ফেনীতে ক্ষোভ থেকে তানিশাকে হত্যা
jugantor
চাচাতো ভাইয়ের জবানবন্দি
ফেনীতে ক্ষোভ থেকে তানিশাকে হত্যা

  ফেনী প্রতিনিধি  

০৯ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তুচ্ছ বিষয়ে খারাপ ব্যবহার করত বলে ক্ষোভে চাচাতো বোন তানিশাকে খুন করা হয় বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে মাদ্রাসা ছাত্র আক্তার হোসেন নিশাত। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় ওই মাদ্রাসা ছাত্র।

জবানবন্দিতে নিশাত বলে, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়। চাচা-জ্যাঠা আর ফুপুসহ আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় চলছিল তাদের সংসার। প্রতিনিয়ত তাদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ব্যবহার থেকে ক্ষোভ জন্মাতে থাকে তার মধ্যে। এর প্রতিশোধ নিতেই চাচাতো বোন তানিশাকে খুন করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী শনিবার দুপুরে তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুব অল্পসময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়া হবে।

আদালতের জবানবন্দিতে নিশাত বলে, তার বাবা জীবিত না থাকায় ও তারা দরিদ্র হওয়ায় চাচার পরিবার তার বাবার সব সম্পদ গ্রাস করে নিয়েছে। একটু সুযোগ পেলেই কটুকথা বা গালমন্দ করা হতো। এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তার মনে ক্ষোভ জমেছিল। তানিশার ভাই মসজিদে ‘ইতিকাফে’ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মসজিদে খাবার পৌঁছে দিতে বলে। সে খাবার নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পথে অন্য একজনকে ওই খাবার পৌঁছে দিতে বলে আবার বাড়ি ফিরে আসে। তখন ঘরে ছিল তানিশা ও তার দাদি। এ সুযোগে তাদের ঘরে ঢুকে তানিশার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর টানা-হেঁচড়া করে তাকে ছাদের সিঁড়ি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের রান্নাঘর থেকে ছোরা নিয়ে এসে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ছাদের এক পাশে একটি গাছ বেয়ে নিচে নেমে নিজের ঘরে চলে যায় সে। কিন্তু সিঁড়িতে তার স্যান্ডেল ফেলে যাওয়ার কথা তখন ভুলে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান হোসেন জানান, ছাদে লাশের পাশেই পড়ে ছিল নিশাতের স্যান্ডেল। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে নিহত তানিশা ইসলামের ভাই আশরাফুল ইসলাম ফেনী থানায় মো. আক্তার হোসেন নিশাতের (১৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন।

চাচাতো ভাইয়ের জবানবন্দি

ফেনীতে ক্ষোভ থেকে তানিশাকে হত্যা

 ফেনী প্রতিনিধি 
০৯ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তুচ্ছ বিষয়ে খারাপ ব্যবহার করত বলে ক্ষোভে চাচাতো বোন তানিশাকে খুন করা হয় বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে মাদ্রাসা ছাত্র আক্তার হোসেন নিশাত। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় ওই মাদ্রাসা ছাত্র।

জবানবন্দিতে নিশাত বলে, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়। চাচা-জ্যাঠা আর ফুপুসহ আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় চলছিল তাদের সংসার। প্রতিনিয়ত তাদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ব্যবহার থেকে ক্ষোভ জন্মাতে থাকে তার মধ্যে। এর প্রতিশোধ নিতেই চাচাতো বোন তানিশাকে খুন করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী শনিবার দুপুরে তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুব অল্পসময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়া হবে।

আদালতের জবানবন্দিতে নিশাত বলে, তার বাবা জীবিত না থাকায় ও তারা দরিদ্র হওয়ায় চাচার পরিবার তার বাবার সব সম্পদ গ্রাস করে নিয়েছে। একটু সুযোগ পেলেই কটুকথা বা গালমন্দ করা হতো। এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তার মনে ক্ষোভ জমেছিল। তানিশার ভাই মসজিদে ‘ইতিকাফে’ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মসজিদে খাবার পৌঁছে দিতে বলে। সে খাবার নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পথে অন্য একজনকে ওই খাবার পৌঁছে দিতে বলে আবার বাড়ি ফিরে আসে। তখন ঘরে ছিল তানিশা ও তার দাদি। এ সুযোগে তাদের ঘরে ঢুকে তানিশার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর টানা-হেঁচড়া করে তাকে ছাদের সিঁড়ি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের রান্নাঘর থেকে ছোরা নিয়ে এসে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ছাদের এক পাশে একটি গাছ বেয়ে নিচে নেমে নিজের ঘরে চলে যায় সে। কিন্তু সিঁড়িতে তার স্যান্ডেল ফেলে যাওয়ার কথা তখন ভুলে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান হোসেন জানান, ছাদে লাশের পাশেই পড়ে ছিল নিশাতের স্যান্ডেল। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে নিহত তানিশা ইসলামের ভাই আশরাফুল ইসলাম ফেনী থানায় মো. আক্তার হোসেন নিশাতের (১৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন