টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ
jugantor
টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

  যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মালতীপাড়া, গয়রাগাছা, গন্ধবপুর, কাজী বাজার এলাকার যমুনা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকালে হুগড়া ইউনিয়নের সব স্তরের জনগণের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ কেন্দ্র করে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিঞ্জু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, ছিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাদেক আলী।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আসা আশরাফ আলী বলেন, আমি ৬০ বছর নৌকাবাইচ দেখি। নৌকাবাইচের খবর শুনলে আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। আজকেও পাঁচ শতাধিক টাকা খরচ করে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগল। গয়রাগাছা গ্রামের কবির মিয়া বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে যেমন বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসে। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করেও ঠিক তেমন আত্মীয়স্বজন এসেছে। সবাই নৌকাবাইচের অপেক্ষায় থাকে। নৌকাবাইচে আমরা অনেক আনন্দ উপভোগ করলাম। হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হচ্ছে নৌকাবাইচ। বর্ষাকালে চরাঞ্চলের মানুষকে একটু আনন্দ দিতেই প্রতি বছর এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।

একদিন হলেও গ্রামের মানুষ অনেক উপভোগ করে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হয়। প্রাচীনকাল থেকেই বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ একটু বিনোদনের জন্য নৌকাবাইচের আয়োজন করেছে। সুন্দর একটি পরিবেশে নৌকাবাইচ দেখে অনেক ভালো লাগল। টাঙ্গাইলের বাইরেও আশপাশের আরও পাঁচ ছয়টি জেলা থেকে নৌকাবাইচে অংশ নিতে এবং বাইচ দেখতে এসেছে অনেক মানুষ। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে যমুনা নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম আলো, সোনার বাংলা, সোনারতরী, যমুনারতরীসহ বিভিন্ন রং-বেরঙের ৪৫টি নৌকা অংশ নেয়। এদের মধ্যে ভূঞাপুরের সোনারতরী প্রথম হয়েছে।

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

 যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মালতীপাড়া, গয়রাগাছা, গন্ধবপুর, কাজী বাজার এলাকার যমুনা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকালে হুগড়া ইউনিয়নের সব স্তরের জনগণের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ কেন্দ্র করে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিঞ্জু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, ছিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাদেক আলী।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আসা আশরাফ আলী বলেন, আমি ৬০ বছর নৌকাবাইচ দেখি। নৌকাবাইচের খবর শুনলে আর ঘরে বসে থাকতে পারি না। আজকেও পাঁচ শতাধিক টাকা খরচ করে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগল। গয়রাগাছা গ্রামের কবির মিয়া বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে যেমন বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসে। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করেও ঠিক তেমন আত্মীয়স্বজন এসেছে। সবাই নৌকাবাইচের অপেক্ষায় থাকে। নৌকাবাইচে আমরা অনেক আনন্দ উপভোগ করলাম। হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হচ্ছে নৌকাবাইচ। বর্ষাকালে চরাঞ্চলের মানুষকে একটু আনন্দ দিতেই প্রতি বছর এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।

একদিন হলেও গ্রামের মানুষ অনেক উপভোগ করে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হয়। প্রাচীনকাল থেকেই বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ একটু বিনোদনের জন্য নৌকাবাইচের আয়োজন করেছে। সুন্দর একটি পরিবেশে নৌকাবাইচ দেখে অনেক ভালো লাগল। টাঙ্গাইলের বাইরেও আশপাশের আরও পাঁচ ছয়টি জেলা থেকে নৌকাবাইচে অংশ নিতে এবং বাইচ দেখতে এসেছে অনেক মানুষ। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে যমুনা নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম আলো, সোনার বাংলা, সোনারতরী, যমুনারতরীসহ বিভিন্ন রং-বেরঙের ৪৫টি নৌকা অংশ নেয়। এদের মধ্যে ভূঞাপুরের সোনারতরী প্রথম হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন