৬৬ প্রভাবশালীর দখলে চট্টগ্রামের নাগিন পাহাড়
jugantor
৬৬ প্রভাবশালীর দখলে চট্টগ্রামের নাগিন পাহাড়
জরিমানা করে দায় সারছে পরিবেশ অধিদপ্তর

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজায় অবস্থিত ৮ একর আয়তনের নাগিন পাহাড় ৬৬ প্রভাবশালীর দখলে। অনুমতি ছাড়া পাহাড় কেটে কেউ সেমিপাকা আবার কেউ বহুতল ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। আবার কেউ পাহাড় কেটে তৈরি করেছেন প্লট। সম্প্রতি দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তালিকা ধরে অনেকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ফৌজদারি মামলা। করা হয়েছে জরিমানাও।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তালিকায় নাগিন পাহাড় কাটার অভিযোগে ৬৬ জনের নাম উঠে এসেছে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি না নিয়ে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণসহ প্লট তৈরি করেছেন। তালিকা দেখে ৩ অক্টোবর ১৩ ব্যক্তিকে ৩২ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে পাহাড় কেটে ১৩টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে ১ লাখ ৪০ হাজার, একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে ৮০ হাজার, একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় নুরুল আবছার মিয়া গংকে ৩ লাখ ৩০ হাজার, ১২টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় নুরুল ইসলামকে ১ লাখ ৫০ হাজার, গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগে নুরুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মো. বদিউল, জসিম উদ্দিনকে যৌথভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার, ১১তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করায় হাবিবউল্লাহ বাহার ও নাসির উদ্দিন গংকে ১২ লাখ ৯৬ হাজার, একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় খোকন সিকদারকে ৮৭ হাজার ৫০০, আটতলা বহুতল ভবন নির্মাণ করায় মোহাম্মদ সাইফুল আলম সুমনকে ২ লাখ ৩৫ হাজার, দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোহাম্মদ শফি উল্লাহ, মোহাম্মদ শেখ আব্দুল্লাহ, মো. শহিদউল্লাহ, নাছির উল্লাহ, আমান উল্লাহ ও আমিন উল্লাহকে ১ লাখ ৬০ হাজার, চারতলা ভবন নির্মাণ করায় শহিদ উল্লাহকে ১ লাখ, দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোজাম্মেল হক গংকে ৮০ হাজার, পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করায় নুরুল আলমকে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং সাততলা ভবন নির্মাণ করায় ইছা খান গংকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে ১৮ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে শুনানি শেষে আরও আটজনকে জরিমানা করা হয়। যদিও শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য ৩৪ জন পাহাড় দখলদারকে চিঠি দেয় অধিদপ্তর। শুনানিতে আটজন উপস্থিত থাকলেও অন্যরা শুনানিতে উপস্থিত হননি। উপস্থিত আটজনকে পাহাড় কাটার অভিযোগে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারা হলেন জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, মাহবুব আলম, মুসলিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, ইলিয়াছ, মো. ওলিউল্যাহ ও আরিফুর রহমান।

১৬ অক্টোবর অপর এক শুনানি শেষে পাহাড় কাটার অভিযোগে নয়জনকে ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারা হলেন আবু ইউসুফ মিয়া, ইলিয়াস চৌধুরী, রোকেয়া সুলতানা, শাহজান ফরাজী, আমির হোসেন, মোহাম্মদ ইদ্রিস, আমির হোসেন, আব্দুল ছাত্তার ও হেলাল উদ্দিন।

অপরদিকে নাগিন পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ ও প্লট তৈরি করে বিক্রির অভিযোগে ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয় খোরশেদ আলম ওরফে টুকু (দোতলা ভবন নির্মাণ করায়), জারিয়া বারোস টাওয়ার নামে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় খালেম মাহমুদ বাবুল, শোয়েব ভিলার মালিক শোয়েব, গ্রিন হাইটের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, মনোয়ারা ম্যানশনের মালিক আবুল কালাম গং, খাগুতিয়া বিল্ডিংয়ের মালিক মনির উদ্দিন, তিনতলা ভবন নির্মাণ করায় প্রবাসী মো. মনসুর, ছয়তলা ভবন নির্মাণ করায় আমীর হোসেন, টিনশেডের তিনটি ঘর নির্মাণ করায় নুরুচ্ছাবাহ এবং ছয়তলা ভবন নির্মাণ করায় ওয়াহিদুল্লাহকে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী যুগান্তরকে বলেন, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পরির পাহাড় কাটা, পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে অর্ধশত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। আর যারা নোটিশ দেওয়ার পরও শুনানিতে অংশ নেননি, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

৬৬ প্রভাবশালীর দখলে চট্টগ্রামের নাগিন পাহাড়

জরিমানা করে দায় সারছে পরিবেশ অধিদপ্তর
 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজায় অবস্থিত ৮ একর আয়তনের নাগিন পাহাড় ৬৬ প্রভাবশালীর দখলে। অনুমতি ছাড়া পাহাড় কেটে কেউ সেমিপাকা আবার কেউ বহুতল ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। আবার কেউ পাহাড় কেটে তৈরি করেছেন প্লট। সম্প্রতি দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তালিকা ধরে অনেকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ফৌজদারি মামলা। করা হয়েছে জরিমানাও।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তালিকায় নাগিন পাহাড় কাটার অভিযোগে ৬৬ জনের নাম উঠে এসেছে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি না নিয়ে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণসহ প্লট তৈরি করেছেন। তালিকা দেখে ৩ অক্টোবর ১৩ ব্যক্তিকে ৩২ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে পাহাড় কেটে ১৩টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে ১ লাখ ৪০ হাজার, একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে ৮০ হাজার, একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় নুরুল আবছার মিয়া গংকে ৩ লাখ ৩০ হাজার, ১২টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় নুরুল ইসলামকে ১ লাখ ৫০ হাজার, গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগে নুরুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মো. বদিউল, জসিম উদ্দিনকে যৌথভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার, ১১তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করায় হাবিবউল্লাহ বাহার ও নাসির উদ্দিন গংকে ১২ লাখ ৯৬ হাজার, একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় খোকন সিকদারকে ৮৭ হাজার ৫০০, আটতলা বহুতল ভবন নির্মাণ করায় মোহাম্মদ সাইফুল আলম সুমনকে ২ লাখ ৩৫ হাজার, দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোহাম্মদ শফি উল্লাহ, মোহাম্মদ শেখ আব্দুল্লাহ, মো. শহিদউল্লাহ, নাছির উল্লাহ, আমান উল্লাহ ও আমিন উল্লাহকে ১ লাখ ৬০ হাজার, চারতলা ভবন নির্মাণ করায় শহিদ উল্লাহকে ১ লাখ, দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করায় মোজাম্মেল হক গংকে ৮০ হাজার, পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করায় নুরুল আলমকে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং সাততলা ভবন নির্মাণ করায় ইছা খান গংকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে ১৮ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে শুনানি শেষে আরও আটজনকে জরিমানা করা হয়। যদিও শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য ৩৪ জন পাহাড় দখলদারকে চিঠি দেয় অধিদপ্তর। শুনানিতে আটজন উপস্থিত থাকলেও অন্যরা শুনানিতে উপস্থিত হননি। উপস্থিত আটজনকে পাহাড় কাটার অভিযোগে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারা হলেন জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, মাহবুব আলম, মুসলিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, ইলিয়াছ, মো. ওলিউল্যাহ ও আরিফুর রহমান।

১৬ অক্টোবর অপর এক শুনানি শেষে পাহাড় কাটার অভিযোগে নয়জনকে ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারা হলেন আবু ইউসুফ মিয়া, ইলিয়াস চৌধুরী, রোকেয়া সুলতানা, শাহজান ফরাজী, আমির হোসেন, মোহাম্মদ ইদ্রিস, আমির হোসেন, আব্দুল ছাত্তার ও হেলাল উদ্দিন।

অপরদিকে নাগিন পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ ও প্লট তৈরি করে বিক্রির অভিযোগে ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয় খোরশেদ আলম ওরফে টুকু (দোতলা ভবন নির্মাণ করায়), জারিয়া বারোস টাওয়ার নামে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় খালেম মাহমুদ বাবুল, শোয়েব ভিলার মালিক শোয়েব, গ্রিন হাইটের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, মনোয়ারা ম্যানশনের মালিক আবুল কালাম গং, খাগুতিয়া বিল্ডিংয়ের মালিক মনির উদ্দিন, তিনতলা ভবন নির্মাণ করায় প্রবাসী মো. মনসুর, ছয়তলা ভবন নির্মাণ করায় আমীর হোসেন, টিনশেডের তিনটি ঘর নির্মাণ করায় নুরুচ্ছাবাহ এবং ছয়তলা ভবন নির্মাণ করায় ওয়াহিদুল্লাহকে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী যুগান্তরকে বলেন, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পরির পাহাড় কাটা, পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে অর্ধশত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। আর যারা নোটিশ দেওয়ার পরও শুনানিতে অংশ নেননি, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন