সুপেয় পানির উৎস শুভাঢ্যা খালে ময়লা আবর্জনার স্তূপ
jugantor
সুপেয় পানির উৎস শুভাঢ্যা খালে ময়লা আবর্জনার স্তূপ

  আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ  

২০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেরানীগঞ্জে সুপেয় পানির অন্যতম উৎস ছিল শুভাঢ্যা খাল। একসময় এখানে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক পরিবার। খালে চলাচল করত বড় বড় নৌযান। এখন চলাচল তো দূরের কথা খালের পাশ দিয়ে হাঁটাও দায়। দখল, দূষণ আর ভরাটের কারণে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালের বেশির ভাগ অংশে এখন আর পানি নেই। পানির পরিবর্তে সেখানে তৈরি হয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। ৭ কিলোমিটার খালের অর্ধেকই পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুভাঢ্যা খালের চরকালিগঞ্জ, কালিগঞ্জ বাজার, জোড়া ব্রিজ, নয়া শুভাঢ্যা, কদমতলী, চরকুতুব, ঝাউবাড়ি, বেগুনবাড়ি, গোলামবাজার অংশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। কল-কারখানার ময়লা আবর্জনা, গৃহস্থালির বর্জ্য ও অবৈধ স্থাপনার দখলে খালটি নাব্য হারিয়েছে। খালের এক পাশ থেকে অন্য পাশে হেঁটে পাড় হওয়া যায়। কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ এলাকায় অবৈধ দোকানঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছে। চরকুতুব অংশে খালের তীর ও সরকারি রাস্তার ওপর বসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা ও স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) এই বাজার বসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাজারের সব ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালে। এ ছাড়া দুই তীরের আশপাশের বাসিন্দারা গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলছে খালে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে শুভাঢ্যা খালের চরকালিগঞ্জ থেকে গোলামবাজার পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযানে উভয় তীরের ১৮৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও খাল খনন করা হয়। ধীরে ধীরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ২০১২ সালে খাল সংস্কারে উপজেলা প্রশাসন ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করে। ২০১৫ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণে উভয় পাড়ে ব্লক বসানের কাজ করে। ২০১৭ সালে খালটি সংস্কারে উপজেলা প্রশাসন ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে। কিন্তু এত কিছুর পরও রক্ষা করা যায়নি। চরকুতুব এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ছোটবেলায় এই খালে গোসল করেছি। খালের পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে আমরা সেই পানি পান করতাম। রাজধানীর শ্যামবাজার থেকে মালামাল নিয়ে নৌকাযোগে সরাসরি গোলামবাজার ঘাটে আসতাম। এখন সেটা কল্পনাও করা যায় না। খালটি ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমি নতুন এসেছি, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। তবে যতটুকু জানি তাতে এটা বলতে পারি, উপজেলা প্রশাসন বা সরকারের একার পক্ষে খালটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খালটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, খালটি রক্ষায় সরকারের একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রি-একনেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি শিগগিরই একনেকে পাশ হয়ে যাবে। ২০২২ সালের মার্চ এপ্রিল নাগাল শুভাঢ্যার খাল রক্ষায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

সুপেয় পানির উৎস শুভাঢ্যা খালে ময়লা আবর্জনার স্তূপ

 আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ 
২০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেরানীগঞ্জে সুপেয় পানির অন্যতম উৎস ছিল শুভাঢ্যা খাল। একসময় এখানে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক পরিবার। খালে চলাচল করত বড় বড় নৌযান। এখন চলাচল তো দূরের কথা খালের পাশ দিয়ে হাঁটাও দায়। দখল, দূষণ আর ভরাটের কারণে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালের বেশির ভাগ অংশে এখন আর পানি নেই। পানির পরিবর্তে সেখানে তৈরি হয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। ৭ কিলোমিটার খালের অর্ধেকই পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুভাঢ্যা খালের চরকালিগঞ্জ, কালিগঞ্জ বাজার, জোড়া ব্রিজ, নয়া শুভাঢ্যা, কদমতলী, চরকুতুব, ঝাউবাড়ি, বেগুনবাড়ি, গোলামবাজার অংশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। কল-কারখানার ময়লা আবর্জনা, গৃহস্থালির বর্জ্য ও অবৈধ স্থাপনার দখলে খালটি নাব্য হারিয়েছে। খালের এক পাশ থেকে অন্য পাশে হেঁটে পাড় হওয়া যায়। কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ এলাকায় অবৈধ দোকানঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছে। চরকুতুব অংশে খালের তীর ও সরকারি রাস্তার ওপর বসানো হয়েছে কাঁচাবাজার। ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা ও স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) এই বাজার বসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাজারের সব ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালে। এ ছাড়া দুই তীরের আশপাশের বাসিন্দারা গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলছে খালে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে শুভাঢ্যা খালের চরকালিগঞ্জ থেকে গোলামবাজার পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযানে উভয় তীরের ১৮৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও খাল খনন করা হয়। ধীরে ধীরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ২০১২ সালে খাল সংস্কারে উপজেলা প্রশাসন ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করে। ২০১৫ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণে উভয় পাড়ে ব্লক বসানের কাজ করে। ২০১৭ সালে খালটি সংস্কারে উপজেলা প্রশাসন ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে। কিন্তু এত কিছুর পরও রক্ষা করা যায়নি। চরকুতুব এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ছোটবেলায় এই খালে গোসল করেছি। খালের পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে আমরা সেই পানি পান করতাম। রাজধানীর শ্যামবাজার থেকে মালামাল নিয়ে নৌকাযোগে সরাসরি গোলামবাজার ঘাটে আসতাম। এখন সেটা কল্পনাও করা যায় না। খালটি ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমি নতুন এসেছি, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। তবে যতটুকু জানি তাতে এটা বলতে পারি, উপজেলা প্রশাসন বা সরকারের একার পক্ষে খালটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খালটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, খালটি রক্ষায় সরকারের একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রি-একনেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি শিগগিরই একনেকে পাশ হয়ে যাবে। ২০২২ সালের মার্চ এপ্রিল নাগাল শুভাঢ্যার খাল রক্ষায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন