চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর প্রচণ্ড চাপ
jugantor
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর প্রচণ্ড চাপ
দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি

  মির্জা জাকির, চাঁদপুর  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ বেড়েছে চাঁদপুর আড়াইশ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে। চাপ সামলাতে তৃতীয়তলায় নতুন করোনা ওয়ার্ড চালু করা হলেও সেখানে শয্যা খালি নেই। রোগী ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দিন যতই গড়াচ্ছে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

চাপ সামাল দিতে হিমশিম হাসপাতালসংশ্লিষ্টরা। এক কথায় এ জেলায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন বেড ৬০ থেকে ১২০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও রোগীর চাপে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গলদঘর্ম।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ১১৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ১৫৮ জন। তবে সদর হাসপাতালের বাইরে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে এ জেলার মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা শতাধিক বলে জানা যায়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দুই সহস াধিক বলে জানা যায়।

এদিকে রোগীর চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুরে করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের দিন থেকে হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম জানান, ‘অক্সিজেন সংকট তেমন বেশি না, মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। রোগী বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই থেকে আবুল খায়ের গ্রুপ অক্সিজেন দিচ্ছে। এছাড়া কুমিল্লা থেকে প্রতিদিনই অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে আনা হচ্ছে। এরপরও সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সংকট কিছু সময়ের জন্য হলেও তা খুব বেশি নয়। হাসপাতালে বর্তমানে ২৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে ১৮০টি বড় এবং ৬০টি ছোট সিলিন্ডার।’ তিনি আরও জানান, স্পেকট্রার মাধ্যমে নির্মিত চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট পুরোপুরি প্রস্তুত। লিকুইড অক্সিজেন আসতে দেরি হওয়ায় তা চালু করা যাচ্ছে না। সারা দেশের ৩০টি লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট এখনো চালু করা যায়নি। অক্সিজেন পেলে এগুলো চালু হবে। তবে খুব দ্রুত এটি চালু হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের করোনাবিষয়ক ফোকালপার্সন ও আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে ৪০ জন করোনা পজিটিভ নিয়ে এখানে ভর্তি হচ্ছে। তাছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০ রোগী এখানে আসছে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এখন গড়ে ৪শ’র ওপর নমুনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি যারা করোনা আক্রান্ত তাদের হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করবে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাবে, টিকাদান কাজে সহায়তা করবে। সার্বিকভাবে তারা করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে। চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, উপজেলা হাসপাতালে করোনা বেড থাকার পরও সেসব এলাকার রোগীরা জেলা সদরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালমুখী হচ্ছে। অথচ জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীর যাবতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও মানুষজন বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা হাসপাতালে করোনার নমুনা টেস্ট করতে আসছে। স্ব-স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা নমুনা টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে ৩০ মিনিটের মধ্যে তার রিপোর্টও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতির দিন দিনই অবনতি হচ্ছে।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর প্রচণ্ড চাপ

দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি
 মির্জা জাকির, চাঁদপুর 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ বেড়েছে চাঁদপুর আড়াইশ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে। চাপ সামলাতে তৃতীয়তলায় নতুন করোনা ওয়ার্ড চালু করা হলেও সেখানে শয্যা খালি নেই। রোগী ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দিন যতই গড়াচ্ছে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

চাপ সামাল দিতে হিমশিম হাসপাতালসংশ্লিষ্টরা। এক কথায় এ জেলায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন বেড ৬০ থেকে ১২০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও রোগীর চাপে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গলদঘর্ম।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ১১৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ১৫৮ জন। তবে সদর হাসপাতালের বাইরে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে এ জেলার মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা শতাধিক বলে জানা যায়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দুই সহস াধিক বলে জানা যায়।

এদিকে রোগীর চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুরে করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। ঈদের দিন থেকে হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম জানান, ‘অক্সিজেন সংকট তেমন বেশি না, মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। রোগী বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই থেকে আবুল খায়ের গ্রুপ অক্সিজেন দিচ্ছে। এছাড়া কুমিল্লা থেকে প্রতিদিনই অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে আনা হচ্ছে। এরপরও সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। অক্সিজেন সংকট কিছু সময়ের জন্য হলেও তা খুব বেশি নয়। হাসপাতালে বর্তমানে ২৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে ১৮০টি বড় এবং ৬০টি ছোট সিলিন্ডার।’ তিনি আরও জানান, স্পেকট্রার মাধ্যমে নির্মিত চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট পুরোপুরি প্রস্তুত। লিকুইড অক্সিজেন আসতে দেরি হওয়ায় তা চালু করা যাচ্ছে না। সারা দেশের ৩০টি লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট এখনো চালু করা যায়নি। অক্সিজেন পেলে এগুলো চালু হবে। তবে খুব দ্রুত এটি চালু হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের করোনাবিষয়ক ফোকালপার্সন ও আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে ৪০ জন করোনা পজিটিভ নিয়ে এখানে ভর্তি হচ্ছে। তাছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০ রোগী এখানে আসছে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এখন গড়ে ৪শ’র ওপর নমুনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি যারা করোনা আক্রান্ত তাদের হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করবে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাবে, টিকাদান কাজে সহায়তা করবে। সার্বিকভাবে তারা করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করবে। চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, উপজেলা হাসপাতালে করোনা বেড থাকার পরও সেসব এলাকার রোগীরা জেলা সদরে ২৫০ শয্যা হাসপাতালমুখী হচ্ছে। অথচ জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীর যাবতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও মানুষজন বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা হাসপাতালে করোনার নমুনা টেস্ট করতে আসছে। স্ব-স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা নমুনা টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে ৩০ মিনিটের মধ্যে তার রিপোর্টও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতির দিন দিনই অবনতি হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন