পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি আ.লীগ: কাদের মির্জা
jugantor
পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি আ.লীগ: কাদের মির্জা

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের জন্য যে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন তা দল গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যানারে আয়োজিত ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও মিষ্টি বিতরণ’ অনুষ্ঠানে রোববার বিকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজ অনুসারীদের দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করেন।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে সিগনাল দেওয়া হয়েছে, আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি।

তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম, আওয়ামী লীগেই থাকব। তবে দলের কোনো পদ-পদবিতে থাকব না।

কাদের মির্জা বলেন, আমি আগেও বলেছিলাম, এখনো দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমি আগামীতে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না। আপনাদের সাক্ষ্য রেখে বলতে চাই আমি কোনো অপরাজনীতি বিশ্বাস করি না। আমার আন্দোলন একটি পরিবর্তনের পক্ষে আন্দোলন। রক্তের বদলে রক্ত নেইনি, নেবও না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের। বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস, বসুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পারভীন আক্তার মুরাদ, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মির্জা মাশরুর কাদের তাশিক প্রমুখ।

১১ নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা : কাদের মির্জার সহযোগী ও বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. দুলালের ছেলে মো. হামিদ উল্যাহ হামিদ শনিবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এতে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, জেলা পরিষদ সদস্য আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসিব আহসান আলাল, চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আরিফ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জায়েদল হক কচি, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন।

এজাহারে বলা হয়, শনিবার দুপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ফেসবুক লাইভে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর সামনে ঘোষণা করেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই মারধরসহ প্রতিরোধ করা হবে।

অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন : কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সহিংসতার আশঙ্কায় অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বসুরহাট বাজার ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পালটাপালটি ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানের ঘোষণার পর এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গণভবনের সামনে অনশনের ঘোষণা : উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে পুলিশের হামলা ও ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ফয়সালকে গ্রেফতারের নিন্দা জানাই। একই বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল কাদের মির্জার ‘অপরাজনীতি’ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় গণভবনের সামনে অনশন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি আ.লীগ: কাদের মির্জা

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের জন্য যে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন তা দল গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যানারে আয়োজিত ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও মিষ্টি বিতরণ’ অনুষ্ঠানে রোববার বিকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজ অনুসারীদের দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করেন।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে সিগনাল দেওয়া হয়েছে, আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি।

তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম, আওয়ামী লীগেই থাকব। তবে দলের কোনো পদ-পদবিতে থাকব না।

কাদের মির্জা বলেন, আমি আগেও বলেছিলাম, এখনো দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমি আগামীতে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না। আপনাদের সাক্ষ্য রেখে বলতে চাই আমি কোনো অপরাজনীতি বিশ্বাস করি না। আমার আন্দোলন একটি পরিবর্তনের পক্ষে আন্দোলন। রক্তের বদলে রক্ত নেইনি, নেবও না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের। বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস, বসুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পারভীন আক্তার মুরাদ, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মির্জা মাশরুর কাদের তাশিক প্রমুখ।

১১ নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা : কাদের মির্জার সহযোগী ও বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. দুলালের ছেলে মো. হামিদ উল্যাহ হামিদ শনিবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এতে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, জেলা পরিষদ সদস্য আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসিব আহসান আলাল, চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আরিফ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জায়েদল হক কচি, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন।

এজাহারে বলা হয়, শনিবার দুপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ফেসবুক লাইভে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর সামনে ঘোষণা করেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই মারধরসহ প্রতিরোধ করা হবে।

অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন : কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সহিংসতার আশঙ্কায় অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বসুরহাট বাজার ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পালটাপালটি ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানের ঘোষণার পর এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গণভবনের সামনে অনশনের ঘোষণা : উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে পুলিশের হামলা ও ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ফয়সালকে গ্রেফতারের নিন্দা জানাই। একই বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল কাদের মির্জার ‘অপরাজনীতি’ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় গণভবনের সামনে অনশন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন