২ মামলায় জামিন শুনানি মুলতবি

আরও ২ মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষ হত্যা ও নড়াইলে মানহানির একটি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানি বুধবার (আজ) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। জামিন শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়া (স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী করায় জাতির মানহানি) ও ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ১৭ মে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে জামিন আবেদন দুটি দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আগামী রোববার ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় জামিন আবেদন দুটি আসতে পারে।

মঙ্গলবার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা ও ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে রোববার কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে করা দুটি এবং নড়াইলে মানহানির এক মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর মধ্যে কুমিল্লায় হত্যা ও নড়াইলে মানহানির মামলা দুটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। পূর্বনিধারিত অনুযায়ী মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই আদালত জানতে চান, তিনি (খালেদা জিয়া) কুমিল্লার দায়রা আদালতে জামিন ফাইল করেছেন। সেটা নিষ্পত্তি না করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা যায় কিনা? জবাবে আদালতের একটি নজির তুলে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা অনুসারে জামিনের ক্ষেত্রে সেশন কোর্টের যে ক্ষমতা তা হাইকোর্টেরও আছে। কিন্তু সেখানে জামিন শুনানির জন্য লম্বা তারিখ দেয়া হয়েছে। আমরা শর্ট তারিখের জন্য আবেদন দিয়েছি। ইতোমধ্যে ওই আদালত থেকে জামিন আবেদনটি নট প্রেস (উত্থাপিত হয়নি) করেছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এ জন্য আমরা এখানে (হাইকোর্টে) এসেছি।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মামলার এফআইআর-এ সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে সেখানে তাকে (খালেদা জিয়াকে) ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সেখানে সুনির্দিষ্ট করে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। আইনজীবী বলেন, এ মামলার তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এ ছাড়াও খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

এ সময় আদালত সম্পূরক চার্জশিট সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রথম চার্জশিটে ৭৮ জনকে আসামি করা হয়। আর সম্পূরকে করা হয় ৭৭ জনকে। এখানে একজনকে বাদ দেয়া হয়। ধারাও পরিবর্তন করা হয়। এই মামলায় যারা গ্রেফতার আছেন তাদের প্রায় সবাই জামিনে আছেন। ইতিপূর্বে এই মামলায় অন্য আসামিরা এই বেঞ্চ থেকে জামিনও নিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম উল্লেখযোগ্য।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, তাহলে আমরা জামিনের বিষয়ে রুল দিয়ে দেই। জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, না আমরা রুল চাই না। আমরা জামিন চাই। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়ালে আদালত বলেন, আপনি বলবেন? মাহবুবে আলম বলেন, আমি আগামীকালকে বলব। তখন আদালত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি বুধবার ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

 

mans-world

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
close
close
.