হেফাজতের তাণ্ডবের ৫ বছর

৫৪ মামলা ডিপ ফ্রিজে

  হাসিব বিন শহিদ ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ৫ মে। হেফাজতের তাণ্ডবের পাঁচ বছর পূর্তি। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তাণ্ডব চলে। মতিঝিল ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের বুথে আগুন দেয়া হয়। কেটে ফেলা হয় রাস্তার মাঝের শত শত গাছ। পল্টনের ফুটপাতের শত শত বইয়ের দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে ইসলামী বইয়ের দোকানও ছিল। ওইদিন মতিঝিল ছাড়াও দেশের কয়েকটি স্থানে সহিংসতা হয়। এসব ঘটনায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশে ৭০টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ১৬টি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হলেও সেগুলোর বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আর ৫৪টি মামলা এখনও ডিপ ফ্রিজে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫৪টি মামলাগুলোর তদন্তে একেবারেই অগ্রগতি নেই। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে তাও কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, মামলার মূল আসামিদের কারও কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তারা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন যুগান্তরকে বলেন, ‘হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা অনেক মামলার তদন্ত শেষ করে এরই মধ্যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই চার্জশিট দেয়া হবে।’

জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘এ দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গেড়ে বসেছে। তাই হেফাজতের তাণ্ডবের বিচার না হওয়ায় আমি মোটেও আশ্চর্য হইনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের দিন মতিঝিলসহ আশপাশে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এদিন নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানেও তাণ্ডব চলে। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ভাংচুর ও আগুন দেয়ার একপর্যায়ে হেফাজত কর্মীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। তবে রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের মতিঝিল থেকে তাড়িয়ে দেয়। সমাবেশের পরবর্তী সময়ে বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওই অভিযানে ৬১ জন হেফাজত কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে পরে প্রমাণিত হয় ওই তালিকা ভুয়া। পুলিশ অধিকারের ওই তালিকার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওই দিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রাজধানীতে ১৩ জন নিহত হন। হেফাজতের পক্ষ থেকে তাদের কর্মী নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি। এমনি সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো মামলাও করা হয়নি। ওই দিনের ঘটনায় দায়ের রাজধানীর ৫৩টি মামলার মধ্যে রমনা থানায় ৩টি, শাহবাগ থানায় ৪টি, কলাবাগান থানায় ২টি, শেরেবাংলা নগর থানায় ১টি, মতিঝিল থানায় ৬টি, পল্টন থানায় ৩৩টি, রামপুরা থানায় ১টি ও যাত্রাবাড়ী থানায় ৩টি মামলা হয়। এতে হেফাজতের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক হাজার জনকে আসামি করা হয়। রাজধানীতে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে রমনা থানার ১টি, শাহবাগ থানার ১টি ও কলাবাগান থানার ২টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ৯টি মামলার মধ্যে ৭টি মামলায় চার্জশিট হয়নি। চট্টগ্রামের ৩টি মামলা তদন্তাধীন ও বাগেরহাটের ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ঢাকার সব মামলাতেই হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে প্রধান আসামি করা হয়।

এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী এবং যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মামলার আসামি করা হয়। তবে কোনো মামলাতেই হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে আসামি করা হয়নি।

অপরদিকে হেফাজতের ওই সমাবেশের আগে ২০১৩ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি শাহবাগ থানায় দায়ের করা এক বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে গত ৫ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। অধ্যাবধি পরোয়ানাভুক্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, আদালত বিস্ফোরক মামলায় হেফাজতের নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এখন ওই আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপনের দায়িত্ব পুলিশের।

জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনায় আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আইনগতভাবে মোকাবেলা করছি। ভবিষ্যতেও তাই করব। সেদিন আমাদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা হয়েছিল। তাই আমরা মনে করি আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো অযৌক্তিকভাবে করা হয়েছে। তাই মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি করছি।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.