চট্টগ্রাম বন্দরে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু

কর্ণফুলীর গভীরতা বাড়বে চার মিটার

সচল হবে ৪শ’ মিটার লাইটারেজ জেটি

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

দীর্ঘ ৫ বছর পর কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নৌবাহিনী। এ ব্যাপারে ৫ মে নৌবাহিনীর সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়েছে। চুক্তির পর পরই পাইপ বসানোর কাজসহ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খননের মূল কাজ শুরু হবে। খননের জন্য এরই মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে দুটি ড্রেজার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী নদীর গভীরতা ৪ মিটার বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পলি জমে অচল হয়ে পড়া বন্দরের ৪শ’ মিটার লাইটারেজ জেটিও সচল হবে। কমতে পারে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যাও।

প্রকল্পটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদিত হয় ৪ জানুয়ারি। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড (কার্যাদেশ) জারি করে নৌবাহিনীর অনুকূলে। ৫ মে চুক্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার আরিফুর রহমান রোববার যুগান্তরকে বলেন, এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে নদীর সদরঘাট এলাকা খনন করা হবে। এখানে বন্দরের ৪০০ মিটার লাইটারেজ জেটি রয়েছে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন এ জেটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। বালু উত্তোলনের মাধ্যমে জেটিটি সচল করা হবে। এখান থেকে ৬ কিলোমিটার লম্বা পাইপের মাধ্যমে বালি নিয়ে হামিদচর এলাকা ভরাট করা হবে। এখানে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি স্থাপনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাইপ বসানোর কাজ প্রায় শেষ। পুরোপুরি শেষ হতে আরও দু’সপ্তাহ লাগতে পারে। মূলত এরপরই শুরু হবে মূল কাজ, নদী খনন। এরই মধ্যে দুটি ড্রেজার আনা হয়েছে। বালি উত্তোলনের পাশাপাশি কর্ণফুলীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর মুখের পলি অপসারণ করা হবে। নদীমুখে যেন পলি জমতে না পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি জানান, নৌবাহিনী সব কাজ নিজেরা করবে না। তারা ই-ইঞ্জিনিয়ারিং ও চায়না হারবার নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

দেশের আমদানি-রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। আর চট্টগ্রাম বন্দর নির্ভরশীল কর্ণফুলী নদীর নাব্যের ওপর। বন্দরের জেটিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব স্থাপনাই কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। গভীরতা কম হওয়ায় বড় জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীতে প্রবেশ করতে পারে না। বহির্নোঙরে অবস্থান করে এসব জাহাজ লাইটার জাহাজের মাধ্যমে (ছোট আকারের জাহাজ) পণ্য খালাস করে। অবশ্য কিছু জাহাজ বহির্নোঙরে পণ্য কমিয়ে হালকা করে জেটিতে নিয়ে আসা হয়।

বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে দীর্ঘদিন কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর ব্যহারকারীরা। ২০১১ সালে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশনের (এমএমডিসি) মাধ্যমে ২২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটি ২০১৩ সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়িয়েও শেষ করেনি এমএমডিসি। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষ না করলেও সিংহভাগ অর্থ তুলে নিয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে প্রায় ৫ বছর কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং হয়নি। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় শাহ আমানত সেতু থেকে কর্ণফুলীর মুখ পর্যন্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থানে পলি জমে চর জেগে ওঠে। এজন্য আবারও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি তোলেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এ অবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের প্রকল্পটির আশা বাদ দিয়ে নতুন নামে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেয়। নাম দেয়া হয় ‘কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য বৃদ্ধি’ প্রকল্প।

বন্দর সূত্র জানায়, ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় নদীর তলদেশ থেকে ৪২.৮ লাখ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) মো. জাফর আলম জানান, শিগগিরই মূল কাজ শুরু হবে। এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকবে না।