হবিগঞ্জ স্টেডিয়াম এলাকা আবর্জনার ভাগাড়
jugantor
হবিগঞ্জ স্টেডিয়াম এলাকা আবর্জনার ভাগাড়

  সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দু’দফা জমি কিনেও নানা জটিলতায় থমকে আছে হবিগঞ্জ পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ। জমি কিনে দফায় দফায় চেষ্টা করে কয়েক বছরেও এটি নির্মাণ করা যায়নি। শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দা আর জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে তা থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কটি দুই লেন করার পরিকল্পনায় এটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পূর্বের কেনা জমিটিও এখন কাজে আসছে না। তাই আবারও জমি কেনা হয়েছে।

এদিকে ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পৌর এলাকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে আধুনিক স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায়। ফলে দুর্গন্ধে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বাইপাস সড়কটি। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালতসহ আশপাশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই স্থানীয়দের মাঝে।

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন কলি জানান, পৌরসভার ফেলা বর্জ্যে আধুনিক স্টেডিয়াম এলাকায় দুর্গন্ধময় পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিযোগিতা স্টেডিয়ামে আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি বলেন, তবে এবার নতুন পৌর পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবেন।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে কামড়াপুর-নসরতপুর বাইপাস সড়ক। এ সড়কের পাশেই শহরতলীর সুলতান মাহমুদপুর গ্রামসংলগ্ন আধুনিক স্টেডিয়াম। এর ঠিক উল্টো পাশে রয়েছে জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, দি রোজেস কেজি স্কুল, আনসার ভিডিপি কার্যালয়, শাহ এএমএস কিবরিয়া অডিটরিয়াম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আধুনিক স্টেডিয়াম এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যবর্তী বাইপাস সড়কের দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলায় বাইপাস সড়কের পার্শ্ববর্তী খাল ভরাট হয়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্পট স্থাপনের জন্য কয়েক বছর পূর্বে বানিয়াচং আতুকুড়ায় হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের পাশে ২ একর ২০ শতাংশ ভূমি ক্রয় করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণের আপত্তির কারণে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। গত পৌর পরিষদ রাস্তা থেকে ৫০০ ফিট ভেতরে আরও ৩ একর জমি নিয়ে ডাম্পিং স্টেশনের নকশা করে বানিয়াচং ভূমি অফিসে পাঠায়। এটি সেখান থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন হলেই ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে।

নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিম জানান, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা মানুষের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। তাই এ সমস্যা সমাধানের জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পটি তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়েছেন। এটি এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিসহ সবাই আন্তরিকতার সঙ্গেই সহযোগিতা করছেন। আশা করছি আগামী অর্থবছরেই এটি সমাধান করা সম্ভব হবে।

হবিগঞ্জ স্টেডিয়াম এলাকা আবর্জনার ভাগাড়

 সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দু’দফা জমি কিনেও নানা জটিলতায় থমকে আছে হবিগঞ্জ পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ। জমি কিনে দফায় দফায় চেষ্টা করে কয়েক বছরেও এটি নির্মাণ করা যায়নি। শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দা আর জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে তা থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কটি দুই লেন করার পরিকল্পনায় এটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পূর্বের কেনা জমিটিও এখন কাজে আসছে না। তাই আবারও জমি কেনা হয়েছে।

এদিকে ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পৌর এলাকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে আধুনিক স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায়। ফলে দুর্গন্ধে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বাইপাস সড়কটি। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালতসহ আশপাশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই স্থানীয়দের মাঝে।

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন কলি জানান, পৌরসভার ফেলা বর্জ্যে আধুনিক স্টেডিয়াম এলাকায় দুর্গন্ধময় পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিযোগিতা স্টেডিয়ামে আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি বলেন, তবে এবার নতুন পৌর পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবেন।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে কামড়াপুর-নসরতপুর বাইপাস সড়ক। এ সড়কের পাশেই শহরতলীর সুলতান মাহমুদপুর গ্রামসংলগ্ন আধুনিক স্টেডিয়াম। এর ঠিক উল্টো পাশে রয়েছে জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, দি রোজেস কেজি স্কুল, আনসার ভিডিপি কার্যালয়, শাহ এএমএস কিবরিয়া অডিটরিয়াম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আধুনিক স্টেডিয়াম এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যবর্তী বাইপাস সড়কের দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলায় বাইপাস সড়কের পার্শ্ববর্তী খাল ভরাট হয়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্পট স্থাপনের জন্য কয়েক বছর পূর্বে বানিয়াচং আতুকুড়ায় হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের পাশে ২ একর ২০ শতাংশ ভূমি ক্রয় করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণের আপত্তির কারণে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। গত পৌর পরিষদ রাস্তা থেকে ৫০০ ফিট ভেতরে আরও ৩ একর জমি নিয়ে ডাম্পিং স্টেশনের নকশা করে বানিয়াচং ভূমি অফিসে পাঠায়। এটি সেখান থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন হলেই ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে।

নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিম জানান, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা মানুষের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। তাই এ সমস্যা সমাধানের জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পটি তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়েছেন। এটি এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিসহ সবাই আন্তরিকতার সঙ্গেই সহযোগিতা করছেন। আশা করছি আগামী অর্থবছরেই এটি সমাধান করা সম্ভব হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন