পর্যবেক্ষণসহ দুদকের আপিল নিষ্পত্তি
jugantor
তদন্ত পর্যায়ে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
পর্যবেক্ষণসহ দুদকের আপিল নিষ্পত্তি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনুসন্ধান বা তদন্ত পর্যায়ে অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় আদালতের অনুমতি নেওয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। তবে হাইকোর্টের রায়ে কী সংশোধন থাকছে এবং আপিল বিভাগ কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন-তা প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশ যেতে অনুমতিসংক্রান্ত হাইকোর্টের তিনটি রায় ও দুটি আদেশের বিরুদ্ধে পাঁচটি লিভ টু আপিল করে দুদক। ৭ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি শুরু হয়। পাঁচটি লিভ টু আপিলের ওপর ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

আদালত বলেন, আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি এবং হাইকোর্টের দেওয়া রায় সংশোধন করা হলো। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ক্ষেত্রে আর হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করা হলো। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আশা করি ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে যাবেন। ‘সবাইকে ব্ল্যাংক চেক দেব না’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও একেএম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। হাইকোর্টে করা পৃথক রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, মুরাদ রেজা, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আরশাদুর রউফ ও রুহুল কুদ্দুস শুনানিতে ছিলেন।

এর আগে দেশত্যাগে বিরত রাখার বৈধতা নিয়ে নরসিংদীর আতাউর রহমানের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ হাইকোর্টের দ্বৈত একটি বেঞ্চ রায় দেন। রায় অনুসারে এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ন না হচ্ছে, অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কাউকে বিদেশ যেতে বিরত রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে, পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আহসান হাবিবের করা রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ রায় দেন হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ। এ রায় অনুসারে অপরাধের অনুসন্ধান বা তদন্তকালে জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে দেশত্যাগে বিরত রাখা ও পাসপোর্ট জব্দ করা হলে কমিশন বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পরে অনুমোদনের জন্য সিনিয়র স্পেশাল জজ বা স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করতে হবে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। কমিশন এমন আবেদন করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিতে স্পেশাল জজ ওই আবেদন যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করবেন। আবেদন গ্রহণের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাফসির আউয়ালের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে হাইকোর্ট রুল দিয়ে তিন মাসের জন্য তাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের পৃথক রায়, আদেশসহ পাঁচটি ক্ষেত্রে দুদক পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে।

তদন্ত পর্যায়ে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

পর্যবেক্ষণসহ দুদকের আপিল নিষ্পত্তি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনুসন্ধান বা তদন্ত পর্যায়ে অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় আদালতের অনুমতি নেওয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। তবে হাইকোর্টের রায়ে কী সংশোধন থাকছে এবং আপিল বিভাগ কী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন-তা প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশ যেতে অনুমতিসংক্রান্ত হাইকোর্টের তিনটি রায় ও দুটি আদেশের বিরুদ্ধে পাঁচটি লিভ টু আপিল করে দুদক। ৭ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি শুরু হয়। পাঁচটি লিভ টু আপিলের ওপর ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

আদালত বলেন, আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি এবং হাইকোর্টের দেওয়া রায় সংশোধন করা হলো। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ক্ষেত্রে আর হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করা হলো। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আশা করি ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে যাবেন। ‘সবাইকে ব্ল্যাংক চেক দেব না’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও একেএম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। হাইকোর্টে করা পৃথক রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, মুরাদ রেজা, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আরশাদুর রউফ ও রুহুল কুদ্দুস শুনানিতে ছিলেন।

এর আগে দেশত্যাগে বিরত রাখার বৈধতা নিয়ে নরসিংদীর আতাউর রহমানের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ হাইকোর্টের দ্বৈত একটি বেঞ্চ রায় দেন। রায় অনুসারে এ বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ন না হচ্ছে, অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে কাউকে বিদেশ যেতে বিরত রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে, পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আহসান হাবিবের করা রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ রায় দেন হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ। এ রায় অনুসারে অপরাধের অনুসন্ধান বা তদন্তকালে জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে দেশত্যাগে বিরত রাখা ও পাসপোর্ট জব্দ করা হলে কমিশন বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পরে অনুমোদনের জন্য সিনিয়র স্পেশাল জজ বা স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করতে হবে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। কমিশন এমন আবেদন করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিতে স্পেশাল জজ ওই আবেদন যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করবেন। আবেদন গ্রহণের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাফসির আউয়ালের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে হাইকোর্ট রুল দিয়ে তিন মাসের জন্য তাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের পৃথক রায়, আদেশসহ পাঁচটি ক্ষেত্রে দুদক পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন