ফের ছেলের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা
jugantor
ফের ছেলের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবারও মার খেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বজলুর রহমান। আহত অবস্থায় তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার সকালে তাকে তার ছোট ছেলে আব্দুস সালাম বাবু সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলসের সাবেক এই শ্রমিক নেতা লাবসা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। চাকরি শেষে তিনি মাগুরা দোতলা মসজিদের পাশে ৬ কাঠা জমি কিনে একটি দোতলা বাড়ি করে সেখানে বসবাস করছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে আবুল কালাম সাবেক সেনাসদস্য। তিনি থাকেন ভিন্ন বাড়িতে। ছোট ছেলে সালামকে নিয়ে বজলুর রহমান থাকতেন নিজ বাড়িতে।

জানা গেছে, ছোট ছেলে বাবার কাছ থেকে তার নামে জমি ও বাড়ি লিখিয়ে নেন। এসময় কথা ছিল বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের আজীবন ভরণপোষণ দেবেন ছেলে সালাম।

অভিযোগে প্রকাশ, কয়েক মাস আগে সালাম তাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। অসহায় অবস্থায় তিনি একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে ভিক্ষা করছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বজলুর রহমানকে তার বাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির ৫ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা এবং সদর থানার ওসি দেলোয়ার হুসেনের মাধ্যমে তাকে তার বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ছেলে সালাম তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে বাবাকে নিজের কাছে আজীবন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে বৃদ্ধ বজলুর রহমান ছোট ছেলের নামে দেওয়া তার জমি ও বাড়ি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে একটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে নিজ বাড়িতে তিনি একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে সালাম। তিনি নোটিশটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন, ওষুধপত্র এবং ব্যবহার্য সবকিছুই বাড়িতে আটকে রাখেন। এর পরেই বজলুর রহমান স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নানের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাম যুগান্তরকে বলেন, একই বাড়িতে বাদী ও বিবাদী থাকা সম্ভব নয়। কোনো অঘটন ঘটলে এর দায়িত্ব কে নেবে এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এ কারণেই আমি তাকে বলেছি আপনি বাড়ি থেকে চলে যান। তবে মারধর করিনি। তার মোবাইল ও ওষুধপত্র আমার ঘরেই আছে।

ফের ছেলের হাতে মার খেয়ে হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবারও মার খেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বজলুর রহমান। আহত অবস্থায় তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার সকালে তাকে তার ছোট ছেলে আব্দুস সালাম বাবু সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলসের সাবেক এই শ্রমিক নেতা লাবসা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। চাকরি শেষে তিনি মাগুরা দোতলা মসজিদের পাশে ৬ কাঠা জমি কিনে একটি দোতলা বাড়ি করে সেখানে বসবাস করছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে আবুল কালাম সাবেক সেনাসদস্য। তিনি থাকেন ভিন্ন বাড়িতে। ছোট ছেলে সালামকে নিয়ে বজলুর রহমান থাকতেন নিজ বাড়িতে।

জানা গেছে, ছোট ছেলে বাবার কাছ থেকে তার নামে জমি ও বাড়ি লিখিয়ে নেন। এসময় কথা ছিল বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের আজীবন ভরণপোষণ দেবেন ছেলে সালাম।

অভিযোগে প্রকাশ, কয়েক মাস আগে সালাম তাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। অসহায় অবস্থায় তিনি একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে ভিক্ষা করছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বজলুর রহমানকে তার বাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির ৫ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা এবং সদর থানার ওসি দেলোয়ার হুসেনের মাধ্যমে তাকে তার বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ছেলে সালাম তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে বাবাকে নিজের কাছে আজীবন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে বৃদ্ধ বজলুর রহমান ছোট ছেলের নামে দেওয়া তার জমি ও বাড়ি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে একটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে নিজ বাড়িতে তিনি একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে সালাম। তিনি নোটিশটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন, ওষুধপত্র এবং ব্যবহার্য সবকিছুই বাড়িতে আটকে রাখেন। এর পরেই বজলুর রহমান স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নানের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাম যুগান্তরকে বলেন, একই বাড়িতে বাদী ও বিবাদী থাকা সম্ভব নয়। কোনো অঘটন ঘটলে এর দায়িত্ব কে নেবে এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এ কারণেই আমি তাকে বলেছি আপনি বাড়ি থেকে চলে যান। তবে মারধর করিনি। তার মোবাইল ও ওষুধপত্র আমার ঘরেই আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন