গণটিকা সুরক্ষার পথ দেখাতে পারে
jugantor
রাজশাহীতে ঊর্ধ্বমুখী করোনা
গণটিকা সুরক্ষার পথ দেখাতে পারে

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

২৬ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কঠোর লকডাউন বা বিধিনিষেধ-কোনো কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না রাজশাহী অঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি। জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া বিভাগের বাকি ছয় জেলাতেই সংক্রমণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিধিনিষেধ ও লকডাউন চলমান থাকলেও করোনা নিয়ন্ত্রণে কার্যত তেমন কোনো ফল দেখা যাচ্ছে না। তাই এখন গণটিকাকরণ জরুরি। কারণ, যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারা আক্রান্ত হলেও তাদের অন্তত হাসপাতালে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না- এমনটাই বলছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, গণটিকাকরণ আমাদের করোনা থেকে সুরক্ষার পথ দেখাতে পারে।

জানা গেছে, শনিবার রাজশাহীতে ২৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগের দিন শুক্রবার শনাক্তের হার ছিল ৬৬ শতাংশ। ২২ জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২১ জুলাই ছিল ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট শনাক্ত ২০ হাজার ১৮৯ জন। রোববার পর্যন্ত জেলায় আট হাজার ৮১৯ জন রোগী হাসপাতালে ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে রোববার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, করোনা শুরুর পর থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় এক হাজার ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৪ জনই রাজশাহীর বাসিন্দা।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, রাজশাহীতে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও বেড়েছে বিভাগের বগুড়া জেলায়। শনিবার এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। এদের মধ্যে দুজন ছাড়া সবাই বগুড়ার বাসিন্দা। করোনা শুরুর পর থেকে এ জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪১ জনে। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৭৫৬ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, বিভাগের মধ্যে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলায় সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে। এ দুটি জেলায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছেন ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার। তিনি জানান, নাটোরের গড় সংক্রমণ ২৫ শতাংশের উপরে। নাটোরে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। একইভাবে পাবনায় সংক্রমণের গড় হার ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সিরাজগঞ্জে ৪১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. তারাপদ রায় বলেন, ঈদের আগে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে এলেও ঈদের পর থেকে কিছুটা উর্ধ্বমুখী।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, শনিবার বগুড়ায় ৩৪৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭১ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। আর বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এক হাজার ৯৯৮ জন। ঈদের একদিন পর থেকেই বগুড়ায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, রাজশাহী বিভাগের সর্বত্রই দ্বিতীয় দফায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও গণটিকা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের জন্যও প্রয়োজনীয় টিকা চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। টিকা আসতে শুরু করেছে। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি টিকাকরণকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। গণটিকাকরণ সম্ভব হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে-এতে আমরা খুবই আশাবাদী।

রাজশাহীতে ঊর্ধ্বমুখী করোনা

গণটিকা সুরক্ষার পথ দেখাতে পারে

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
২৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কঠোর লকডাউন বা বিধিনিষেধ-কোনো কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না রাজশাহী অঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি। জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া বিভাগের বাকি ছয় জেলাতেই সংক্রমণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিধিনিষেধ ও লকডাউন চলমান থাকলেও করোনা নিয়ন্ত্রণে কার্যত তেমন কোনো ফল দেখা যাচ্ছে না। তাই এখন গণটিকাকরণ জরুরি। কারণ, যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারা আক্রান্ত হলেও তাদের অন্তত হাসপাতালে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না- এমনটাই বলছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, গণটিকাকরণ আমাদের করোনা থেকে সুরক্ষার পথ দেখাতে পারে।

জানা গেছে, শনিবার রাজশাহীতে ২৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগের দিন শুক্রবার শনাক্তের হার ছিল ৬৬ শতাংশ। ২২ জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২১ জুলাই ছিল ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট শনাক্ত ২০ হাজার ১৮৯ জন। রোববার পর্যন্ত জেলায় আট হাজার ৮১৯ জন রোগী হাসপাতালে ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে রোববার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, করোনা শুরুর পর থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় এক হাজার ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৪ জনই রাজশাহীর বাসিন্দা।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, রাজশাহীতে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও বেড়েছে বিভাগের বগুড়া জেলায়। শনিবার এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। এদের মধ্যে দুজন ছাড়া সবাই বগুড়ার বাসিন্দা। করোনা শুরুর পর থেকে এ জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৪১ জনে। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৭৫৬ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, বিভাগের মধ্যে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলায় সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে। এ দুটি জেলায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানিয়েছেন ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার। তিনি জানান, নাটোরের গড় সংক্রমণ ২৫ শতাংশের উপরে। নাটোরে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। একইভাবে পাবনায় সংক্রমণের গড় হার ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সিরাজগঞ্জে ৪১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. তারাপদ রায় বলেন, ঈদের আগে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে এলেও ঈদের পর থেকে কিছুটা উর্ধ্বমুখী।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, শনিবার বগুড়ায় ৩৪৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৭১ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। আর বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এক হাজার ৯৯৮ জন। ঈদের একদিন পর থেকেই বগুড়ায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, রাজশাহী বিভাগের সর্বত্রই দ্বিতীয় দফায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও গণটিকা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের জন্যও প্রয়োজনীয় টিকা চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। টিকা আসতে শুরু করেছে। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি টিকাকরণকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। গণটিকাকরণ সম্ভব হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে-এতে আমরা খুবই আশাবাদী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন