নির্মাণ কাজ চলছে অনুমোদন ছাড়াই
jugantor
কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু
নির্মাণ কাজ চলছে অনুমোদন ছাড়াই
নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালকের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন

  যশোর ব্যুরো  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ছয় লেনের সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের গেজেটও মানা হয়নি।

বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শনে এসে নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন এ মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নদের পানি থেকে সেতুর উচ্চতা মেপে দেখেছি। যেখানে সর্বনিম্ন উচ্চতা থাকার কথা কুড়ি ফুট, সেখানে আছে ১৫ ফুট।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র লিখে জানাব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডেপুটি প্রকল্প ম্যানেজার সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, ডিআরই কনসালট্যান্ট আহম্মদ আলী প্রমুখ। এদিনই যুগান্তরের শেষের পাতায় ‘কপোতাক্ষ নদে ৬ লেনের সেতু : নকশায় ত্রুটিতে প্রকল্পের সুফল নিয়ে সংশয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেখানে নকশায় ত্রুটি ও নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতোমধ্যে সেতুর একাংশের নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্মিত গার্ডার নদের তলদেশ ছুঁইছুঁই অবস্থা। অল্প পানিতেই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নকশায় সেতুটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে কপোতাক্ষ নদকে গলাটিপে হত্যা করা হবে। হুমকির মুখে পড়বে নৌ-চলাচল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ।

জানতে চাইলে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সালে যখন সেতুর নকশা করা হয় তখন বিআইডব্লিউটিএর গেজেট ছিল না। দাতা সংস্থা জাইকা পরামর্শক নিয়োগ করে নৌযান চলাচলের বিষয়ে গাইডলাইন নিয়ে প্রকল্পের নকশা তৈরি করেছে। পরে বিআইডব্লিউটিএ গেজেট প্রকাশ করে। জানা যায়, দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই মহাসড়ক। এটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে। এ সড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর অর্ধশত বছর আগে নির্মিত সরু সেতুটি ছিল এ পথের বিড়ম্বনা। দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ছয় লেনের সেতুটির নির্মাণ চলছে। ইতোমধ্যে সেতুর একাংশের কাজ শেষ হয়েছে।

শিগগিরই অপর পাশের কাজ শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো এবং ডেনকো। সেতুর নির্মাণকাজে হতাশ এলাকাবাসী। পুরাতন সরু সেতুর নিচ অংশ বা তলদেশ কখনো নদের পানি স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ, বৃষ্টিতে নদে পানি সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণাধীন সেতুর নিচের অংশ বা তলদেশ স্পর্শ করতে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু অনেক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর কারণে কপোতাক্ষ নদ আরও মরে গেল।

নতুন সেতু আমাদের আশাহত করেছে। সেতুর নকশা ঠিক হয়নি। কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, নদীর উপর সেতু করতে হলে অবশ্যই বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুমোদন করতে হয়। কিন্তু ভুল নকশায় সওজ ব্রিজ নির্মাণ করছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। ব্রিজটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে।

কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু

নির্মাণ কাজ চলছে অনুমোদন ছাড়াই

নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালকের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন
 যশোর ব্যুরো 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ছয় লেনের সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের গেজেটও মানা হয়নি।

বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শনে এসে নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পশ্চিম শাখার যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন এ মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নদের পানি থেকে সেতুর উচ্চতা মেপে দেখেছি। যেখানে সর্বনিম্ন উচ্চতা থাকার কথা কুড়ি ফুট, সেখানে আছে ১৫ ফুট।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র লিখে জানাব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডেপুটি প্রকল্প ম্যানেজার সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, ডিআরই কনসালট্যান্ট আহম্মদ আলী প্রমুখ। এদিনই যুগান্তরের শেষের পাতায় ‘কপোতাক্ষ নদে ৬ লেনের সেতু : নকশায় ত্রুটিতে প্রকল্পের সুফল নিয়ে সংশয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেখানে নকশায় ত্রুটি ও নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইতোমধ্যে সেতুর একাংশের নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্মিত গার্ডার নদের তলদেশ ছুঁইছুঁই অবস্থা। অল্প পানিতেই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নকশায় সেতুটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে কপোতাক্ষ নদকে গলাটিপে হত্যা করা হবে। হুমকির মুখে পড়বে নৌ-চলাচল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ।

জানতে চাইলে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সালে যখন সেতুর নকশা করা হয় তখন বিআইডব্লিউটিএর গেজেট ছিল না। দাতা সংস্থা জাইকা পরামর্শক নিয়োগ করে নৌযান চলাচলের বিষয়ে গাইডলাইন নিয়ে প্রকল্পের নকশা তৈরি করেছে। পরে বিআইডব্লিউটিএ গেজেট প্রকাশ করে। জানা যায়, দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই মহাসড়ক। এটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে। এ সড়কের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর অর্ধশত বছর আগে নির্মিত সরু সেতুটি ছিল এ পথের বিড়ম্বনা। দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ছয় লেনের সেতুটির নির্মাণ চলছে। ইতোমধ্যে সেতুর একাংশের কাজ শেষ হয়েছে।

শিগগিরই অপর পাশের কাজ শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনিকো এবং ডেনকো। সেতুর নির্মাণকাজে হতাশ এলাকাবাসী। পুরাতন সরু সেতুর নিচ অংশ বা তলদেশ কখনো নদের পানি স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ, বৃষ্টিতে নদে পানি সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণাধীন সেতুর নিচের অংশ বা তলদেশ স্পর্শ করতে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু অনেক নিচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর কারণে কপোতাক্ষ নদ আরও মরে গেল।

নতুন সেতু আমাদের আশাহত করেছে। সেতুর নকশা ঠিক হয়নি। কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, নদীর উপর সেতু করতে হলে অবশ্যই বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুমোদন করতে হয়। কিন্তু ভুল নকশায় সওজ ব্রিজ নির্মাণ করছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। ব্রিজটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন