চার বছর পর লাইজুর লাশ হস্তান্তর

ডোমারে স্বামী লাজুর কবরের পাশে দাফন

  ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ধর্মান্তরিত হোসনে আরা বেগম লাইজুর (নীপা রানী রায়) লাশ চার বছর পর তার স্বামীর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শ্বশুর জহুরুল ইসলামের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে রংপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ শ্বশুরবাড়ি ডোমারের বোড়াগাড়ি গ্রামে নেয়া হয়। জানাজা শেষে বিকালে স্বামী হুমায়ুন কবির লাজুর কবরের পাশে লাইজুর লাশ দাফন করা হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশনামা নিয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার নেতৃত্বে ডোমার থানার পুলিশ এবং লাইজুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাজির হলে লাইজুর লাশ হস্তান্তর করেন হাসপাতালের পরিচালক ড. অজয় কুমার। ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ ইসলামী শরিয়াহ রীতি অনুযায়ী লাইজুর মরদেহ দাফনের আদেশ দেন। পাশাপাশি রায়ের কপি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে নীলফামারী জেলা প্রশাসককে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দাফন করতে বলা হয়। দাফনের আগে লাইজুর (নিপা) বাবা ও তার পরিবারকে শেষবারের মতো তার মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়ারও আদেশ দেন হাইকোর্ট।

ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নিপা ও পাশের বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের লাজুর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিপা নতুন নাম হোসনে আরা বেগম লাইজু গ্রহণ করেন। ওইদিনই তারা বিয়ে করেন। কিন্তু এর তিন দিন পর নিপার বাবা জেলা আদালতে লাজুর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। বিয়ের কাগজপত্র আদালতে হাজির করা হলে এবং নিপা জবানবন্দি দিলে মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর মেয়েকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে আপিল করেন অক্ষয়। তখন আদালত আবেদন আমলে নিয়ে মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহীর সেফহোমে পাঠিয়ে দেন।

২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি লাজু বিষপানে আত্মহত্যা করেন। স্বামীর মৃত্যুর সংবাদে তার লাশ দেখতে আসা নিপাকে (লাইজু) তার বাবা চালাকি করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় এবং আটকে রাখেন। ২০১৪ সালের ১০ মার্চ নিপা বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এরপর পুত্রবধূর লাশের সৎকার ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী করতে চান লাজুর বাবা জহুরুল ইসলাম। অপরদিকে অক্ষয় কুমার রায় হিন্দুশাস্ত্র মতে নিপার লাশের সৎকার করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর লাইজুর লাশ ইসলাম ধর্মমতে দাফনের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা জানান, আদালতের নির্দেশে প্রশাসন ও সবার উপস্থিতিতে লাইজুর লাশ দাফন করা হয়েছে। দাফনের সময় ডোমার থানা ইনচার্জ মো. মোকছেদ আলী, ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিলসহ এলাকার গন্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.