কেরানীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের হাতে মা খুন

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেরানীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কদমতলী মডেল টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক পুত্র তাইজুল ইসলাম শাওনকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। নিহতের নাম সাহিদা বেগম (৫০)। তার ৩ ছেলের মধ্যে শাওন সবার ছোট। এ ঘটনায় নিহতের মেজ ছেলে জাকারিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

জানা গেছে, নিহত সাহিদা বেগম পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদের সোহাগদল এলাকার হাজী মো. ফজলুল হকের স্ত্রী। কেরানীগঞ্জের আগানগর থানাঘাট এলাকায় কাঠের ব্যবসা রয়েছে তার। ৩ ছেলে ওই ব্যবসা দেখাশোনা করে। স্ত্রীসহ তিনি পিরোজপুরে থাকেন। নিহতের মেজ ছেলে জাকারিয়া জানান, তার ছোট ভাই শাওন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে শাওনের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে শাওন বেঁঁচে যায়। এরপর থেকে মাঝে মাঝে তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। কয়েক মাস ধরে পাগলামী বেড়ে যায়। ঝাড়, ফুক, কবিরাজি, তাবিজ, ওষুধ, ডাক্তার সবকিছুই করা হয়েছে। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। মা সাহিদা বেগম ছেলের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় মডেল টাউনে জাকারিয়ার বাসায় আসেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা শুয়ে পড়ে। এ সময় জাকারিয়া জরুরি কাজে গুলিস্তান ছিলেন। অপর রুমে জাকারিয়ার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর শাশুড়ির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ওই রুমের কাছে গেলে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। এক সময় তার শাশুড়ির কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি জাকারিয়াকে বিষয়টি জানান। পরে জাকারিয়া থানায় গিয়ে পুলিশ নিয়ে বাসায় আসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই ওবায়দুর রহমান জানান, পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। এ সময় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সাহিদার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। লাশের পাশে রক্তাক্ত ছুরি নিয়ে বসেছিল শাওন। তবে খুব সহজে তাকে আটক করা যাচ্ছিল না। ছুরি নিয়ে হামলার ভয় দেখাচ্ছিল। হাতে কাঁথা-বালিশ নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় শাওনের কামড়ে এক কনস্টেবলের হাত জখম হয়। আরও জানান, ঘরে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গিয়ে দেখা যায়, হাজতখানায় বারান্দার শিকের সঙ্গে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে শাওনকে। দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো। এ সময় হাজতখানার দায়িত্ব থাকা কনস্টেবল বলেন, এই আসামি খালি কামড়ায় আর উল্টাপাল্টা কথা বলে। ওর কামড়ে আমাদের এক কনস্টেবল আহত হয়েছে। হাজতখানায় অন্য আসামিরা আছে। তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওকে বারান্দায় বেঁধে রাখা হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.