১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ঢাকায় জলাবদ্ধতা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবার সামান্য বৃষ্টিতেই জলাদ্ধতায় ডুবছে ঢাকা। অন্যান্য বছর যেখানে ৫০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাতেও তেমন সমস্যা হতো না। কিন্তু এবার সেখানে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই শহরের বড় অংশ তলিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতেও শহরের অনেক এলাকা পানিতে ডুবেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সোম ও মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িল, মিরপুর, গুলশান, বনানী, উত্তরা এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে পানি জমে কুড়িল প্রগতি সরণি সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। দুই মিনিটের দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লেগেছে এক থেকে দুই ঘণ্টা।

নতুন বাজার থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত সড়কের একাংশে হাঁটু পানি জমে থাকতে দেখা যায়। বসুন্ধরা গেট থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে গভীর ড্রেনলাইন নির্মাণ কাজের কারণে এ সড়ক খুবই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন খোঁড়াখুঁড়ি ও জলাবদ্ধতার কারণে চাপা সড়কটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে গণপরিবহন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

কুড়িল চৌরাস্তার বাসিন্দা মমিনুল হক যুগান্তরকে বলেন, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে অল্প সময় বৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কুড়িল প্রগতি সরণি সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় হাঁটু পানি জমে গেছে। এখন এ অবস্থা হলে ভরা বর্ষায় কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।

ক্যামব্রিয়ান স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবদুন নূর যুগান্তরকে বলেন, স্কুল থেকে ফেরার পথে বসুন্ধরা গেটের জলাবদ্ধতায় জুতা ও প্যান্ট ভিজে গেছে। পানি মাড়িয়ে বাসায় ফিরতে অনেক কষ্ট হয়েছে। সড়কে জলাবদ্ধতা হলে চলাচলে খুবই কষ্ট হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা শহরে খাল, পুকুর এবং নিচু জমি দখল-ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও ড্রেন-খাল ও ঢাকার চার পাশের নদীগুলোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ নেই। এ কারণে বৃষ্টির পানি পাম্পে নদীতে ফেলতে হচ্ছে। অন্যদিকে নদীগুলোও ভরাট করা হচ্ছে। এমন বহুবিধ কারণে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ড্রেন, খাল, নিচু জমি ও নদী ভরাট জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হলেও নগরবাসীর অসচেতনতাও জলাবদ্ধতার জন্য অনেকাংশে দায়ী। নগরবাসী ড্রেন, খাল ও নদীগুলো কঠিন এবং তরল বর্জ্য দিয়ে ভরাট করছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা শহরে ১০টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এ ভিজিলেন্স টিম বৃষ্টির সময় মাঠে নেমে পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করবে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন- ঢাকা ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ কাজে সহায়তা করবে। এ প্রসঙ্গে প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার প্রধানতম কারণ হচ্ছে, প্রাকৃতিক খাল, ডোবা, নালা, পুকুর ও নিচু জমি ধ্বংস করা।

অনেক চেষ্টা করেও এগুলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিদ্যমান খাল, ড্রেন ও চার পাশের নদীগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে খাল, নদী ও ড্রেনগুলো যাতে সচল থাকে সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী কামরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা খাল সংস্কার, খাল খনন, খালে ওয়ার্কওয়ে নির্মাণসহ বহুবিধ উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ কাজে সহযোগিতা করলে আস্তে আস্তে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter