নির্বাচনি প্রচারণায় সরগরম গুরুত্ব পাচ্ছে উন্নয়ন
jugantor
সিলেট-৩ আসন
নির্বাচনি প্রচারণায় সরগরম গুরুত্ব পাচ্ছে উন্নয়ন

  আজমল খান, সিলেট  

২০ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনি ডামাডোলে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে নৌকায় করে প্রত্যন্ত এলাকায় চলছে প্রচারণা। বর্ষার আকাশের চোখ রাঙানি আর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠ কাঁপাচ্ছেন প্রার্থীরা। কে কার আগে ভোটারদের কাছে পৌঁছাবেন, এ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণায় এগিয়ে। তাকে টপকে যেতে পারছেন না কেউই। প্রৌঢ় ও প্রাজ্ঞদের অতীত অভিজ্ঞতার দাওয়াই কোনো কাজে আসছে না। বক্তব্যেও কৌশলী হাবিব ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। ভোটের মাঠে তারুণ্যদীপ্ত বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন হাবিব। তরুণ ভোটাররাও তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে স্বাগত জানাচ্ছেন। নতুন প্রার্থী পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীরাও ভীষণ খুশি। এলাকার উন্নয়নে তারা পরিবর্তন চান। যে কোনো মূল্যে নির্বাচনি ফসল ঘরে তুলতে চান তারা। ফলে সব মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করছেন। সোমবার দিনভর বালাগঞ্জে ১১টি জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন হাবিব। এ ছাড়াও একাধিক পথসভা, গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেছেন গভীর রাত পর্যন্ত। হাবিব বর্তমান সরকারের গত এক যুগের বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন এবং স্থানীয়ভাবে যে সমস্যা বিরাজমান রয়েছে, নির্বাচনে জয়লাভ করলে এটি সমাধানেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। নানা কৌশলে ভোটারদের কাছ থেকে ভোটের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছেন। তরুণ নবীন কর্মঠ এই প্রার্থী বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সালাম পৌঁছে দিয়েই স্থানীয় সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন। ভোটাররাও সাড়া দিচ্ছেন, বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণরা দল বেঁধে নৌকার প্রার্থী হাবিবের পক্ষে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) শফি আহমদ চৌধুরী তার জীবনের শেষ নির্বাচনেও ঘাম ঝরাচ্ছেন। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে দুঃশাসনের কথা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিকও দলবল নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। গাড়ির উপর লাঙ্গল রেখে তার সমর্থকরা ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে প্রচারণা নিয়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ নেই। সবাই সমানতালে নির্বিঘ্নে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে এলাকার উন্নয়ন।

প্রার্থীরা এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটাররাও কৌশলী, তারা প্রার্থীদের ভালো-মন্দ ও অতীতের কর্মকাণ্ডকে নানাভাবে মূল্যায়ন করছেন। সিলেটে ইভিএমে প্রথম ভোট হওয়ায় ভোটারদের মাঝেও যুক্ত হয়েছে এক অন্যরকম আনন্দ। ২৮ জুলাই নির্বাচন, ২৬ জুলাই মক ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৪ জুলাই (শনিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ ১২ সদস্যের একটি টিম নিয়ে সিলেটে আসছেন। কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায়, এ নিয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দেবেন। ওইদিন আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হবেন। এদিকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৮ জুলাই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সিলেট-৩ আসন

নির্বাচনি প্রচারণায় সরগরম গুরুত্ব পাচ্ছে উন্নয়ন

 আজমল খান, সিলেট 
২০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনি ডামাডোলে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে নৌকায় করে প্রত্যন্ত এলাকায় চলছে প্রচারণা। বর্ষার আকাশের চোখ রাঙানি আর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠ কাঁপাচ্ছেন প্রার্থীরা। কে কার আগে ভোটারদের কাছে পৌঁছাবেন, এ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণায় এগিয়ে। তাকে টপকে যেতে পারছেন না কেউই। প্রৌঢ় ও প্রাজ্ঞদের অতীত অভিজ্ঞতার দাওয়াই কোনো কাজে আসছে না। বক্তব্যেও কৌশলী হাবিব ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিয়ে যাচ্ছেন। দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। ভোটের মাঠে তারুণ্যদীপ্ত বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন হাবিব। তরুণ ভোটাররাও তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে স্বাগত জানাচ্ছেন। নতুন প্রার্থী পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীরাও ভীষণ খুশি। এলাকার উন্নয়নে তারা পরিবর্তন চান। যে কোনো মূল্যে নির্বাচনি ফসল ঘরে তুলতে চান তারা। ফলে সব মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করছেন। সোমবার দিনভর বালাগঞ্জে ১১টি জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন হাবিব। এ ছাড়াও একাধিক পথসভা, গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেছেন গভীর রাত পর্যন্ত। হাবিব বর্তমান সরকারের গত এক যুগের বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন এবং স্থানীয়ভাবে যে সমস্যা বিরাজমান রয়েছে, নির্বাচনে জয়লাভ করলে এটি সমাধানেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। নানা কৌশলে ভোটারদের কাছ থেকে ভোটের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছেন। তরুণ নবীন কর্মঠ এই প্রার্থী বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সালাম পৌঁছে দিয়েই স্থানীয় সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন। ভোটাররাও সাড়া দিচ্ছেন, বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণরা দল বেঁধে নৌকার প্রার্থী হাবিবের পক্ষে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) শফি আহমদ চৌধুরী তার জীবনের শেষ নির্বাচনেও ঘাম ঝরাচ্ছেন। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে দুঃশাসনের কথা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিকও দলবল নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। গাড়ির উপর লাঙ্গল রেখে তার সমর্থকরা ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে প্রচারণা নিয়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ নেই। সবাই সমানতালে নির্বিঘ্নে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে এলাকার উন্নয়ন।

প্রার্থীরা এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটাররাও কৌশলী, তারা প্রার্থীদের ভালো-মন্দ ও অতীতের কর্মকাণ্ডকে নানাভাবে মূল্যায়ন করছেন। সিলেটে ইভিএমে প্রথম ভোট হওয়ায় ভোটারদের মাঝেও যুক্ত হয়েছে এক অন্যরকম আনন্দ। ২৮ জুলাই নির্বাচন, ২৬ জুলাই মক ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৪ জুলাই (শনিবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ ১২ সদস্যের একটি টিম নিয়ে সিলেটে আসছেন। কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায়, এ নিয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দেবেন। ওইদিন আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হবেন। এদিকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৮ জুলাই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন