রাজশাহী বোর্ডের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
jugantor
সচিবসহ দুই কর্মকর্তাকে হেনস্তা
রাজশাহী বোর্ডের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

  রাজশাহী ব্যুরো  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সচিবসহ দুই ক্যাডার কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অফিসার্স কল্যাণ সমিতির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আসামিরা হলেন-রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক উপসচিব ও অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হোসেন এবং সমিতির সভাপতি শিক্ষা বোর্ডের ক্রীড়া অফিসার মঞ্জুর রহমান খান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শংকর কুমার বিশ্বাস অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্স রাজশাহীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ৩ নভেম্বর। ওইদিনই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার বাদী প্রফেসর মোয়াজ্জেম এজাহারে বলেছেন, তিনি ১২ সেপ্টেম্বর বোর্ডের হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক অধ্যাপক বাদশা হোসেনের সঙ্গে নিজ দপ্তরে বৈঠক করছিলেন। এ সময় ওয়ালিদ হোসেন ও হিসাব কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র সেন জোর করে কক্ষে প্রবেশ করেন। ওয়ালিদ হোসেন মারমুখী হয়ে তাকে চড় মারতে উদ্যত হন। পরিস্থিতি দেখে দায়িত্বরত আনসার সদস্য তাদের দরজায় আটকে দেন। ওয়ালিদ হোসেন কিছু সময় ত্রাস সৃষ্টি করেন ও গালাগাল দিতে থাকেন। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। একপর্যায়ে বোর্ড সচিব ও উপ-পরিচালক দরজার সামনে গেলে ওয়ালিদ হোসেন তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

এ সময় ওয়ালিদ হোসেন ফোন করে অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি মঞ্জুর রহমান খানসহ তার অন্য সহযোগীদের ডেকে নেন। তারা সচিবের কক্ষে জোরপূর্বক ঢুকে চরম মারমুখী আচরণের মাধ্যমে ঘণ্টাব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি করেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে দায়িত্বরত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মেরে তাড়াবেন বলে তারা হুংকার দিতে থাকেন। সচিব এজাহারে আরও বলেন, বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ প্রেষণ কর্মকর্তাদের ফোনে জানান। পরে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর হাবিবুর রহমান ও স্কুল পরিদর্শক প্রফেসর দেবাশীষ রঞ্জন রায় ছাড়াও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

বোর্ড সচিব আরও বলেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ তিনি পরদিন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মকবুল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বোর্ড চেয়ারম্যান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী একরামুল হক যুগান্তরকে বলেন, আক্রান্ত কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। হামলাকারীরা বোর্ডের নিজস্ব কর্মকর্তা। তারা পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়েছেন। প্রেষণে কর্মকর্তারা প্রায়ই তাদের হাতে নাজেহাল হয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এদিকে, এরই মধ্যে ১২ অক্টোবর ঘটনার তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের কমিটি সরেজমিন তদন্ত করেছে। বোর্ড চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে প্রধান আসামি ওয়ালিদ হোসেনকে উপসচিবের পদ থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক শাখার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে বদলি করেছেন।

সচিবসহ দুই কর্মকর্তাকে হেনস্তা

রাজশাহী বোর্ডের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

 রাজশাহী ব্যুরো 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সচিবসহ দুই ক্যাডার কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অফিসার্স কল্যাণ সমিতির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আসামিরা হলেন-রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক উপসচিব ও অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হোসেন এবং সমিতির সভাপতি শিক্ষা বোর্ডের ক্রীড়া অফিসার মঞ্জুর রহমান খান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শংকর কুমার বিশ্বাস অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্স রাজশাহীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ৩ নভেম্বর। ওইদিনই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার বাদী প্রফেসর মোয়াজ্জেম এজাহারে বলেছেন, তিনি ১২ সেপ্টেম্বর বোর্ডের হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক অধ্যাপক বাদশা হোসেনের সঙ্গে নিজ দপ্তরে বৈঠক করছিলেন। এ সময় ওয়ালিদ হোসেন ও হিসাব কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র সেন জোর করে কক্ষে প্রবেশ করেন। ওয়ালিদ হোসেন মারমুখী হয়ে তাকে চড় মারতে উদ্যত হন। পরিস্থিতি দেখে দায়িত্বরত আনসার সদস্য তাদের দরজায় আটকে দেন। ওয়ালিদ হোসেন কিছু সময় ত্রাস সৃষ্টি করেন ও গালাগাল দিতে থাকেন। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। একপর্যায়ে বোর্ড সচিব ও উপ-পরিচালক দরজার সামনে গেলে ওয়ালিদ হোসেন তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

এ সময় ওয়ালিদ হোসেন ফোন করে অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি মঞ্জুর রহমান খানসহ তার অন্য সহযোগীদের ডেকে নেন। তারা সচিবের কক্ষে জোরপূর্বক ঢুকে চরম মারমুখী আচরণের মাধ্যমে ঘণ্টাব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি করেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে দায়িত্বরত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মেরে তাড়াবেন বলে তারা হুংকার দিতে থাকেন। সচিব এজাহারে আরও বলেন, বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ প্রেষণ কর্মকর্তাদের ফোনে জানান। পরে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর হাবিবুর রহমান ও স্কুল পরিদর্শক প্রফেসর দেবাশীষ রঞ্জন রায় ছাড়াও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

বোর্ড সচিব আরও বলেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ তিনি পরদিন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মকবুল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বোর্ড চেয়ারম্যান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী একরামুল হক যুগান্তরকে বলেন, আক্রান্ত কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। হামলাকারীরা বোর্ডের নিজস্ব কর্মকর্তা। তারা পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়েছেন। প্রেষণে কর্মকর্তারা প্রায়ই তাদের হাতে নাজেহাল হয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এদিকে, এরই মধ্যে ১২ অক্টোবর ঘটনার তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের কমিটি সরেজমিন তদন্ত করেছে। বোর্ড চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে প্রধান আসামি ওয়ালিদ হোসেনকে উপসচিবের পদ থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক শাখার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে বদলি করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন