ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া নিউমোনিয়ার প্রকোপ
jugantor
ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া নিউমোনিয়ার প্রকোপ
দিনে আক্রান্ত ৭০-৮০ শিশু

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও ব্রনকাইটিস রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের রোগে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স দিলরুবা আখতার জানান, গত দুই দিনে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও ব্রনকাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে দেড়শ শিশু ভর্তি হয়েছে। আর সাতদিনে ৫শ’র বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা বেগম বলেন, তার ৭ মাসের মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গত চারদিন এই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা নিলেও স্যালাইন ছাড়া সব ওষুধ দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে তাকে।

একই অভিযোগ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের মহসিন আলীর। তিনি বলেন, চারদিন ধরে তার ছেলেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এ পর্যন্ত দুই হাজার টাকার ওষুধ দোকান থেকে কিনেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে এন্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি ওষুধের সংকট আছে। ওষুধ সংকটের প্রধান কারণ হিসাবে তিনি বলেন, বগুড়ায় অবস্থিত সরকারি ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগ লিমিটেডের কাছে ৩২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ চেয়ে ১৬ মার্চ চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওষুধ সরবরাহ মেলেনি।

হাসপাতালের স্টোরকিপার মাহবুব জানান, ওষুধের ভান্ডার প্রায় শূন্য। তিনি বলেন, ৩২ ধরনের ওষুধের মধ্যে ২০ ধরনের ওষুধ হাসপাতালে সরবরাহ নেই। এর মধ্যে এন্টিবায়োটিকসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজুর রহমান সরকার বলেন, আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতাল চলছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। তাছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালটি পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের চারটি উপজেলার মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। এ কারণে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে প্রায়ই ওষুধ সংকটসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া নিউমোনিয়ার প্রকোপ

দিনে আক্রান্ত ৭০-৮০ শিশু
 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও ব্রনকাইটিস রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের রোগে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স দিলরুবা আখতার জানান, গত দুই দিনে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও ব্রনকাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে দেড়শ শিশু ভর্তি হয়েছে। আর সাতদিনে ৫শ’র বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা বেগম বলেন, তার ৭ মাসের মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গত চারদিন এই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা নিলেও স্যালাইন ছাড়া সব ওষুধ দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে তাকে।

একই অভিযোগ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের মহসিন আলীর। তিনি বলেন, চারদিন ধরে তার ছেলেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এ পর্যন্ত দুই হাজার টাকার ওষুধ দোকান থেকে কিনেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে এন্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি ওষুধের সংকট আছে। ওষুধ সংকটের প্রধান কারণ হিসাবে তিনি বলেন, বগুড়ায় অবস্থিত সরকারি ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগ লিমিটেডের কাছে ৩২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ চেয়ে ১৬ মার্চ চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওষুধ সরবরাহ মেলেনি।

হাসপাতালের স্টোরকিপার মাহবুব জানান, ওষুধের ভান্ডার প্রায় শূন্য। তিনি বলেন, ৩২ ধরনের ওষুধের মধ্যে ২০ ধরনের ওষুধ হাসপাতালে সরবরাহ নেই। এর মধ্যে এন্টিবায়োটিকসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজুর রহমান সরকার বলেন, আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতাল চলছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। তাছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালটি পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের চারটি উপজেলার মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। এ কারণে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে প্রায়ই ওষুধ সংকটসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন