ভিড় ছিল। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক দোকানপাট খুলেছে। এসব জায়গায় করোনা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। যদিও লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে নগরীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অলিগলিতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের দোকান খুলেছেন। নগরীর প্রধান প্রধান বাজারে ছিল উপচেপড়া ভিড়। এসব বাজারে উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। যদিও লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নগরীতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন