ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজে আসছে না সেতু
jugantor
চিলমারীতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাধাগ্রস্ত
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজে আসছে না সেতু

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিলমারীতে তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সেগুলো জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। কারণ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুগুলোর সংযোগ সড়কের কাজ বাধার মুখে পড়েছে। জনসাধারণের চলাচল শুরু না হওয়ায় সেতুগুলোর গায়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে।

চিলমারী-হরিপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে চিলমারী অংশে সংযোগ সড়কের নকশা অনুযায়ী কৃষি জমির ভেতর দিয়ে তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে সেতুগুলো নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেগুলো বর্তমানে কাজে আসছে না। সংযোগ সড়কের কাজে জমি অধিগ্রহণ শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ সার্ভেয়ারের এলোমেলো সীমানা খুঁটি স্থাপন করায় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সঠিকভাবে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা না করেই এভাবে সেতু নির্মাণ করায় সরকারের লাখ লাখ টাকার অপচয় হচ্ছে।

সেতুগুলো নির্মাণের সময় যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়েছিল বর্তমান সার্ভে তার চেয়ে কম জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সংযোগ সড়কের জন্য ৫ থেকে ৮ ফুট জায়গা বিনামূল্যে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমির মালিকরা। অধিগ্রহণের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সংযোগ সড়ক আঁকাবাঁকা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সংযোগ সড়ক ঠিকমতো হবে না বলেও এলাকাবাসীর দাবি।

চিলমারী উপজেলা সদরের কুষ্টারী এলাকার আবদুর রহিম দুলাল জানান, সড়ক সংযোগের জন্য তার ১৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে অধিগ্রহণ দেখানো হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ। সংযোগ সড়ক নির্মাণে তার ৮ ফুট জমি বিনা মূল্যে দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার ১৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মূল্য পাবেন মাত্র ৫ শতাংশের। একই এলাকার আজাদ মিয়া জানান, আমার ১৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হবে জানিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ সার্ভে অনুযায়ী আমার সাড়ে ১০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিলুফা সুলতানা জানান, সরেজমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেতুটি ১ হাজার ৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থ। এটির স্প্যান ৩১টি। সেতুটির উভয় পাশে ৮২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম অংশে ছয় কিলোমিটার ও গাইবান্ধা অংশে ৭৬ কিলোমিটার পড়েছে। সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট। কুড়িগ্রাম অংশের চিলমারী উপজেলায় ২০১৯ সালে রাস্তার নকশা অনুযায়ী ২ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ছয়টি সেতু নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও দুটি সেতুর কাজ এখনো চলছে। বর্তমানে সড়কের মূল অ্যালাইনমেন্ট বাদ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে এলোমেলোভাবে জমি অধিগ্রহণের খুঁটি স্থাপন করায় তিনটি সেতু কাজে আসছে না।

চিলমারীতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাধাগ্রস্ত

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজে আসছে না সেতু

 চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিলমারীতে তিনটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সেগুলো জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। কারণ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুগুলোর সংযোগ সড়কের কাজ বাধার মুখে পড়েছে। জনসাধারণের চলাচল শুরু না হওয়ায় সেতুগুলোর গায়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে।

চিলমারী-হরিপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে চিলমারী অংশে সংযোগ সড়কের নকশা অনুযায়ী কৃষি জমির ভেতর দিয়ে তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে সেতুগুলো নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেগুলো বর্তমানে কাজে আসছে না। সংযোগ সড়কের কাজে জমি অধিগ্রহণ শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ সার্ভেয়ারের এলোমেলো সীমানা খুঁটি স্থাপন করায় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সঠিকভাবে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা না করেই এভাবে সেতু নির্মাণ করায় সরকারের লাখ লাখ টাকার অপচয় হচ্ছে।

সেতুগুলো নির্মাণের সময় যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়েছিল বর্তমান সার্ভে তার চেয়ে কম জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সংযোগ সড়কের জন্য ৫ থেকে ৮ ফুট জায়গা বিনামূল্যে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমির মালিকরা। অধিগ্রহণের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সংযোগ সড়ক আঁকাবাঁকা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সংযোগ সড়ক ঠিকমতো হবে না বলেও এলাকাবাসীর দাবি।

চিলমারী উপজেলা সদরের কুষ্টারী এলাকার আবদুর রহিম দুলাল জানান, সড়ক সংযোগের জন্য তার ১৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে অধিগ্রহণ দেখানো হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ। সংযোগ সড়ক নির্মাণে তার ৮ ফুট জমি বিনা মূল্যে দখল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার ১৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মূল্য পাবেন মাত্র ৫ শতাংশের। একই এলাকার আজাদ মিয়া জানান, আমার ১৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হবে জানিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ সার্ভে অনুযায়ী আমার সাড়ে ১০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিলুফা সুলতানা জানান, সরেজমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেতুটি ১ হাজার ৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থ। এটির স্প্যান ৩১টি। সেতুটির উভয় পাশে ৮২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম অংশে ছয় কিলোমিটার ও গাইবান্ধা অংশে ৭৬ কিলোমিটার পড়েছে। সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট। কুড়িগ্রাম অংশের চিলমারী উপজেলায় ২০১৯ সালে রাস্তার নকশা অনুযায়ী ২ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ছয়টি সেতু নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও দুটি সেতুর কাজ এখনো চলছে। বর্তমানে সড়কের মূল অ্যালাইনমেন্ট বাদ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে এলোমেলোভাবে জমি অধিগ্রহণের খুঁটি স্থাপন করায় তিনটি সেতু কাজে আসছে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন