চবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা
jugantor
চবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা
বিভিন্ন হলে মুখোমুখি নেতাকর্মীরা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও যে কোনো সময় উভয়পক্ষ সংঘাতে জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন হলে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পাশাপাশি শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত চার সদস্যের কমিটি গতকাল কাজ শুরু করেছে। আর অধিপত্য বিস্তার ও কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ সহসা মিটিয়ে ফেলার জন্য চবি কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের পক্ষগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার গভীররাতে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক

ছাত্রলীগের দু’পক্ষ বিজয় ও সিএফসি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবিতে অসন্তোষ থেকে ওই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিজয় ও সিএফসির (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) নেতাকর্মীরা বিভিন্ন হলে অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। প্রায় প্রতিটি হলেই দুপক্ষের নেতাকর্মী থাকায় তাদের মধ্যে ফের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর কবির হোসেন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে ক্যাম্পাস শান্ত বলেই মনে হচ্ছে। বিবদমান দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা হলে অবস্থান করছেন। এরপরও যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে পরিচিত সোহরাওয়ার্দী হল মোড়, শাহজালাল হল ও শাহ আমানতের সামনের এলাকা, জিরো পয়েন্ট এবং শহিদ মিনার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলে তিনি জানান।

সূত্র জানায়, বিবদমান পক্ষের নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে চবি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কমিটি গঠন নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চবি প্রক্টর রবিউল হাসান ভুঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। অন্তত করোনাকালে তারা যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় না জড়াতে পারে, সেজন্য হলে হলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় কোনো পক্ষ, চবি কর্তৃপক্ষ থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মামলাও করেনি।

২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিএফসি নেতা রেজাউল হককে সভাপতি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে চবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তাদের দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে। এরপর গত আড়াই বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি দল সাংগঠনিক সফরে চবিতে এলে তাদের সামনেই চবি ছাত্রলীগের কয়েকটি উপপক্ষ পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। তখন কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। মূলত এরপর থেকেই পদ-পদবি প্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কমিটি নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে জড়ায় দু’পক্ষ।

চবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা

বিভিন্ন হলে মুখোমুখি নেতাকর্মীরা
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও যে কোনো সময় উভয়পক্ষ সংঘাতে জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন হলে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পাশাপাশি শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত চার সদস্যের কমিটি গতকাল কাজ শুরু করেছে। আর অধিপত্য বিস্তার ও কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ সহসা মিটিয়ে ফেলার জন্য চবি কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের পক্ষগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার গভীররাতে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক

ছাত্রলীগের দু’পক্ষ বিজয় ও সিএফসি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবিতে অসন্তোষ থেকে ওই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিজয় ও সিএফসির (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) নেতাকর্মীরা বিভিন্ন হলে অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। প্রায় প্রতিটি হলেই দুপক্ষের নেতাকর্মী থাকায় তাদের মধ্যে ফের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর কবির হোসেন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে ক্যাম্পাস শান্ত বলেই মনে হচ্ছে। বিবদমান দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা হলে অবস্থান করছেন। এরপরও যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে পরিচিত সোহরাওয়ার্দী হল মোড়, শাহজালাল হল ও শাহ আমানতের সামনের এলাকা, জিরো পয়েন্ট এবং শহিদ মিনার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলে তিনি জানান।

সূত্র জানায়, বিবদমান পক্ষের নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে চবি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কমিটি গঠন নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চবি প্রক্টর রবিউল হাসান ভুঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। অন্তত করোনাকালে তারা যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় না জড়াতে পারে, সেজন্য হলে হলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় কোনো পক্ষ, চবি কর্তৃপক্ষ থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মামলাও করেনি।

২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিএফসি নেতা রেজাউল হককে সভাপতি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে চবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তাদের দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে। এরপর গত আড়াই বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি দল সাংগঠনিক সফরে চবিতে এলে তাদের সামনেই চবি ছাত্রলীগের কয়েকটি উপপক্ষ পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। তখন কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। মূলত এরপর থেকেই পদ-পদবি প্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কমিটি নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে জড়ায় দু’পক্ষ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন