চেয়ারম্যানের বাড়িতে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
jugantor
খোকসায় মাছ চুরির অভিযোগ
চেয়ারম্যানের বাড়িতে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা * স্ত্রী-ভাতিজা গ্রেফতার

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

১৬ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার খোকসায় চেয়ারম্যানের ঘের থেকে মাছ চুরির অভিযোগ এনে নিজ বাড়িতে কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে জসীম শেখ (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত জসীম খোকসা উপজেলার রতনপুরের রওশন আলীর ছেলে। এ ঘটনায় খোকসা উপজেলার খোকসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, তার স্ত্রীর জায়েদা খাতুন ও তিন ছেলে তানভির, তানজির ও তানছিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মামলা করেছেন জসীমের ভাই হাসিম শেখ। পুলিশ চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা খাতুন ও ভাতিজা সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রতনপুরের মাঠে বেশ কয়েক বিঘা জমিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর মাছের ঘের রয়েছে। রাতে ওই ঘেরে জসীম মাছ ধরেছেন বলে জানতে পারেন। চেয়ারম্যান নিজেই বারবার ফোন করেন জসীমকে। ফোন পেয়ে জসীম বাড়ির বাইরে এলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে ধরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়ির মধ্যে চেয়ারম্যান নিজেসহ পরিবারের সদস্য ও তার লোকজন জসীমকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে জসীম নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

জসীম শেখের স্ত্রী আছিয়া খাতুন জানান, মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে তার স্বামীকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয়। ফোন পেয়ে জসীম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী জসীমকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাড়িতে আটকে মারধর করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে স্বামীর কাছে যেতে বাধা দেয় এবং হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়।

গ্রাম পুলিশ রাকিবুল ইমনের মাধ্যমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জসীম শেখকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার আগেই সকাল সাড়ে ৬টায় জসীম মারা যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল আলম জসীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুকে ও মাথায় মারাত্মক জখমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, চেয়ারম্যানের বাড়িতে জসীম শেখকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জসীমের ভাই বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খোকসায় মাছ চুরির অভিযোগ

চেয়ারম্যানের বাড়িতে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা * স্ত্রী-ভাতিজা গ্রেফতার
 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
১৬ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার খোকসায় চেয়ারম্যানের ঘের থেকে মাছ চুরির অভিযোগ এনে নিজ বাড়িতে কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে জসীম শেখ (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত জসীম খোকসা উপজেলার রতনপুরের রওশন আলীর ছেলে। এ ঘটনায় খোকসা উপজেলার খোকসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, তার স্ত্রীর জায়েদা খাতুন ও তিন ছেলে তানভির, তানজির ও তানছিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মামলা করেছেন জসীমের ভাই হাসিম শেখ। পুলিশ চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা খাতুন ও ভাতিজা সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রতনপুরের মাঠে বেশ কয়েক বিঘা জমিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর মাছের ঘের রয়েছে। রাতে ওই ঘেরে জসীম মাছ ধরেছেন বলে জানতে পারেন। চেয়ারম্যান নিজেই বারবার ফোন করেন জসীমকে। ফোন পেয়ে জসীম বাড়ির বাইরে এলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে ধরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়ির মধ্যে চেয়ারম্যান নিজেসহ পরিবারের সদস্য ও তার লোকজন জসীমকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে জসীম নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

জসীম শেখের স্ত্রী আছিয়া খাতুন জানান, মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে তার স্বামীকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয়। ফোন পেয়ে জসীম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী জসীমকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাড়িতে আটকে মারধর করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর আহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে স্বামীর কাছে যেতে বাধা দেয় এবং হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়।

গ্রাম পুলিশ রাকিবুল ইমনের মাধ্যমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জসীম শেখকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার আগেই সকাল সাড়ে ৬টায় জসীম মারা যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল আলম জসীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুকে ও মাথায় মারাত্মক জখমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, চেয়ারম্যানের বাড়িতে জসীম শেখকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জসীমের ভাই বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন