শেরপুর আ’লীগ

হুইপ আতিকের কুশপুত্তলিকা দাহ ও ঝাড়ু মিছিল

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিককে দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য আখ্যায়িত করে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ তাকে দলের জেলার সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে শেরপুরে ঝাড়ু মিছিল ও তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। এছাড়াও এ দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবাদ সম্মেলন। আওয়ামী লীগের একাংশ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ব্যানারে রোববার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। জেলা আওয়ামী লীগের খরমপুরস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে খাদ্যগুদাম মোড়ে হুইপ আতিকের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। পরে একটি ঝাড়– মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের তথাকথিত সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনের এমপি ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর জেলা থেকে প্রত্যাহার, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের এমপি ফজলুল হক চান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে বহিষ্কার, নালিতাবাড়ি উপজেলা কমিটির কার্যক্রম বাতিল, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাকে অব্যাহতি দিয়ে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা কমিটির নেতাদের সাক্ষাতের সময় দানের আবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই প্রতিবাদে আতিউর রহমান আতিককে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং হুইপের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামছুন্নাহার কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু, সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াদুদ অদু, জেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের যৌথ স্বাক্ষরিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমান। সংবাদ সম্মেলনে গত ১৯ মে জেলা আওয়ামী লীগের ওই সিদ্ধান্তকে তথাকথিত, অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ বলে উল্লেখ করে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জেলা আওয়ামী লীগের এখতিয়ার বহির্ভূত। এছাড়া সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি স্বাক্ষরিত পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ব্যতীত কোনো কমিটি বা কোনো নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও সেই কমিটি বাতিল বা সেই নেতাকে কোনোক্রমেই বহিষ্কারের সুযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নালিতাবাড়ীর কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশাসহ আওয়ামী লীগ এখন রাজাকার সন্তানদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে এ ঘাঁটি মুক্ত করা, হুইপ আতিককে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হুইপের পদ থেকে অপসারণ, বিভিন্ন উপজেলার ও শহরের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করে সেখানে রাজাকার সন্তানমুক্ত আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে হুইপ আতিকের নানা দুর্নীতি ও অপকর্মের তদন্তের দাবি জানানো হয়।