মালিকদের অনড় অবস্থানে দ্বিতীয় বৈঠকও নিষ্ফল
jugantor
শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া
মালিকদের অনড় অবস্থানে দ্বিতীয় বৈঠকও নিষ্ফল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দ্বিতীয় বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মালিকদের অনড় অবস্থানের কারণে সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়। তবে এটি চালু করতে ভর্তুকি দেওয়াসহ সরকারের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবহণ নেতারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ জানিয়েছে, এটাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে সময় লাগবে। শনিবার রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হাফ ভাড়া নিয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়। মালিকরা রাজি না হওয়ায় ওই বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার আরেকটি বৈঠক হলো।

বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ২৫ নভেম্বরের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক হলো। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢাকা শহরে কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কত শিক্ষার্থী, ইত্যাদি তথ্য তারা চেয়েছেন। তিনি বলেন, হাফ ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো পরিচয়পত্র দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পুরো বিষয়টি সুরাহা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছেছে। সরকার ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে আন্তরিক। এটাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে সময় লাগবে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, হাফ ভাড়া চালু হলে যারা পড়াশোনা করে না, তারাও নকল শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র তৈরি করতে পারে। কোন ছাত্রের জন্য প্রযোজ্য হবে, সেটিরও নিশ্চয়তা চান বাস মালিকরা। এর আগের বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সমাধানের দিকে যেতে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে, আরও হবে।

হাফ ভাড়া চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা জানিয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকায় চলাচলকারী পরিবহণ মালিকদের ৮০ শতাংশ গরিব। একটি বাস দিয়ে নিজের সংসার চালায় কেউ কেউ। তারা কীভাবে ক্ষতি সামলাবে।

এখনই হাফ ভাড়া চালু করা যাবে না জানিয়ে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, তাৎক্ষণিক কিছু করা যাবে না।সময়ের প্রয়োজন আছে, টাস্কফোর্স ছাড়া এটি সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাফ ভাড়ায় ক্ষতির পরিমাণ টাস্কফোর্স নির্ধারণ করবে। হাফ ভাড়ার প্রচলিত রেওয়াজ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেওয়ার কোনো বিধান আগেও ছিল না, এখনো নেই। ছাত্রদের বচসায় কোনো কোনো পরিবহণ শ্রমিক এটা মেনে নিতেন। তবে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত হলে এটি সবাইকে দিতে হবে। যে দেশে ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স জাল হয়, সেখানে ছাত্রত্ব কীভাবে প্রমাণ হবে। শনিবার বৈঠকে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতে কত শিক্ষার্থী বাস ব্যবহার করে, তার পরিসংখ্যান দরকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহণ কার্ড চালু করা যেতে পারে, তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেরা পরিবহন চালু করতে পারে। বিআরটিসি বাস আরও বাড়লে তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আনা-নেওয়া করা যায়।

কেননা, বিআরটিসি বাস সরকারের ভর্তুকি পায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, পরিবহণ শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সরকারকে দেখতে হবে। শ্রমিকরা যেখানে সেখানে মারধরের শিকার হচ্ছেন। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। আর আমাদের শ্রমিকরা কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়া, সরকারি সহায়তা ছাড়াই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্ররা তাদের মারধর করবেন এটা কেমন কথা?

বৈঠকে পরিবহণ নেতারা বলেন, বেসরকারি পরিবহণ মালিকরা কোনো সুবিধা পান না। তাই হাফ ভাড়া চালু করলে ভাড়ার অবশিষ্ট টাকা কোন তহবিল থেকে, কীভাবে পূরণ হবে, তা জানা দরকার। যেসব পরিবহন হাফ ভাড়া কার্যকর করবে, তাদের মালিকদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সেটিও জানতে চান নেতারা। এ ছাড়া প্রতি বছর শিক্ষা বাজেট থেকে টাকা ফেরত যায় উল্লেখ করে এই টাকা ভর্তুকি বাবদ পরিবহণ খাতে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন তারা। তারা বলেন, অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পরিবহণ চালু করতে পারে। শুধু সরকার নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও ছাড় দিতে হবে।

সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোশাররফ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া

মালিকদের অনড় অবস্থানে দ্বিতীয় বৈঠকও নিষ্ফল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দ্বিতীয় বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মালিকদের অনড় অবস্থানের কারণে সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়। তবে এটি চালু করতে ভর্তুকি দেওয়াসহ সরকারের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবহণ নেতারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ জানিয়েছে, এটাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে সময় লাগবে। শনিবার রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হাফ ভাড়া নিয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়। মালিকরা রাজি না হওয়ায় ওই বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার আরেকটি বৈঠক হলো।

বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ২৫ নভেম্বরের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক হলো। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢাকা শহরে কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কত শিক্ষার্থী, ইত্যাদি তথ্য তারা চেয়েছেন। তিনি বলেন, হাফ ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো পরিচয়পত্র দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পুরো বিষয়টি সুরাহা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছেছে। সরকার ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে আন্তরিক। এটাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে সময় লাগবে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, হাফ ভাড়া চালু হলে যারা পড়াশোনা করে না, তারাও নকল শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র তৈরি করতে পারে। কোন ছাত্রের জন্য প্রযোজ্য হবে, সেটিরও নিশ্চয়তা চান বাস মালিকরা। এর আগের বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সমাধানের দিকে যেতে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে, আরও হবে।

হাফ ভাড়া চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা জানিয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকায় চলাচলকারী পরিবহণ মালিকদের ৮০ শতাংশ গরিব। একটি বাস দিয়ে নিজের সংসার চালায় কেউ কেউ। তারা কীভাবে ক্ষতি সামলাবে।

এখনই হাফ ভাড়া চালু করা যাবে না জানিয়ে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, তাৎক্ষণিক কিছু করা যাবে না।সময়ের প্রয়োজন আছে, টাস্কফোর্স ছাড়া এটি সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাফ ভাড়ায় ক্ষতির পরিমাণ টাস্কফোর্স নির্ধারণ করবে। হাফ ভাড়ার প্রচলিত রেওয়াজ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেওয়ার কোনো বিধান আগেও ছিল না, এখনো নেই। ছাত্রদের বচসায় কোনো কোনো পরিবহণ শ্রমিক এটা মেনে নিতেন। তবে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত হলে এটি সবাইকে দিতে হবে। যে দেশে ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স জাল হয়, সেখানে ছাত্রত্ব কীভাবে প্রমাণ হবে। শনিবার বৈঠকে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতে কত শিক্ষার্থী বাস ব্যবহার করে, তার পরিসংখ্যান দরকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহণ কার্ড চালু করা যেতে পারে, তাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেরা পরিবহন চালু করতে পারে। বিআরটিসি বাস আরও বাড়লে তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আনা-নেওয়া করা যায়।

কেননা, বিআরটিসি বাস সরকারের ভর্তুকি পায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, পরিবহণ শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সরকারকে দেখতে হবে। শ্রমিকরা যেখানে সেখানে মারধরের শিকার হচ্ছেন। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। আর আমাদের শ্রমিকরা কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়া, সরকারি সহায়তা ছাড়াই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্ররা তাদের মারধর করবেন এটা কেমন কথা?

বৈঠকে পরিবহণ নেতারা বলেন, বেসরকারি পরিবহণ মালিকরা কোনো সুবিধা পান না। তাই হাফ ভাড়া চালু করলে ভাড়ার অবশিষ্ট টাকা কোন তহবিল থেকে, কীভাবে পূরণ হবে, তা জানা দরকার। যেসব পরিবহন হাফ ভাড়া কার্যকর করবে, তাদের মালিকদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সেটিও জানতে চান নেতারা। এ ছাড়া প্রতি বছর শিক্ষা বাজেট থেকে টাকা ফেরত যায় উল্লেখ করে এই টাকা ভর্তুকি বাবদ পরিবহণ খাতে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন তারা। তারা বলেন, অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পরিবহণ চালু করতে পারে। শুধু সরকার নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও ছাড় দিতে হবে।

সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোশাররফ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন