মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক বাবা
jugantor
চান্দিনায় কিশোরী সালমা হত্যা
মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক বাবা

  চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার চান্দিনায় প্রতিপক্ষ ভাতিজাদের মামলায় ফাঁসাতে নিজের কিশোরী মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন সোলেমান ব্যাপারী (৪৫)। বুধবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। মামলার বাদী চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক সুজন দত্ত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা সোলেমানের বক্তব্য শুনেছেন আদালত। এ হত্যার ঘটনায় সোলেমানের দুই ভাই আব্দুল বাতেন, লোকমান হোসেনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আটক করা হয়েছে ৬ জনকে। সোলেমান জবানবন্দিতে জানান, জমি নিয়ে তার ভাতিজা শাহজালাল ও শাহকামালের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের মারামারি হয়। ঘটনার পর তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি শেষে থানায় মামলা করেন সোলেমান। মামলায় পুলিশ ৩২৬ ধারা যুক্ত না করায় তার মাথা গরম হয়ে যায়। প্রথমে ভেবেছিলেন নিজের মাথা ফাটিয়ে ৩২৬ ধারা যুক্ত করে মামলা করবেন। কিন্তু কুচক্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে তা থেকে সরে নিজের মেয়েকেই খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি। ১ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে স্ত্রী ও বড় মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরেন। রাতের খাবার খেয়ে বাড়িতে থাকা ছোট মেয়ে সালমা আক্তারকে ঘুমাতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। উকিল-শ্বশুর আব্দুর রহমানের ঘরে হত্যার পরিকল্পনা করে গভীর রাতে বাড়িতে আসেন। মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ভাতিজাদের ঘরের পেছনে নিয়ে লাশ কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পাশের পুকুরে ফেলে দেন। এরপর ফের আব্দুর রহমানের বাড়িতে চলে যান।

পরদিন ভাতিজাদেরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার পর থেকে এলাকাছাড়া হন আসামিরা। তারপরও পুলিশ বিভিন্নভাবে তাকে সন্দেহ করলে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর নিখোঁজের নাটক সাজান তিনি। সারা রাত নিখোঁজ থেকে নিজের গলার উপরের চামড়া ব্লেড দিয়ে নিজেই কেটে ভোরে বাড়িসংলগ্ন বাগানে অচেতনের ভাব দেখিয়ে পড়ে থাকেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ ৬ অক্টোবর আব্দুর রহমান ও বন্ধু খলিলকে আটক করলে সালমা হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।

চান্দিনায় কিশোরী সালমা হত্যা

মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক বাবা

 চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার চান্দিনায় প্রতিপক্ষ ভাতিজাদের মামলায় ফাঁসাতে নিজের কিশোরী মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন সোলেমান ব্যাপারী (৪৫)। বুধবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। মামলার বাদী চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক সুজন দত্ত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা সোলেমানের বক্তব্য শুনেছেন আদালত। এ হত্যার ঘটনায় সোলেমানের দুই ভাই আব্দুল বাতেন, লোকমান হোসেনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আটক করা হয়েছে ৬ জনকে। সোলেমান জবানবন্দিতে জানান, জমি নিয়ে তার ভাতিজা শাহজালাল ও শাহকামালের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের মারামারি হয়। ঘটনার পর তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি শেষে থানায় মামলা করেন সোলেমান। মামলায় পুলিশ ৩২৬ ধারা যুক্ত না করায় তার মাথা গরম হয়ে যায়। প্রথমে ভেবেছিলেন নিজের মাথা ফাটিয়ে ৩২৬ ধারা যুক্ত করে মামলা করবেন। কিন্তু কুচক্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে তা থেকে সরে নিজের মেয়েকেই খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি। ১ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে স্ত্রী ও বড় মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরেন। রাতের খাবার খেয়ে বাড়িতে থাকা ছোট মেয়ে সালমা আক্তারকে ঘুমাতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। উকিল-শ্বশুর আব্দুর রহমানের ঘরে হত্যার পরিকল্পনা করে গভীর রাতে বাড়িতে আসেন। মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ভাতিজাদের ঘরের পেছনে নিয়ে লাশ কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পাশের পুকুরে ফেলে দেন। এরপর ফের আব্দুর রহমানের বাড়িতে চলে যান।

পরদিন ভাতিজাদেরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার পর থেকে এলাকাছাড়া হন আসামিরা। তারপরও পুলিশ বিভিন্নভাবে তাকে সন্দেহ করলে ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর নিখোঁজের নাটক সাজান তিনি। সারা রাত নিখোঁজ থেকে নিজের গলার উপরের চামড়া ব্লেড দিয়ে নিজেই কেটে ভোরে বাড়িসংলগ্ন বাগানে অচেতনের ভাব দেখিয়ে পড়ে থাকেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ ৬ অক্টোবর আব্দুর রহমান ও বন্ধু খলিলকে আটক করলে সালমা হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন