বিচারক তামান্না ফারাহকে সাত ঘণ্টা জেরা
jugantor
সিনহা হত্যা
বিচারক তামান্না ফারাহকে সাত ঘণ্টা জেরা

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বিচারকার্যের ৬ষ্ঠ দফার শেষদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সপ্তম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী মাসের ১৫, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সোয়া ১০টার দিকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে আদালতের কার্যক্রম। এ সময় সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকাল পঁাঁচটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহকে জেরা করেন আসামি ওসি প্রদীপ-লিয়াকতের আইনজীবীরা।

আলোচিত এ হত্যা মামলার আসামি রাজিব হোসেনসহ কয়েকজন আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন তামান্না ফারাহ। এছাড়া শেষ দিনে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন। তবে সময় সল্পতার কারণে এ বিচারককে জেরা বাকি রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন সিনহা হত্যার অন্যতম আসামি আবদুল্লাহ আল মামুন, এসআই শাহজাহান আলী ও ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণে ৬ষ্ঠ দফার শেষদিনে দু’জন বিচারকসহ ৬ জন সাক্ষীর হাজিরা দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ ও অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ সময় দুই বিচারক আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করে। পিপি বলেন, বুধবার বিচারক তামান্না ফারাহকে সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা জেরা করেছে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

এ কারণে অপর ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেনের জেরা এবং হাজিরা দেওয়া অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়নি। আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৮৩ জন সাক্ষীর মাঝে এ পর্যন্ত ৫৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ টেকনাফে দুটি ও রামুতে একটি মামলা করে। ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে প্রদীপ কুমার, লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আলোচিত এ মামলায় গত বছর ১৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ও র?্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম, ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে ৮৩ জনকে সাক্ষী করা হয়।

সিনহা হত্যা

বিচারক তামান্না ফারাহকে সাত ঘণ্টা জেরা

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বিচারকার্যের ৬ষ্ঠ দফার শেষদিনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সপ্তম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী মাসের ১৫, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সোয়া ১০টার দিকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে আদালতের কার্যক্রম। এ সময় সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকাল পঁাঁচটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহকে জেরা করেন আসামি ওসি প্রদীপ-লিয়াকতের আইনজীবীরা।

আলোচিত এ হত্যা মামলার আসামি রাজিব হোসেনসহ কয়েকজন আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন তামান্না ফারাহ। এছাড়া শেষ দিনে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন। তবে সময় সল্পতার কারণে এ বিচারককে জেরা বাকি রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন সিনহা হত্যার অন্যতম আসামি আবদুল্লাহ আল মামুন, এসআই শাহজাহান আলী ও ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণে ৬ষ্ঠ দফার শেষদিনে দু’জন বিচারকসহ ৬ জন সাক্ষীর হাজিরা দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ ও অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ সময় দুই বিচারক আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করে। পিপি বলেন, বুধবার বিচারক তামান্না ফারাহকে সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা জেরা করেছে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

এ কারণে অপর ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেনের জেরা এবং হাজিরা দেওয়া অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়নি। আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৮৩ জন সাক্ষীর মাঝে এ পর্যন্ত ৫৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ টেকনাফে দুটি ও রামুতে একটি মামলা করে। ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে প্রদীপ কুমার, লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আলোচিত এ মামলায় গত বছর ১৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ও র?্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম, ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে ৮৩ জনকে সাক্ষী করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন