১৮৮ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করবে কাস্টম
jugantor
চট্টগ্রাম বন্দরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিলাম অযোগ্য
১৮৮ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করবে কাস্টম
চাপ কমবে বন্দরে * নিলামযোগ্য কনটেইনার আছে সাড়ে ৬ হাজার টিইইউএস

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দীর্ঘদিন ধরে খালাস না নেওয়া ১৮৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই এ সব পণ্য ধ্বংসের প্রস্তুতি নিচ্ছে কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে ফলমূল, অ্যানিমেল ফিড, ফিশফিড, পেঁয়াজ, বিভিন্ন ধরনের শস্যবীজ ও লিকুইড ড্রিংকস। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামযোগ্য কনটেইনার রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টিইইউএস।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানিকারকরা খালাস না নেওয়ায় পণ্যবোঝাই এসব কনটেইনার বেশ কয়েক বছর ধরে বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে আছে। এগুলো দখল করে রেখেছিল বন্দরের জায়গা। সাধারণত বন্দর থেকে খালাস না নেওয়া পণ্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর নিলামে তোলে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব পণ্য খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সেগুলো নিলামে না দিয়ে ধ্বংস করা হয়। পণ্য ধ্বংসের পর কনটেইনারগুলো নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। এতে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের চাপ কমে আসে। বন্দরের ভেতরে বর্তমানে জট না থাকলেও কনটেইনারের সংখ্যা বাড়ছে। ৪৯ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে রোববার পর্যন্ত কনটেইনার ছিল ৩৯ হাজার ২৯৩ টিইইউএস। তাই ১৮৮ কনটেইনার সরানো হলে বন্দরের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমদানি করা পণ্য দ্রুত ডেলিভারির পাশাপশি নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিলামে তোলা এবং এর মধ্যে যেসব পণ্য নিলাম অযোগ্য অর্থাৎ নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে- সেগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারি না নিলে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে তা নিলামে তোলে কাস্টম। তবে আইনি জটিলতাসহ নানা কারণে নিলামের গতি ধীর হওয়ায় এ ধরনের কনটেইনারের স্তূপ জমছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু নিলামযোগ্য কনটেইনারই রয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টিইইউএস। প্রতি বছর এর পরিমাণ বাড়ছে। সময়মতো কনটেইনারের নিলাম বা ধ্বংস না হওয়ায় একদিকে বন্দরের জায়গা আটকে আছে, পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কেননা, নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যের একটি অংশ পায় বন্দর, আরেকটি অংশ পায় কাস্টম।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্র জানায়, তারা এরই মধ্যে ১৮৮টি কনটেইনার চিহ্নিত করেছে, যেগুলোর পণ্য পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো নিলামে বিক্রি সম্ভব নয়। আমদানিকারকও খালাস নিতে আগ্রহী নন। তাই এ সব পণ্য ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার (নিলাম শাখা) আলী রেজা জানান, কাস্টম হাউজের সংশ্লিষ্ট কমিটি ১৮৮টি কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাস্টম, বন্দর, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটি রয়েছে। এ কমিটি স্থান চিহ্নিত করার পর সেখানে নিয়ে পণ্য মাটিচাপা দেওয়া হবে।

বন্দর-কাস্টম সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বাজারে দাম কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক সময় পণ্য খালাস নেন না আমদানিকারকরা। আবার যখন দাম বাড়ে, ততদিনে কনটেইনারে থাকা ফলমূলসহ নানা রকম ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই আরও বড় লোকসানের আশঙ্কায় পচা পণ্য তারা শেষ পর্যন্ত না নিয়ে বন্দরেই ফেলে রাখেন। অপরদিকে আইনি জটিলতায় আটকে গেলে বড় লোকসানের আশঙ্কায়ও অনেক সময় বন্দর থেকে পণ্য ছাড় করেন না আমদানিকারকরা। এসব পণ্য শেষ পর্যন্ত নিলামে বিক্রি করা হয়। আর বিক্রি অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিলাম অযোগ্য

১৮৮ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করবে কাস্টম

চাপ কমবে বন্দরে * নিলামযোগ্য কনটেইনার আছে সাড়ে ৬ হাজার টিইইউএস
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দীর্ঘদিন ধরে খালাস না নেওয়া ১৮৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই এ সব পণ্য ধ্বংসের প্রস্তুতি নিচ্ছে কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে ফলমূল, অ্যানিমেল ফিড, ফিশফিড, পেঁয়াজ, বিভিন্ন ধরনের শস্যবীজ ও লিকুইড ড্রিংকস। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামযোগ্য কনটেইনার রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টিইইউএস।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানিকারকরা খালাস না নেওয়ায় পণ্যবোঝাই এসব কনটেইনার বেশ কয়েক বছর ধরে বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে আছে। এগুলো দখল করে রেখেছিল বন্দরের জায়গা। সাধারণত বন্দর থেকে খালাস না নেওয়া পণ্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর নিলামে তোলে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব পণ্য খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সেগুলো নিলামে না দিয়ে ধ্বংস করা হয়। পণ্য ধ্বংসের পর কনটেইনারগুলো নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। এতে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারের চাপ কমে আসে। বন্দরের ভেতরে বর্তমানে জট না থাকলেও কনটেইনারের সংখ্যা বাড়ছে। ৪৯ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে রোববার পর্যন্ত কনটেইনার ছিল ৩৯ হাজার ২৯৩ টিইইউএস। তাই ১৮৮ কনটেইনার সরানো হলে বন্দরের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমদানি করা পণ্য দ্রুত ডেলিভারির পাশাপশি নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিলামে তোলা এবং এর মধ্যে যেসব পণ্য নিলাম অযোগ্য অর্থাৎ নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে- সেগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারি না নিলে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে তা নিলামে তোলে কাস্টম। তবে আইনি জটিলতাসহ নানা কারণে নিলামের গতি ধীর হওয়ায় এ ধরনের কনটেইনারের স্তূপ জমছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু নিলামযোগ্য কনটেইনারই রয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টিইইউএস। প্রতি বছর এর পরিমাণ বাড়ছে। সময়মতো কনটেইনারের নিলাম বা ধ্বংস না হওয়ায় একদিকে বন্দরের জায়গা আটকে আছে, পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কেননা, নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যের একটি অংশ পায় বন্দর, আরেকটি অংশ পায় কাস্টম।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্র জানায়, তারা এরই মধ্যে ১৮৮টি কনটেইনার চিহ্নিত করেছে, যেগুলোর পণ্য পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো নিলামে বিক্রি সম্ভব নয়। আমদানিকারকও খালাস নিতে আগ্রহী নন। তাই এ সব পণ্য ধ্বংস করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার (নিলাম শাখা) আলী রেজা জানান, কাস্টম হাউজের সংশ্লিষ্ট কমিটি ১৮৮টি কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাস্টম, বন্দর, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উপ-কমিটি রয়েছে। এ কমিটি স্থান চিহ্নিত করার পর সেখানে নিয়ে পণ্য মাটিচাপা দেওয়া হবে।

বন্দর-কাস্টম সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বাজারে দাম কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক সময় পণ্য খালাস নেন না আমদানিকারকরা। আবার যখন দাম বাড়ে, ততদিনে কনটেইনারে থাকা ফলমূলসহ নানা রকম ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই আরও বড় লোকসানের আশঙ্কায় পচা পণ্য তারা শেষ পর্যন্ত না নিয়ে বন্দরেই ফেলে রাখেন। অপরদিকে আইনি জটিলতায় আটকে গেলে বড় লোকসানের আশঙ্কায়ও অনেক সময় বন্দর থেকে পণ্য ছাড় করেন না আমদানিকারকরা। এসব পণ্য শেষ পর্যন্ত নিলামে বিক্রি করা হয়। আর বিক্রি অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন