ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
jugantor
অনুমোদনহীন ক্ষুদ্রঋণ
ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে যেসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণের কারবার করছে, সেসব বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ভার্চুয়াল বেঞ্চে সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন। সেখানে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন ক্ষুদ্রঋণের কারবার নিয়ে তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

তদন্তের সময় যদি অননুমোদিত বা লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কারবারি সমবায় বা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সুদ কারবারিদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রিট মামলার বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৩০ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ২৮ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে তিনি রিট আবেদনটি করেন।

এতে মহাজনদের উচ্চহারে অনানুষ্ঠানিক ঋণপ্রথা নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত সোমবার আবেদনে সংশোধন এনে রুলসহ আদেশ দেন। লাইসেন্স এবং অনুমোদন ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কারবারি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে বিবাদীদের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে দেশে কারা চড়া সুদের ব্যবসা করছে, কীভাবে ব্যবসা করছে, সে তথ্য-উপাত্ত আদালতে তুলে ধরেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনকে ক্ষদ্রঋণের সনদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সনদ বাতিল করা হয়েছে।

শুনানিতে সুমনের বক্তব্য ছিল, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষদ্রঋণের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ছাড়া আর করও সুদের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কিন্তু সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেদার উচ্চহারে সুদের ব্যবসা চলছে। আর এর শিকার হচ্ছেন নিু আয়ের মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এমনকি মধ্যবিত্তও। শুনানি শেষে আদালত ২৭ সেপ্টেম্বর (গতকাল) আদেশের জন্য রাখেন।

অনুমোদনহীন ক্ষুদ্রঋণ

ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে যেসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণের কারবার করছে, সেসব বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ভার্চুয়াল বেঞ্চে সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন। সেখানে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন ক্ষুদ্রঋণের কারবার নিয়ে তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

তদন্তের সময় যদি অননুমোদিত বা লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কারবারি সমবায় বা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সুদ কারবারিদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রিট মামলার বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৩০ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ২৮ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে তিনি রিট আবেদনটি করেন।

এতে মহাজনদের উচ্চহারে অনানুষ্ঠানিক ঋণপ্রথা নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত সোমবার আবেদনে সংশোধন এনে রুলসহ আদেশ দেন। লাইসেন্স এবং অনুমোদন ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কারবারি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে বিবাদীদের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে দেশে কারা চড়া সুদের ব্যবসা করছে, কীভাবে ব্যবসা করছে, সে তথ্য-উপাত্ত আদালতে তুলে ধরেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনকে ক্ষদ্রঋণের সনদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সনদ বাতিল করা হয়েছে।

শুনানিতে সুমনের বক্তব্য ছিল, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষদ্রঋণের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ছাড়া আর করও সুদের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কিন্তু সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেদার উচ্চহারে সুদের ব্যবসা চলছে। আর এর শিকার হচ্ছেন নিু আয়ের মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এমনকি মধ্যবিত্তও। শুনানি শেষে আদালত ২৭ সেপ্টেম্বর (গতকাল) আদেশের জন্য রাখেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন