দ. এশিয়াতে প্রধানমন্ত্রীর মতো রাজনীতিবিদ নেই: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
jugantor
দ. এশিয়াতে প্রধানমন্ত্রীর মতো রাজনীতিবিদ নেই: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
দশ বছর আগেও কেউ চিন্তা করেনি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলবে, মেট্রোরেলে মানুষ চড়বে-সাইফুল আলম

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমমানের রাজনীতিবিদ দক্ষিণ এশিয়াতে নেই। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সাফল্যকে ধরে রাখতে হলে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। কোনো অবস্থায় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা : নেতৃত্ব, মানবিকতা ও দূরদৃষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমদ, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ও কলামিস্ট ডা. মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুষ্টিয়া) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী এবং সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট ও ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী যে উচ্চতা ও দূরদর্শিতা প্রমাণ করেছেন, তা আগে কেউ পারেননি। বিশেষ করে আগের কোনো সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পরিপূর্ণ হয়নি। তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কোনো দূরদর্শী চিন্তাও ছিল না। আওয়ামী লীগ ’৯৬-তে ক্ষমতায় এসে ’৯৭ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিল। আগের পরিকল্পনা সংস্কার করলেন। শুরুতেই প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দিলেন। মুদ্রাস্ফীতি কমালেন, খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়লেন। বড় বড় বন্যা মোকাবিলা, শান্তি চুক্তি, বয়স্কভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা চালু করেছেন। ২০০২-০৯ পর্যন্ত কোনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল না।

ড. শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনামাফিক দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রূপকল্প-২১-এ থেমে নেই, হাতে নিয়েছি রূপকল্প-৪১। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে এগিয়ে। মাতৃ মৃত্যুহার কম, শিশু মৃত্যুহার কম, নারী ক্ষমতায়নে এগিয়ে। এমডিজি লক্ষ্য পূরণ করে ১২টি পুরস্কার পেয়েছি। এমডিজির ২১টি লক্ষ্যের মধ্যে ২০টি পূর্ণ করেছি। এসডিজি ২০৩০-এর মধ্যে অর্জন করব। সেক্ষেত্রে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছি এবং কাজ করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য ধরে রাখতে হলে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। তিনি কেবিনেট সদস্যদের বিচারের আওতায় এনেছেন। শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ দূর করতে হবে। সামাজিকভাবে প্রচারণার মধ্য দিয়ে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে রুখতে হবে। রাজনৈতিক উগ্রবাদিতা পরিহার করতে হবে। জনগণের মাঝে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, দল যেন জনগণের সহানুভূতি না হারায়।

যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হবে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব-এই আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় আসার পর ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। শান্তি চুক্তি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে রেমিটেন্স-রিজার্র্ভ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দশ বছর আগেও কেউ চিন্তা করেনি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলবে, মেট্রোরেলে মানুষ চড়বে। এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সফলতা এবং ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এসব কাজ সহজ ছিল না। এজন্য বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, গ্রেনেড মেরেছে। সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বহু ভাতা চালু করেছেন। এখানেই তার মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তাই তিনি এক সভায় ছাত্রদের মাঝে খাতা-কলম বিতরণ করেছিলেন।

দ. এশিয়াতে প্রধানমন্ত্রীর মতো রাজনীতিবিদ নেই: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

দশ বছর আগেও কেউ চিন্তা করেনি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলবে, মেট্রোরেলে মানুষ চড়বে-সাইফুল আলম
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমমানের রাজনীতিবিদ দক্ষিণ এশিয়াতে নেই। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সাফল্যকে ধরে রাখতে হলে শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। কোনো অবস্থায় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা : নেতৃত্ব, মানবিকতা ও দূরদৃষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমদ, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ও কলামিস্ট ডা. মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুষ্টিয়া) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী এবং সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট ও ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী যে উচ্চতা ও দূরদর্শিতা প্রমাণ করেছেন, তা আগে কেউ পারেননি। বিশেষ করে আগের কোনো সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পরিপূর্ণ হয়নি। তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কোনো দূরদর্শী চিন্তাও ছিল না। আওয়ামী লীগ ’৯৬-তে ক্ষমতায় এসে ’৯৭ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিল। আগের পরিকল্পনা সংস্কার করলেন। শুরুতেই প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দিলেন। মুদ্রাস্ফীতি কমালেন, খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়লেন। বড় বড় বন্যা মোকাবিলা, শান্তি চুক্তি, বয়স্কভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা চালু করেছেন। ২০০২-০৯ পর্যন্ত কোনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল না।

ড. শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনামাফিক দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রূপকল্প-২১-এ থেমে নেই, হাতে নিয়েছি রূপকল্প-৪১। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে এগিয়ে। মাতৃ মৃত্যুহার কম, শিশু মৃত্যুহার কম, নারী ক্ষমতায়নে এগিয়ে। এমডিজি লক্ষ্য পূরণ করে ১২টি পুরস্কার পেয়েছি। এমডিজির ২১টি লক্ষ্যের মধ্যে ২০টি পূর্ণ করেছি। এসডিজি ২০৩০-এর মধ্যে অর্জন করব। সেক্ষেত্রে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছি এবং কাজ করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য ধরে রাখতে হলে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। তিনি কেবিনেট সদস্যদের বিচারের আওতায় এনেছেন। শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ দূর করতে হবে। সামাজিকভাবে প্রচারণার মধ্য দিয়ে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে রুখতে হবে। রাজনৈতিক উগ্রবাদিতা পরিহার করতে হবে। জনগণের মাঝে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, দল যেন জনগণের সহানুভূতি না হারায়।

যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হবে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব-এই আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় আসার পর ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। শান্তি চুক্তি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে রেমিটেন্স-রিজার্র্ভ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দশ বছর আগেও কেউ চিন্তা করেনি পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলবে, মেট্রোরেলে মানুষ চড়বে। এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় সফলতা এবং ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এসব কাজ সহজ ছিল না। এজন্য বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, গ্রেনেড মেরেছে। সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বহু ভাতা চালু করেছেন। এখানেই তার মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তাই তিনি এক সভায় ছাত্রদের মাঝে খাতা-কলম বিতরণ করেছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন