আলমডাঙ্গায় পিরের আশ্রমে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা
jugantor
আলমডাঙ্গায় পিরের আশ্রমে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি  

০৪ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভণ্ড পিরের আশ্রমে মুক্তা মালা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে হত্যার পর লাশের গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় রাতে আশ্রমের পীরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুক্তা মালা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার আবদুর রশিদের মেয়ে এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-মুক্তা মালার স্বামী জহুরুল ইসলাম, তার (জহুরুল) মা জহুরা বেগম ও আশ্রমের পির সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুর। ফুসলিয়ে অন্যের স্ত্রী, যুবতিদের নিজের আখড়ায় রাখা, যুবতিদের নিয়ে গানের আসর বসানো, রোগ চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে পাল্টু হুজুরের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রশিদ দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। লোকমুখে শুনে মেয়ে মুক্তা মালা বাবাকে চিকিৎসা করাতে আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের পান্টু হুজুরের আশ্রমে নিয়ে যান। একপর্যায়ে পান্টু হুজুরের খাদেম এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মুক্তা মালার সম্পর্ক হয়। ৭ মাস আগে তারা বিয়ে করেন। এরপর থেকে মুক্তা মালা তার স্বামীর সঙ্গে পান্টু হুজুরের আশ্রমেই থাকতেন। রোববার সকাল ৮টার দিকে মুক্তা মালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আশ্রমের কয়েকজন। পরে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে লাশ পান্টু হুজুরের ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর আশ্রমের নিজস্ব ভ্যানযোগে লাশ বাবার (আবদুর রশিদ) বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা কাউকে না বলতে তারা হুমকিও দেয়। কিন্তু ভয় না পেয়ে দুপুরের দিকে লাশ নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় হাজির হন আবদুর রশিদ। তিনি বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম ও পান্টু হুজুরসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

মুক্তা মালার বাবা আবদুর রশিদ বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর শাশুড়ি জহুরা বেগম, স্বামী জহুরুল ও ভণ্ডপির পান্টু হুজুর অত্যাচার করে আসছে। তারা পরিকল্পনা করে মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি ওদের কঠোর শাস্তি চাই।’ আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবীর বলেন, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আলমডাঙ্গায় পিরের আশ্রমে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

 চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 
০৪ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভণ্ড পিরের আশ্রমে মুক্তা মালা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে হত্যার পর লাশের গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় রাতে আশ্রমের পীরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুক্তা মালা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার আবদুর রশিদের মেয়ে এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-মুক্তা মালার স্বামী জহুরুল ইসলাম, তার (জহুরুল) মা জহুরা বেগম ও আশ্রমের পির সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুর। ফুসলিয়ে অন্যের স্ত্রী, যুবতিদের নিজের আখড়ায় রাখা, যুবতিদের নিয়ে গানের আসর বসানো, রোগ চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে পাল্টু হুজুরের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রশিদ দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। লোকমুখে শুনে মেয়ে মুক্তা মালা বাবাকে চিকিৎসা করাতে আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের পান্টু হুজুরের আশ্রমে নিয়ে যান। একপর্যায়ে পান্টু হুজুরের খাদেম এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মুক্তা মালার সম্পর্ক হয়। ৭ মাস আগে তারা বিয়ে করেন। এরপর থেকে মুক্তা মালা তার স্বামীর সঙ্গে পান্টু হুজুরের আশ্রমেই থাকতেন। রোববার সকাল ৮টার দিকে মুক্তা মালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আশ্রমের কয়েকজন। পরে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে লাশ পান্টু হুজুরের ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর আশ্রমের নিজস্ব ভ্যানযোগে লাশ বাবার (আবদুর রশিদ) বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা কাউকে না বলতে তারা হুমকিও দেয়। কিন্তু ভয় না পেয়ে দুপুরের দিকে লাশ নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় হাজির হন আবদুর রশিদ। তিনি বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম ও পান্টু হুজুরসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

মুক্তা মালার বাবা আবদুর রশিদ বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর শাশুড়ি জহুরা বেগম, স্বামী জহুরুল ও ভণ্ডপির পান্টু হুজুর অত্যাচার করে আসছে। তারা পরিকল্পনা করে মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি ওদের কঠোর শাস্তি চাই।’ আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবীর বলেন, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন