বিহারে বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু
jugantor
মাসজুড়ে চলবে উৎসব
বিহারে বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

  রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধি  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে। মহাধুমধাম ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বিহারে বিহারে উৎসব চলছে। প্রবারণা তিথির পরপরই বুধবার থেকে শুরু হওয়া দানোৎসব মাসজুড়ে চলবে। অগণিত পুণ্যার্থীর সমাগমে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারগুলো উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। একেকটি বিহারে একেক সময় দুদিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তাঁর প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে বুনন, সেলাই ও রং শেষ করে চীবর (গেরুয়া বস্ত্র) তৈরি করেন এবং গৌতম বুদ্ধকে তা দান করেন। প্রবারণা উৎসবের পরপরই বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দুদিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি ত্রিরত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার এবং লংগদু উপজেলার আটাকছড়া প্রশান্তি অরণ্য কুটিরসহ বিভিন্ন বিহারে বুধবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব করা হয়। বালুখালী ইউনিয়নের মরিশ্যাবিল বন বিহার এবং কাউখালী উপজেলার উল্টাপাড়ার অজর অমর বন বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে বৃহস্পতিবার দানোৎসব শুরু হয়। এখানে শুক্রবার সকালে প্রাতরাশ, পিন্ডদান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদানসহ নানাবিধ পূজা-অর্চনা, দুপুরে কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলন উৎসব পালিত হয়। বাঘাইছড়ি উপজেলার শান্তিপুর বন বিহার ও জুরাছড়ি উপজেলার সুবলং শাখা বন বিহারসহ বিভিন্ন বিহারে শুক্রবার শুরু করে শনিবার কঠিন চীবর দানোৎসব শেষ হবে। দেশের প্রধান বৌদ্ধধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি রাজবন বিহারে সর্বজনীন কঠিন চীবর দানোৎসব ১১-১২ নভেম্বর উদযাপন করা হবে। খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী য়ংড বৌদ্ধ বিহারে নানান আনুষ্ঠানিকতায় কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিহারের দায়ক-দায়িকাবৃন্দ আয়োজনে সকাল থেকে দানোৎসব শুরু হয়েছে। এ সময় দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পুণ্যার্থী বিহারে সমাবেত হন। এ সময় তাদের ধর্ম দেশনা দেন য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ভদন্ত কেমাসারা থেরো। অনুষ্ঠানে জগতের সব প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। সন্ধ্যায় ভগবান বৌদ্ধের উদ্দেশে আকাশ প্রদীপ (ফানুস বাতি) উড়িয়ে দেওয়া হয়। সদরের কল্যাণপুর মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে দায়ক-দায়িকা ও উপাসক উপাসিকাবৃন্দ আয়োজনে ২৯তম দানরাজা দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব হয়ছে। এ সময় মারমা নেতা সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোই অং মারমা, মারমা ঐক্য পরিষদ নেতা ম্রাসাথোয়াই মারমা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়াসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বান্দরবানের কালাঘাটা আজুগুহা বিহারে শুক্রবার চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উৎসবে নারীরা চর্কার মাধ্যমে তুলা থেকে সুতা তৈরি ও তাতে রং লাগিয়ে চীবর (কাপড়) বুনে ভিক্ষুদের দান করেন।

মাসজুড়ে চলবে উৎসব

বিহারে বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

 রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিনিধি 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয়েছে। মহাধুমধাম ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বিহারে বিহারে উৎসব চলছে। প্রবারণা তিথির পরপরই বুধবার থেকে শুরু হওয়া দানোৎসব মাসজুড়ে চলবে। অগণিত পুণ্যার্থীর সমাগমে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারগুলো উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। একেকটি বিহারে একেক সময় দুদিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তাঁর প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে বুনন, সেলাই ও রং শেষ করে চীবর (গেরুয়া বস্ত্র) তৈরি করেন এবং গৌতম বুদ্ধকে তা দান করেন। প্রবারণা উৎসবের পরপরই বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দুদিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি ত্রিরত্নাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার এবং লংগদু উপজেলার আটাকছড়া প্রশান্তি অরণ্য কুটিরসহ বিভিন্ন বিহারে বুধবার থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব করা হয়। বালুখালী ইউনিয়নের মরিশ্যাবিল বন বিহার এবং কাউখালী উপজেলার উল্টাপাড়ার অজর অমর বন বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে বৃহস্পতিবার দানোৎসব শুরু হয়। এখানে শুক্রবার সকালে প্রাতরাশ, পিন্ডদান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদানসহ নানাবিধ পূজা-অর্চনা, দুপুরে কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস উত্তোলন উৎসব পালিত হয়। বাঘাইছড়ি উপজেলার শান্তিপুর বন বিহার ও জুরাছড়ি উপজেলার সুবলং শাখা বন বিহারসহ বিভিন্ন বিহারে শুক্রবার শুরু করে শনিবার কঠিন চীবর দানোৎসব শেষ হবে। দেশের প্রধান বৌদ্ধধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি রাজবন বিহারে সর্বজনীন কঠিন চীবর দানোৎসব ১১-১২ নভেম্বর উদযাপন করা হবে। খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী য়ংড বৌদ্ধ বিহারে নানান আনুষ্ঠানিকতায় কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিহারের দায়ক-দায়িকাবৃন্দ আয়োজনে সকাল থেকে দানোৎসব শুরু হয়েছে। এ সময় দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পুণ্যার্থী বিহারে সমাবেত হন। এ সময় তাদের ধর্ম দেশনা দেন য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ভদন্ত কেমাসারা থেরো। অনুষ্ঠানে জগতের সব প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। সন্ধ্যায় ভগবান বৌদ্ধের উদ্দেশে আকাশ প্রদীপ (ফানুস বাতি) উড়িয়ে দেওয়া হয়। সদরের কল্যাণপুর মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে দায়ক-দায়িকা ও উপাসক উপাসিকাবৃন্দ আয়োজনে ২৯তম দানরাজা দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব হয়ছে। এ সময় মারমা নেতা সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোই অং মারমা, মারমা ঐক্য পরিষদ নেতা ম্রাসাথোয়াই মারমা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়াসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বান্দরবানের কালাঘাটা আজুগুহা বিহারে শুক্রবার চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উৎসবে নারীরা চর্কার মাধ্যমে তুলা থেকে সুতা তৈরি ও তাতে রং লাগিয়ে চীবর (কাপড়) বুনে ভিক্ষুদের দান করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন